৩ পৌষ ১৪২৪, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

৭ ডিসেম্বর মাগুরা হানাদার মুক্ত দিবস


০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১১:৩৭  এএম

নতুনসময়.কম


৭ ডিসেম্বর মাগুরা হানাদার মুক্ত দিবস

বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক ৭ ডিসেম্বর মাগুরা শহর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মাগুরা শহর পাক হানাদার মুক্ত হয়। এ সময় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে তৎকালীন মাগুরা মহকুমায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

এ সময় মাগুরা আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বাধীন শ্রীপুর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মাশরুরুল হক সিদ্দিকী নেতৃত্বাধীন কমল বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী এবং মুজিব বাহিনী বিশেষ সাহসী ভূমিকা নিয়ে পাক সেনা ও স্থানীয় রাজাকার আল বদর বাহিনীর সঙ্গে প্রাণপণ যুদ্ধ করে। এ সময় কমল বাহিনীর প্রধান মাশরুরুল হক সিদ্দিকী কোমল ভাটিয়াপাড়ায় এক সম্মুখ যুদ্ধে গুলিতে তার একটি চোখ হারান।

শ্রীপুর বাহিনীর রণাঙ্গনে একের পর এক বীরোচিত অভিযান পাক হানাদার বাহিনীকে তটস্থ করে তোলে। শ্রীপুরের শ্রীকোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এ বাহিনী মূলত মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর এলাকাজুড়ে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার আলবদরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে।

মাগুরা মুক্ত দিবসের পূর্বদিন ৬ ডিসেম্বর যশোর মুক্ত হওয়ার সংবাদ পেয়ে ফরিদপুর জেলার নয় ব্যক্তি ভারত থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে শালিখা উপজেলার জুনারী গ্রামে রাজাকার বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।

রাজাকাররা তাদের ধরে এনে হাজরাহাটি গ্রামের অধির অধিকারীর বাড়ির দক্ষিণে চিত্রা নদীর পাড়ে বর্বরচিত নির্যাতন শেষে তাদের গুলি করে হত্যা করে। হত্যার আগে এদের মধ্য থেকে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরদিন সকালে গ্রামবাসীরা ৮ ব্যক্তির লাশ নদীর পাড়ে গর্ত খুঁড়ে গণকবর দেয়। এখানে যারা শায়িত আছেন তারা হলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার জয়পাশা গ্রামের যদুনাথ গুহ, পাপন পাল, হরিপদ দাস, নিত্যানন্দ ভদ্র ও পরমেশ্বরদী গ্রামের মনোরঞ্জন দত্ত। নগর কান্দা থানার সাধুহাটি গ্রামের নাড়ু গোপাল রায়, ফুলবাড়িয়া গ্রামের সুশেনকর ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।

এ গেরিলা বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণের মুখে পাক বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এ দুই বাহিনী ৬ ডিসেম্বর মাগুরাকে হানাদার মুক্ত করতে নিজনান্দুয়ালী গ্রামে ও বিভিন্ন পাকিস্তানি ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। একই সঙ্গে মিত্রবাহিনীর আগ্রাসনের ভয়ে পাকিস্তানি সেনারা রাতারাতি মাগুরা শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বর মাগুরা শত্রুমুক্ত হয়।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: