৪ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

স্তন্যদান নিয়ে সমাজের সব ট্যাবু ভেঙে দেবে ছবিগুলো


১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০১:২১  পিএম

নতুনসময়.কম


স্তন্যদান নিয়ে সমাজের সব ট্যাবু ভেঙে দেবে ছবিগুলো

প্রতিনিয়তই নানা ধরনের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন নেটিজেনরা। আর সেলফি বা নিজের ছবি নিজে তোলাটাই এখন কার্যত নেশায় পরিণত হয়েছে জেনারেশন ওয়াইয়ের। সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে, এমন নজিরও ভুরি ভুরি। কিন্তু, নারী জীবনের যে মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন ইভাট্টে ইভান্স, তা সচরাচর চোখে পড়ে না। খুব খোলামেলা ভাবে বিভিন্ন উপায়ে মা হওয়া নারীদের স্তন্যদানের ছবি তুলেছেন তিনি।

নারী জীবনের এক অন্যন্য অনুভূতি হলো মাতৃত্ব। সন্তান জন্ম দেওয়াতেই জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান অনেকেই। অথচ সেই সন্তানকে স্তন্যদানের মতো একটি স্বাভাবিক ঘটনাকে বাঁকা চোখে দেখে সমাজ।

প্রকাশ্যে নিজের সন্তানকে স্তন্যদান করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় নারীদের। যেসব নারীরা বাড়িতে থাকেন, তার কোনও ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিন্তু, চাকরিরত নারীদের স্তন্যদান করাতে গিয়ে পদে পদে সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু, স্তন্যদানের মতো স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়াকে নিয়ে কিসের এত সমস্যা? কেনই বা নারীদের স্তন্যদানের জন্য আড়ালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে? নিজের ছবির মাধ্যমে এইসব প্রশ্নই তুলে ধরতে চেয়েছেন ফটোগ্রাফার ইভাট্টে ইভান্স।

তিনি বলেন, ‘মাতৃস্তন্য সবচেয়ে নিখুঁত খাবার বা উপহার, যা একজন নারী তার সন্তানকে দিতে পারেন। তাই অকারণে সমালোচনা না করে, স্তন্যদানের গুরুত্বটা বুঝতে পারে।’ নিজের ছবির মাধ্যমে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ লিথুয়ানিয়ার এই নারী ফটোগ্রাফার।

কথায় বলে, মা হওয়া কি মুখের কথা। বাস্তবিকই। ডায়াবেটিসের মতো নানা শারীরিক সমস্যার কারণে সন্তান ধারণ করতে গিয়ে সমস্যা পড়তে হয় মহিলাদের। সন্তান পাওয়ার জন্য অনেক সময় অন্যের গর্ভ ভাড়া নেন অনেক দম্পতি। প্রকৃতির কোলে তাদের সকলেরই স্তন্যদানের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছেন ইভান্স।

 

কিন্তু, নিজের ছবির বিষয় হিসেবে স্তন্যদানকেই কেন বেছে নিলেন তিনি?

এমন প্রশ্নের জবাবে ইভাট্টা ইভান্স বলেন, তার মিমি নামে এক নারীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে যখন তাদের বাড়িতে আগুন লেগে যায়, তখন মিমির বয়স ছিল মাত্র দু’বছর। প্রাণে বেঁচে গেলেও, মিমির সারা শরীর ঝলসে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে প্লাস্টিক সার্জারি ও একাধিক অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন ওই নারী। মা-ও হয়েছিলেন। এই ঘটনাই তাকে স্তন্যদানের ছবি ক্যামেরাবন্দি করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

বস্তুত, ইভাট্টা ইভান্স নিজেও দুই সন্তানের মা। তাই শুধু অন্যের স্তন্যদানের দেখেই নয়, নিজের অভিজ্ঞতাও যে প্রেরণা জুগিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন এই মহিলা ফটোগ্রাফার।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: