১ ভাদ্র ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া


১৮ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১১:৫৫  এএম

নতুনসময়.কম


আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজির দিতে বৃহস্পতিবারও আদালতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু এদিনসহ পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত জামিন পান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

তবে বৃহস্পতিবারও ওই মামলার যুক্তিতর্ক চলবে।

বুধবার পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক চলবে। ম্যাডাম জামিনে থাকবেন পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত। কাল (বৃহস্পতিবার) মামলার পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে।

পরে আদালত চত্বরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালত ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সময় আবেদন করা হয়েছিল। ধর্মীয় কারণে এর বিরোধিতা করিনি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু উনি যদি আদালতে আসেন, আসতে পারেন। হাজিরা দিবেন, দিতে পারেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, বৃহস্পতিবারও যথারীতি রাজধানীর বকশী বাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া।

তিনি জানান, আদালতের উদ্দেশে সকাল ১০টায় চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দেবেন।

মঙ্গলবার বিএনপি প্রধানের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এদিন তার পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

বুধবার ওই মামলার অপর আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনের পক্ষে তার আইনজীবী আহসান উল্লাহ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। বৃহস্পতিবারও তার যুক্তিতর্ক চলবে।

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) ওই দুই মামলার পরবর্তী তারিখ ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি ধার্য করা হয়। পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


এনএস/পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: