৪ পৌষ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২:২৮ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

সামান্য বৃষ্টিতেই টরকী বন্দরে হাটু পানি


১৮ জুন ২০১৭ রবিবার, ০৬:৪৭  পিএম

নতুনসময়.কম


সামান্য বৃষ্টিতেই টরকী বন্দরে হাটু পানি

অল্প বৃষ্টিতেই এখন হাটু পানি। অথচ এক সময় দূর দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে এসে বেচাকেনা স্বাচ্ছন্দেই করতো। অনেকটা দুঃখ করেই বলছিলেন এক সময়ের দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক বন্দর হিসেবে খ্যাত টরকীর পাইকারি বিক্রেতা আফাজ উদ্দিন।

তিনি জানালেন, অবৈধভাবে খাল ভরাট করার কারণে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরটি তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সেখানে আসা ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের সময়েই নদী ভরাটের সূত্রপাত। বন্দরের তীরের প্রায় আধাকিলোমিটার খাল অবৈধভাবে ভরাট করে সেখানে কাঁচা-পাকা আবাসিক ভবনসহ দোকানপাট নির্মাণ করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ নদীকে গ্রাস করা হচ্ছে। দখলদাররা সরকারি খালে দখল নিয়েই খ্যান্ত থাকেননি, জমিসহ পজিশনও বিক্রি করছেন। আর সব দখল টিকিয়ে রাখতে প্রভাবশালীরা সেখানে একটি মসজিদও নির্মাণ করেছে।

আর এ দখল বাণিজ্যের কারণে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে গেছে বন্দরটির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। আর এ কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই টরকী বন্দরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে যায়।

আড়িয়াল খাঁ শাখা নদী পালরদী খালের তীরে অবস্থিত টরকী বন্দরে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস। অথচ প্রশাসনের নীরবতায় সেখানে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা ছাড়াও তিনটি স্কুলের শিক্ষার্থীসহ পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খালের উত্তরপ্রান্তে (দখলের শেষ প্রান্তে) এখনও রয়েছে বিশাল চওড়া খালের মুখ। কিন্তু নদী থেকে পানি প্রবেশের মুখ ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।

গত কয়েকদিনের লাগাতার ভারি বর্ষণে টরকী বন্দরের প্রধান সড়কসহ বাড়িঘর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, একটু বৃষ্টিতেই বন্দরের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে টরকী হাইস্কুল, বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রি-ক্যাডেট স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী এবং কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বাসিন্দাদের হাঁটু সমান পানি ভেঙ্গে বের হতে হয়। পানি কমে যাওয়ার পরও তাদের কর্দমক্ত রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়।

বন্দরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে বন্দরের সড়কগুলো পানির নিচে থাকায় ক্রেতা সমাগম কম হয়। ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হারিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। শিগগিরই অবৈধভাবে দখলকৃত খাল উদ্ধারসহ পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বন্দর রক্ষা ও ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, পৌর মেয়র হারিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: