৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

৫৭ ধারা বাতিল চাই


১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার, ০৩:১৭  পিএম

ইমতিয়াজ মেহেদী হাসান

নতুনসময়.কম


৫৭ ধারা বাতিল চাই

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি অ্যাক্ট) ৫৭ ধারা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক চলছেই। এই ধারা ব্যবহার করে হয়রানি করা হচ্ছে সাংবাদিকসহ সাধারণ জনগণকে। বিতর্কিত এ ধারাকে বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানির একটি মোক্ষম অস্ত্র বলেও মনে করছেন অভিজ্ঞ জনেরা।

আইনের এ ধারাটি নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী নতুন সময়কে বলেন, আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা যখন প্রণয়ন করা হয় তখন ডিআরইউসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন আশঙ্কা করেছিল যে, এই ধারার অপপ্রয়োগ হবে। পরবর্তীতে আমাদের সেই আশঙ্কা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে।

৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, শুরু থেকেই ধারাটি বাতিলের জন্য আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। এখনো দাবি করছি সংসদের আগামী অধিবেশনেই এটি বাতিল করা হোক।

ডিআরইউ মুখপাত্র মুরসালিন নোমানী বলেন, ৫৭ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ সংবিধানে পরিষ্কারভাবে মুক্তভাবে মত প্রকাশ ও বাক স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া এই ধারার মাধ্যমে যে মামলাগুলো হয়েছে, একটিও যৌক্তিক কারণে হয়নি। অর্থাৎ বিষয়টি এই যে, অপপ্রয়োগের জন্যই ৫৭ ধারা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে ৫৭ ধারা বাধা বলেও মত প্রকাশ করেন এই সাংবাদিক নেতা।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে প্রচলিত আইন আছে। যদি কোনো সাংবাদিক অপরাধ করে থাকেন, তবে তার বিচার প্রচলিত আইনেই করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, একথা এখন অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ধারা পেশাদারিত্বের জন্য হুমকিস্বরুপ। এর কারণে সাংবাদিকরা নির্দ্বিধায় কিছু লিখতে পারেন না। শংকায় থাকেন। এমনকি এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে যদি কেউ কোনো লেখায় লাইক কিংবা কমেন্টস করেন, তা থেকেও মামলা হচ্ছে। পরে তা গড়াচ্ছে গ্রেপ্তার-নির্যাতনে। বিষয়টি দুঃখজনক। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা সংশোধন নয়, বাতিল চান এই সাংবাদিক নেতা।

তিনি বলেন, সংশোধন কিংবা সহনীয় পর্যায়ে আনা নয়, আমরা সাংবাদিক সমাজ চাই ধারাটি বাতিল হোক। এর কোনো প্রয়োজনই নেই।

মুরসালিন নোমানী বলেন, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকেই ইতোমধ্যে বলেছেন, ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে নতুন একটি আইন আসছে। কিন্তু বিষয়টি যেন এমন না হয় যে, ৫৭ ধারা নাম বদলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে পরিণত হয়। সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে।

একইসঙ্গে সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়নের আগে সাংবাদিকদের সব সংগঠনের নেতাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে এই আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনা করে মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করতে হবে।

৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বিষয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র ৫৭ ধারা নয়, তথ্যপ্রযুক্তি আইন মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগে সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার-নির্যাতন-হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে ধারাটি বাতিল করতে হবে।

শুরু থেকেই সাংবাদিকরা এই ধারার বিরোধিতা করছেন উল্লেখ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, শুরু থেকেই সাংবাদিকরা বিতর্কিত ৫৭ ধারার বিপক্ষে। কারণ, এই ধারা থাকলে তারা নির্দ্বিধায় লিখতে পারেন না। শঙ্কায় থাকেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সবগুলো ধারা অপসারণ করা উচিত বলেও মনে করেন সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, পরমতসহিষ্ণু সমাজ নির্মাণে ৫৭ ধারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি হতে পারে না।

৫৭ ধারা বাতিলে আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে রাজু আহমেদ বলেন, আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ধারাটি বাতিল করবেন। আশা করি তিনি তার কথা রাখবেন।

সাংবাদিক সমাজের অভিভাবক হিসেবে তথ্যমন্ত্রী ৫৭ ধারার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে থাকবেনও বলে এ সাংবাদিক নেতা আশা প্রকাশ করেন।

অারও পড়ুন-

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: