৬ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে ধর্ষণকারী গ্রেপ্তার


১১ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ০৩:৪৫  পিএম

নতুনসময়.কম


হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে ধর্ষণকারী গ্রেপ্তার

ভারতের মধ্য প্রদেশে হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হওয়া ক্ষুদেবার্তার সূত্র ধরে এক ধর্ষণকারীকে খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।

ধর্ষণের শিকার হয়েছে সাত বছর বয়সী এক মেয়ে। গত ২৬ জুন বিদ্যালয় থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি বলে শিশুটির বাবা-মা পুলিশকে জানায়। খবর এনডিটিভির।

নিখোঁজের পরদিন অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে কাছের একটি বাস স্টেশনের নিরিবিলি এক কোণে পড়ে থাকতে দেখেন এক সবজি বিক্রেতা। শিশুটিকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, সে ধর্ষণের শিকার এবং তার শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

এ খবর জানাজানি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তায় নেমে আসে শত শত প্রতিবাদী মানুষ। অপরাধীর বিচার চেয়ে তারা সকলে স্লোগান দিতে থাকে। ফলে বেশ একটা চাপ তৈরি হয় পুলিশের উপর। কিন্তু এই ঘটনায় পুলিশ কোনো সূত্র পাচ্ছিলো না। কারণ ঘটনার দিন মেয়েটির বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা নষ্ট ছিল। তাই ক্লাস শেষে বিদ্যালয় থেকে মেয়েটি কার সাথে গিয়েছিল সেটি খতিয়ে দেখার কোনো উপায় ছিল না।

কিন্তু মানুষের মিছিল, স্লোগান ও সামাজিক চাপের কারণে পুলিশ অনেকটা বেকায়দায় পড়েই বিদ্যালয়ের আশ-পাশের দোকানগুলোর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শুরু করে। এভাবে মোট চারশ ঘণ্টা ফুটেজ দেখতে গিয়ে তিনটি ভিডিওতে আটকে যায় পুলিশের চোখ। একটি ভিডিওতে তারা দেখতে পায় যে মেয়েটি এক লোকের সাথে যাচ্ছে। কারণ সে মেয়েটিকে মিষ্টি জাতীয় কিছু খেতে সেধেছে।

তবে বিপত্তি ছিল এই যে, সেই লোকটির চেহারাটা ওই ভিডিওতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো না। কিন্তু পুলিশ হাল ছাড়েনি। তারা দেখলো যে সেই ব্যক্তির জুতোর ব্র্যান্ডটি স্পষ্ট করে পড়া যাচ্ছে। তাই, জুতোর সেই ব্র্যান্ড ধরেই অপরাধীকে ধরার মিশনে নামে পুলিশ।

ধর্ষককে পাকড়াও করার অংশ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপে মেয়েটির ছবি ছড়িয়ে দিয়ে বলা হয় যে, সে নিহত হয়েছে। এই বার্তাটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে মধ্য প্রদেশের ছোটো সেই শহরের বেশিরভাগ মানুষ।

এভাবেই এই কমিউনিটির লোকজন ও পুলিশ একসাথে পরস্পরকে সহায়তার ভিত্তিতে কাজ করতে শুরু করে। তারপর অপরাধীর জুতার ব্র্যান্ডের উপরে ভিত্তি করে চালানো সেই অনুসন্ধান থেকেই পুলিশ একটা স্পষ্ট ধারণা পায় এবং মাত্র সাতজন সন্দেহভাজনকে তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসে।

তবে এরই মধ্যে ভারতে কিছু গণপিটুনির ঘটনাও ঘটে যায়। কারণ একদিকে হোয়াটসঅ্যাপের সেই ভাইরাল মেসেজ, অন্যদিকে অপরিচিত লোকজনদের প্রতি মানুষের অনাস্থা ও সন্দেহ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সাতজন সন্দেহভাজনের মাঝখান থেকে আসল অপরাধীকে খুঁজে বের করে পুলিশ। আর এভাবেই হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হওয়া মেসেজের সূত্র ধরেই ধরা পড়ে ধর্ষণকারী।

এমএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: