১ ভাদ্র ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

দুই টাকা কেজি চাল!


১৭ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার, ১১:১১  এএম

নতুনসময়.কম


দুই টাকা কেজি চাল!

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় প্রায় ৫০ শতাংশ বাসিন্দাদের জন্য দু’টাকা কেজি দরে চাল ও গম বিক্রির জন্য কার্ড করেছে স্থানীয় পুরসভার প্রশাসন।

দেশটির ‘এ ওয়ান’ শহরগুলোর তালিকায় প্রথম দিকেই অবস্থান করছে কলকাতা। যে শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির চাল ও গম বরাদ্দ হচ্ছে, সেই শহরের ‘এ ওয়ান’ ক্যাটাগরি কতটা যুক্তিযুক্ত? এসব নিয়ে তোলপাড় পুরো কলকাতাবাসী।

পুরসভা প্রশাসন সূত্রে বলা হয়, এখনও কার্ড নথিভুক্তির কাজ চলছে। তাই সংখ্যাটা কোথায় পৌঁছবে, তা নিয়ে অস্বস্তিতে পুর কর্মকর্তাদের একাংশ। এ বিষয়ে কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’

কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন অনুসারে সমাজের বিশেষ শ্রেণির আর্থিক অসুবিধার কথা ভেবেই ওই প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। এতে বলা হয়েছে, বিশেষ অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত ও অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত বাসিন্দারা তিন টাকা কেজি দরে চাল এবং দু’টাকা কেজি দরে গম পাবেন। এর জন্য প্রতিটি রাজ্যে ওই খাতে অর্থ বরাদ্দও করছে কেন্দ্রীয় সরকার।

দেশটির খাদ্যমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্যই ওই প্রকল্প। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত তিন টাকার পরিবর্তে চালের দর দু’টাকা করেছে। অর্থাৎ, প্রতি কেজি চালে বাড়তি এক টাকা করে আলাদা ভর্তুকি দেয় রাজ্য সরকার। তা ছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার ওই প্রকল্পের বাইরেও রাজ্য সরকার রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ এবং ২ নামে পৃথক দু’টি প্রকল্প চালু করেছে। যার মধ্যে রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা ১ তালিকাভুক্ত মানুষ দু’টাকা কেজি দরে চাল ও গম পাবেন। আর যোজনা ২ তালিকাভুক্ত মানুষকে ১৩ টাকা কেজি দরে চাল এবং ৯ টাকা কেজি দরে গম দেওয়া হবে।

দু’টাকা কেজি দরে চাল এবং গম পাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের তিনটি এবং রাজ্যের একটি, মোট চারটি প্রকল্পে কলকাতা শহরে কার্ড করা হয়েছে ২১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৭৫ জনের। গত আদমশুমারি অনুসারে, কলকাতায় লোক সংখ্যা ৪৫ লক্ষের কাছাকাছি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, শহরে ওই প্রকল্পের কার্ড নেওয়ার এত লোক বাস্তবে রয়েছে কি? কী ভাবেই বা এত কার্ড করা হল?

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুসারে, যে সব পরিবার আর্থ সামাজিক ভাবে পিছিয়ে রয়েছে, তারাই ওই কার্ড পেতে পারে। তবে, তার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। সেগুলি পূরণ হলে তবেই ওই কার্ড পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে পুরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, সেই মাপকাঠি ধরলে ২১ লক্ষের তালিকা যে নিয়ম মেনে হয়নি, তা এক প্রকার পরিষ্কার।

এনএস/এমএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: