৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন


১৩ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার, ০৪:০২  এএম

নতুনসময়.কম


হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন

 

আজ ১৩ নভেম্বর। বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় লেখক, বাংলা সাহিত্যের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯তম জন্মবার্ষিকী।

১৯৪৮ সালের এদিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বেঁচে থাকতে দিনটি ঘিরে দেশজুড়ে হুমায়ূনভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হতো উন্মাদনা।

বরাবরের মতো এবারও নানা আয়োজনে পালিত হবে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। যদিও সশরীরে তিনি আর নেই। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই চলে গেছেন অন্যভুবনে।

উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এরপর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই হাত দিয়েছেন, ফলিয়েছেন সোনা। পেয়েছেন অবিশ্বাস্য সাফল্য। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনক।

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাস ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে মিথ। বলা হয়ে থাকে, তার লেখা পছন্দ করেন না এমন মানুষও গোপনে পড়তেন তার নতুন লেখাটি। দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্ট, যারা অন্তত হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাস পড়েননি কিংবা তার নাটক দেখেননি। জনপ্রিয়তার নিক্তিতে তিনি অপ্রতিরোধ্য।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আকাশচুম্বী জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। নিউইয়র্ক থেকে ২৩ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে লাখো মানুষের অশ্রু-পুষ্পতে সিক্ত হন তিনি। এর পরের দিন তাকে সমাহিত করা হয় তারই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

বাংলা সাহিত্যের নতুন যুগের স্রষ্টা ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যকে সার্বজনীন করে তুলতে এই কিংবদন্তি কথাশিল্পীর অবদান ইতিহাস হয়ে থাকবে। তার সৃষ্ট চরিত্র ‘হিমু’জনপ্রিয়তায় বিশ্ব সাহিত্যেও বিস্ময়। এর বাইরে ‘মিসির আলী’ ‘রুপা’ ‘শুভ্র’ ‘মাজেদা খালা’ ‘বাকের ভাই’ ‘মোনা’ ‘ছোট মামা’ ইত্যাদি চরিত্রগুলোও দারুণ জনপ্রিয় বাংলা সাহিত্যে। তবে এই চরিত্রগুলো নাটক ও চলচ্চিত্রের হাত ধরে চিরদিনের মতো থেকে গেল আশ্চর্য রকম জীবন্ত।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, মন্দ্রসপ্তক, দূরে কোথায়, সৌরভ, ফেরা, কৃষষ্ণপক্ষ, সাজঘর, বাসর, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাবো যাবো, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল প্রভৃতি।

হুমায়ূন আহমেদের তৈরি করা বিচিত্র সব চরিত্র মানুষকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে, স্বপ্নে ভাসিয়েছে। এক একটি চরিত্র পাঠক-দর্শকদের কাছে একেকটি নতুন আবিষ্কার। সাহিত্যের চরিত্রগুলোই বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে তার নাটক-সিনেমায়। হুমায়ূনের গড়া এসব চরিত্রে কখনও কখনও তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন নিজেরই প্রতিরূপ। হুমায়ূন আহমেদের মধ্যে আমরা তাই খুঁজে পাই কখনও হিমু, কখনও বা মিসির আলী, আবার কখনও শুভ্রকে। তার তৈরি করা চরিত্রের জনপ্রিয়তা ব্যক্তি হুমায়ূনকেও কখনও কখনও যেন ছাড়িয়ে গেছে।

তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ও পায় আকাশচুম্বী পাঠকপ্রিয়তা। রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক। পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্রও। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র `ঘেটুপুত্র কমলা`র জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

হুমায়ূন আহমেদ তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, লেখকশিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার অন্যতম। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠন হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এবারও হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিনকে ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী `হুমায়ূন মেলা`র আয়োজন করেছে। নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে আয়োজন করেছে আলোচনা সভা এবং হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম মঞ্চনাটক নৃপতির প্রদর্শনী।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: