১ ভাদ্র ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

সোনার গায়ে কয়লার ময়লা


২২ জুলাই ২০১৮ রবিবার, ০৪:৩৪  পিএম

কবীর চৌধুরী তন্ময়

নতুনসময়.কম


সোনার গায়ে কয়লার ময়লা

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সোনা গায়েব কিংবা অন্য ধাতুতে রূপান্তর হওয়ার ঘটনার পর এখন চারপাশে শোনা যাচ্ছে- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনির কোল ইয়ার্ড থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা ‘উধাও’ হওয়ার ঘটনায় খনির শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনার ঘটনায় একই শব্দের বাংলা-ইংরেজির শব্দগত অর্থের ভুল থাকার কারণে এমনটি ঘটেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভুল হবে কেন? অযোগ্যদের যোগ্যতার ভার চাপিয়ে দেওয়ার মানে কী..?

আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে, অত্যন্ত গোপন তদন্ত রিপোর্ট কী করে মিডিয়ার হাতে গিয়েছে? কারা মিডিয়ার হাতে দিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছে?

এখন কয়লার খনির কয়লা উধাও!!
এটিকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কোনো নিয়ম নীতি ছাড়া একের পর এক ব্যাংকের টাকা চোর-ডাকাতদের দিয়ে কতিপয় মানুষ নিজেদের পকেট ভারি করবে আর আপনারা বসে বসে দেখবেন (!) এটা তো হতে পারে না।

আগেরগুলো আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছে বলেই এখন কয়লা, সামনে আবার কোনটা বের হয়--সময় বলে দিবে।
আর কয়লার খনিতে কোনো রকমের নিয়মের ব্যত্যয় না ঘটে থাকলে এক অফিস আদেশে খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করবে কেন?

এবার দোষের কথায় আসুন-
চৌদ্দ দলের সরকার হলেও মুল নেতৃত্বে আছে আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা যদি ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের লোক দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিভিন্ন পদে পদায়ন করে, তাহলে সেখানে রাজনৈতিকভাবে অরাজনৈতিক বা অপশক্তি মোকাবেলা কঠিন হয়ে পড়বে। যার উদাহরণ, জামাত-শিবিরের ১৯৯৭ সালের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী আন্দোলন আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে করলেও এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

আবার কিছু এমপি-মন্ত্রী প্রচুর টাকার বিনিময়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে স্বাধীনতাবিরোধীদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার কারণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে সমস্যা সৃষ্টি হবে না-এটা বিশ্বাস করে কীভাবে?
অন্যদিকে, কতিপয় বিতর্কিত ব্যক্তিদের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও তাঁকে কেন এক বা দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে রাখতে হবে? দেশে কি যোগ্য লোকের অভাব হয়েছে..?

এখন আমি-আপনি সাংবাদিক বা সংবাদ পত্রের দোষারোপ করার আগে একটু ভাবুন তো, সারা বছর রাজনীতি করলেন আপনি। বিরোধী রাজনৈতিক হামলা-মামলার শিকার হলেন আপনি। অপমান-অপদস্থ হলেন আপনি। বিএনপি-জামাতের মিডিয়ায় আপনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হলো। আপনি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ক্ষনিকের জন্য হলও বিব্রত হলেন।

অথচ, রাজনৈতিকভাবে আপনার কোনো মূল্যায়ন নেই! দল আপনাকে মুল্যায়ন করছে না। আপনার দল ক্ষমতায় থাকার পরেও সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা আপনি ভোগ করতে পারছেন না। দল বা দলের সিনিয়র নেতারা তাঁদের নিয়ে ব্যস্থ। আপনাকে দেখেও না দেখার ভান করছে।

আর অন্যদিকে ছাত্রদল করা এসডি রুবেল শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনার মঞ্চে গান গায়। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়।
এবার আপনিই বলুন, এখানে খালেদা জিয়া বা গোলাম আযম এসে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য করেছে? নিশ্চয়ই না। এই এসডি রুবেলকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, যাঁরা কমিটি অনুমোদন করেন-তাঁরাই দিয়েছে।

এই রকম হাজারো উদাহরণ আমার কাছে গচ্ছিত আছে!

তাহলে দোষটা কাকে দিবেন? সাংবাদিক, সংবাদপত্র নাকি যাঁরা এই ব্যবস্থাপনার জন্য দায়ি, তাঁদের...?

একটু চিন্তা করলে আপনিও খুঁজে পাবেন রাজনীতি কাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে! কালো টাকা আর রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়া মানুষগুলোকে রাজনীতিতে টেনে নিয়ে আনা হচ্ছে। রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য এই রাজনীতিবদরাই দায়ি।

যোগ্য লোকের জায়গায় অযোগ্যদের বসিয়ে আপনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা আর দিনাজপুরের কয়লা খনির কয়লায় ময়লা লাগবে না--এটা আশা করাও অযোগ্য চিন্তা-ধারার প্রতিফলন।

২৪ ঘন্টার মধ্যে শেখ হাসিনা মাত্র ৫ ঘন্টা শুধু ঘুমের জন্য ব্যয় করেন। বেঁচে থাকার জন্য ঘুমের বিকল্প অন্য কিছু থাকলে তিঁনি তাই করতেন।

একদিকে শেখ হাসিনা একাই দেশটা অভিশাপমুক্ত করতে, পাকিস্তানী ভাবধারায় পরিচালিত রাষ্ট্রকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে, অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে, ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্রমুক্ত উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে পদ্ম সেতুসহ আমার-আপনার নিরাপদ ও সুন্দর জীবন-যাপনের দায়িত্ব নিয়ে সংগ্রাম করছে।

আর অন্যদিকে কতিপয় নেতা, এমপি-মন্ত্রী নিজেদের পকেট ও গ্রুপ ভারী করতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের জেলা-উপজেলাসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে পদ-পদবী দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করার খেলায় মেতে আছে।

এটা সত্যিই দুঃখজনক। রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি রাখা উচিত। ইতিহাস-ঐতিহ্যের আওয়ামী লীগের সুনাম ও আদর্শ রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সর্বপ্রথম আন্তরিক হতে হবে। শেখ হাসিনা অর্জন, আদর্শ এবং রাজনৈতিক ও সরকার পরিচালনার নেতৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক রুপদানে কাজ করতে হবে।

নেতার হাতে নেতৃত্ব আর যোগ্য লোকের হাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের দায়িত্ব অর্পন করতে না পারলে বিতর্ক যেমন পিছু ছাড়বে না তেমনি রাষ্ট্রযন্ত্র ও দেশ আলোর মুখ দেখবে না।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: