১২ ফাল্গুন ১৪২৩, শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo
Rifats Dental Implant Laser Cosmetic Care
Patbhavon

লেনদেন১৫০কোটি টাকা

হাসিনাকে উৎখাতে তারেকের নির্দেশে গুলশানে হামলা!


০৯ জুলাই ২০১৬ শনিবার, ০৩:১০  পিএম

নতুনসময়.কম


হাসিনাকে উৎখাতে তারেকের নির্দেশে গুলশানে হামলা!

শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত এবং প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ছক হিসাবে জঙ্গিগোষ্ঠীকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানতে পেরেছে।

গত ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হামলার পিছনে ওই টাকাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের দাবি, ১ জুলাই শুক্রবার রাতে গুলশানে রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চলার সময়ে করাচি এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে কয়েক হাজার ফোন কল গেছে। পাশাপাশি দুবাই, সিরিয়া থেকেও ওই সময় ঢাকায় অজস্র ফোন এসেছে এবং গেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা মনে করছেন, জিম্মি অবস্থায় করাচি, আরব এবং ঢাকার মধ্যে অজস্র ফোনালাপ থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে কোন কোন দেশ এ ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে।

এ ছাড়া বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্যও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এসেছে। ওই পাঁচ জঙ্গির কাছেও আরব থেকে সরাসরি ফোন আসছিল। গুলশান-বনানী এলাকার ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল সেনাবাহিনী। তার পরেও দেখা যায় ওই বেকারিতে কয়েকটি স্যাটেলাইট ফোন সক্রিয় রয়েছে। জঙ্গিরা স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে আরবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর অফিসারদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বলেছিল, তা হলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশে শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার লন্ডনবাসী ছেলে তারেক জিয়ার ফোনও ১ জুলাই সারারাত ব্যস্ত ছিল। তার ফোন থেকেও ঢাকা, করাচি ও আরবে কথা বলার প্রমাণ মিলেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, তার এক বিশ্বস্ত চাকরের নামে নথিভুক্ত ফোনে ওই রাতে কথা বলছিলেন তারেক জিয়া।

আনন্দবাজরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ যে তথ্য পাঠিয়েছে তা বিশ্লেষণ করছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীও গুলশান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তান যোগের ব্যাপারে একমত। জঙ্গিরা শেখ হাসিনার উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা করছে বলেও ভারতীয় গোয়েন্দারা জেনেছেন। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার কথায়, ‘বাংলাদেশে আগুন জ্বললে আমাদেরও তার আঁচ পোহাতে হবে। তাই সতর্ক থাকতে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে।’  তিনি জানান, ঢাকাকে জঙ্গি দমনে সব রকম সহায়তা করা হবে।


প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ফাঁসির আসামি জামায়াতে ইসলামী নেতা মির কাশেম আলীকে জেল থেকে মুক্ত করাটাও গুলশানের জঙ্গি হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে মনে করছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। হলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলা নিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নয়াদিল্লিকে যে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছে, তাতে ওই সন্দেহের কথা জানানো হয়েছে। ঢাকার দাবি—পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ভারতীয় গোয়েন্দা এবং গুপ্তচর সংস্থাগুলো এখন ওই তথ্যের বিশ্লেষণ করছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ নয়াদিল্লিকে জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই পাঁচ জঙ্গিকে পাকিস্তানের বালুচিস্তানে দু’মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এর পরে চট্টগ্রাম হয়ে তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। থাইল্যান্ড থেকে এসেছিল জঙ্গিদের অস্ত্র। বিদেশিদের জিম্মি করে মীর কাশেম আলীকে মুক্ত করার পাশাপাশি সেনাদের বিদ্রোহে উস্কানি দেওয়াও উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেন, ‘‘ধনকুবের মির কাশেমকে মুক্ত করাটা লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে এখন একমাত্র তার ফাঁসিই কার্যকর হওয়া বাকি। এ ফাঁসি আটকাতে নানা রকম চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতাও তার অঙ্গ হতে পারে।’

কে এই মীর কাশেম আলী?

একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়িয়ে খুনি আল বদর বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন চট্টগ্রামে তৎকালীন ছাত্রনেতা এ মীর কাশেম। পরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা হন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জিয়াদ আল মালুমের কথায়, ‘‘মির কাশেম ছিলেন জামায়াতের নেতা।’১৯৮৩ সালে তিনি ইসলামী ব্যাংক স্থাপন করে তার প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান হন। কেয়ারি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে তার ১০টি কোম্পানির প্রধানও ছিলেন কাশেম। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিনের রুটে তার পাঁচটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী চলে। বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির মালিক ইবনে সেনা ট্রাস্টেরও সদস্য তিনি। নয়া দিগন্ত নামে একটি দৈনিক পত্রিকা ও দিগন্ত টেলিভিশনেরও তিনি মালিক ছিলেন। সরকারি হিসেবে সব মিলিয়ে মির কাশেমের সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক আদালতে নিজের বিচার প্রক্রিয়া চলার সময়ে মীর কাশেম বিশ্বের নামি-দামি আইনজীবীদের নিয়োগ তো করেছিলেনই, বিচার বন্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ ঢেলে মার্কিন লবিস্টও নিয়োগ করেছিলেন। তার ফাঁসির রায়ের পরে পাকিস্তানের আইনসভায় বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল। তুরস্ক সরকারও ফাঁসি বাতিল চেয়ে ঢাকার কাছে সরকারিভাবে আবেদন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকেও কাশেমের ফাঁসি বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

বিদেশ -এর সর্বশেষ