১ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ১৬ জুলাই ২০১৮, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

গুজবে কান দেবেন না


২০ এপ্রিল ২০১৮ শুক্রবার, ১২:৪২  পিএম

নতুনসময়.কম


গুজবে কান দেবেন না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে গুজব, উস্কানি ও মিথ্যা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান। কোনো গুজবে কান না দিতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২০ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে কর্তৃপক্ষ বের করে দেয় বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়। রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর নিয়ে চলে তোলপাড়। এ ব্যাপারে প্রকৃত খবর জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন উপাচার্য।

ঢাবি উপাচার্য জানান, ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তিন ছাত্রীকে অভিভাবক ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। সাধারণ কোনো ছাত্রীকে হয়রানি করা হয়নি। হল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকসুলভ আচরণ করেছে বলেও মনে করেন ভিসি।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘আন্দোলনকারী আর উস্কানিদাতা এক নয়। আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঐতিহ্যপূর্ণ। এটা খুব স্বাভাবিক। যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করতে পারে যে কেউ। তবে উস্কানি দেয়া আর আন্দোলন এক নয়। আমরা আন্দোলনকে সমর্থন করি, উস্কানিকে নয়।’

ড. আখতারুজ্জামান জানান, কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়রানি করেনি। হাজার হাজার ছাত্র এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে মাত্র ২৫/২৬ জনকে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের কয়েকজন ছাত্রীকে হল থেকে কর্তৃপক্ষ বের করে দেয় অভিযোগ উঠে। এতে সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

হলের প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা অনেক ছাত্রীকে ডেকেছি। তাদের মোবাইল চেক করা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে গুজব ছড়াচ্ছে। মুচলেকা দিয়ে তাদের স্থানীয় অভিভাবকের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্থার ঘটনায় হলের ২৬ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। ওই সভাতেই এশার সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

সুফিয়া কামাল হলের ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের যে কমিটি হয়েছিল, সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৬ শিক্ষার্থীকে শোকজের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গত ১০ এপ্রিল রাতে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগেরই নেত্রী মোর্শেদা খানমের পায়ের রগ কেটে দেয়ার গুজব ছড়ায় এশার বিরুদ্ধে। এরপর প্রথমে ছাত্রলীগ এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এশাকে বহিষ্কার করা হয়। ওই গুজবের পর বিভিন্ন হল থেকে কয়েক হাজার ছাত্র দিয়ে এশার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। পরে এই নারী নেত্রীকে হল থেকে অপদস্থ করে বের করে দেয়া হয়। আর এ সময় এলাকে আপত্তিকর সাজা দেয়া হয়।

কিন্তু পরে জানা যায়, যার রগ কেটে দেয়ার গুজবের ওপর ভিত্তি করে এত সব ঘটনা ঘটেছে, সেই মোর্শেদা এশার কক্ষের জানলায় লাথি মেরে তার পা কেটে ফেলেছেন। পরে ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া পর গত ১৩ এপ্রিল এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। আগের দিনই অবশ্য তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে হলে তোলা হয়।

এরপর ১৬ এপ্রিল মোর্শেদাসহ সংগঠনের ২৪ নেত্রী ও কর্মীকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। এদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন, সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকা হক স্বর্ণা ও মীরা। দুদিন পর গত বুধবার এশার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।

এসএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: