৮ বৈশাখ ১৪২৫, শনিবার ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

৬ বছরে আদায় ৫৬৭ কোটি


১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার, ১০:৫৪  পিএম

নতুনসময়.কম


৬ বছরে আদায় ৫৬৭ কোটি

প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের শর্তে সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০১৩ সালের আগস্টে জামিন পান হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম। সে হিসেবে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত জামিনের পর তিনি সময় পেয়েছেন ৫৫ মাস (প্রায় ছয় বছর)। ১০০ কোটি টাকা প্রতি মাসে পরিশোধ করলেও হিসাব মতে আদায় হতো পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৫৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

হলমার্কের অর্থ উদ্ধারের উগ্রগতির নিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সোনালী ব্যাংক। প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- হলমার্ক গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিকে বিভিন্ন সময় ঋণ দেয়া হয় তিন হাজার ৯৮৮ কেটি টাকা। এর মধ্যে কিছু অর্থ ফেরত আসলেও তিন হাজার ৪৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকা আটকে যায়। আটকে যাওয়া এ অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে সোনালী ব্যাংক। এসব ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালত ও সাধারণ আদালতে মামলা হয়েছে। এসব পদ্ধতি অবলম্বন করে এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৫৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। তবে আর্থিক খাত বিশেজ্ঞরা বলছেন, এসব টাকা হলমার্ক গ্রুপের কোম্পানি থেকে আদায় করা হয়েছে। এখন বাকি টাকা গ্রুপের সম্পদ বিক্রি করে আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে হলমার্কের ঋণ জালিয়াতির খবর প্রথম প্রকাশিত হয়। আলোচিত এ কেলেঙ্কারির হোতা হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ হলেও এর সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

মামলায় হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের আগস্টে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জেসমিন ইসলামকে জামিন দেন আদালত।

এরপর তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর ১১ মামলায় চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, তার ভায়রা তুষার আহমেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়।

পরে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ও ২৭ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলাগুলো বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এ বদলি করা হয়। আসামিদের মধ্যে কারাগারে আছেন হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আটজন। প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জামিনে ছিলেন গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম। যদিও পরবর্তীতে অন্য মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য ১৬ জন পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সম্ভবত সে টাকাগুলো এখন আর হলমার্ক গ্রুপের হাতে নেই। টাকাগুলো বের হয়ে গেছে। সেজন্যই তারা পরিশোধ করতে পারেনি। তবে হলমর্ক গ্রুপের বেশ সম্পদ রয়েছে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ উদ্ধার করা যেতে পারে।

এসএ

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: