৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

৫২ বছর পর চললো ট্রেন


১০ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার, ১১:২৩  এএম

নতুনসময়.কম


৫২ বছর পর চললো ট্রেন

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ৫২ বছর পর সরাসরি কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা রুটে রেল চলাচল শুরু হলো। বেলা সাড়ে ১১টার সময় কলকাতা থেকে ভারতের ২০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ বেনাপোল রেলস্টেশনে দুপুর দেড়টার সময় পৌঁছায়। বেনাপোল রেলস্টেশনে ইমিগ্রেশন কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ২টার সময় খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বেনাপোল রেলস্টেশনে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ প্রবেশ করলে ভারতীয় অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার, বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মো. শওকাত হোসেন, অতিরিক্ত কমিশনার জাকির হোসেন, যুগ্ম কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুল রহমান, যশোর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সার্কেল এ এসপি মেহেদী ইমরান সিদ্দিকি, কাস্টমস সুপার তাহমিদ হোসেন, গোলাম মর্তুজা, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান, ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফ, বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান প্রমুখ।

ভারতীয় ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিনিয়ার সেকশন ইঞ্জিনিয়ার দেবশংকর বসু ও স্বপন কুমার দে। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশের জন্য ট্রাফিক পরিদর্শক অশোক কুমার বিশ্বাস, গার্ড কলকাতা সুবির সরকার, গার্ড রানাঘাট জগন্নাথ দত্ত, চালক প্রদীপ কুমার, চালক উত্তম কুমার, চালক সত্যজিৎ চক্রবর্তী, চালক রাজেশ চন্দ্র বিশ্বাস, ইন্সপেক্টর প্রণব কুমার দাস, এসিএফ গৌতম হাজরা, এসিএফ অনিন্দ রায় প্রমুখ।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশের রেলওয়ে সিসিএম মিহির কান্তী গুহর নেতৃত্বে ৮ সদস্যর দল ভারতের প্রতিনিধি দলসহ ট্রেনটি নিয়ে আসার জন্য ভারতে যায়।

বেনাপোল রেলস্টেশনে বাংলাদেশ রেলমন্ত্রীর এপিএস জসীম উদ্দিন বলেন, ৫২ বছর পর কলকাতা-বেনাপোল-খুলনা সরাসরি রেল যোগাযোগে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্ব এবং সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের সহজ হওয়া প্রয়োজন। খুলনা থেকে কলকাতা পৌঁছাতে মাত্র ৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। এতে করে ব্যবসা বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উভয় দেশের সাফল্য আসবে।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সিনিয়ার সেকশন ইঞ্জিনিয়ার দেবশংকর বসু বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও বাংলাদেশে ট্রেন নিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে। বাংলাদেশ ভারতের পার্শ্ববর্তী বন্ধু প্রতিম দেশ। রেল চলাচলের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কসহ সব দিক এগিয়ে যাবে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রাণ কেন্দ্র কলকাতা শহরে মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবে একই ভাবে ভারতের যাত্রীও খুলনায় পৌঁছে যাবে।

তিনি আরো বলেন, উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষামূলক রেলের শুভ উদ্বোধন করার জন্য বিলম্বে কলকাতা থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। আজই খুলনা থেকে ফিরবে ট্রেনটি। এরপর আগামী ১৬ নভেম্বর ট্রেনটি সকাল ৭টায় কলকাতা থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টায় খুলনায় পৌঁছাবে আর খুলনা থেকে দুপুর ২টায় ছেড়ে কলকাতায় যাবে সন্ধ্যা ৬টায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফ বলেন, দুই দেশের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। কিন্তু সপ্তাহে মাত্র এক দিনের পরিবর্তে তিন দিন ট্রেন চলাচল করলে মানুষের আরো সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেত।

বৃহস্পাতবার বেলা সাড়ে ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনা-কলকাতা রেলপথে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ এর উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভবন থেকে নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই দুটি ট্রেনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। বিশেষ করে এর ফলে দুই দেশের যাত্রীদের খুবই সুবিধা হবে। আমি বন্ধন ও ননস্টপ মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের সফলতা কামনা করি।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: