৪ পৌষ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২:০৮ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

সাইকেলে সেবার দুই ফেরিওয়ালা


১০ অক্টোবর ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৯:২০  এএম

নতুনসময়.কম


সাইকেলে সেবার দুই ফেরিওয়ালা

গৃহযুদ্ধপীড়িত দক্ষিণ সুদানের বহু মানুষের কাছে এরাই একমাত্র ডাক্তার, যদিও ওরা আসলে দুই নার্স বেটি ওলিয়া আর রোজিনা ইমোলং এবং তাদের সাইকেলে রাখা ডাক্তারখানা ও ডিসপেনসারি। 

পূর্ব ইকোয়েটোরিয়া প্রদেশের গ্রামগুলোতে প্রতিদিন সাইকেলে চড়ে ঘোরেন এই দু’জন সিস্টার, এই প্রচণ্ড গরমে যা খুব সহজ কাজ নয়।

ইটালির এভিএসআই ত্রাণ সংস্থার হয়ে কাজ করেন এরা দু’জনে। সংস্থাই তাদের সাইকেল আর ওষুধপত্র দেয়। দক্ষিণ সুদানের সরকারের পক্ষে এখানকার মানুষজনের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। এখানে না আছে বিদ্যুৎ, না আছে পানির কল, না বাঁধানো রাস্তাঘাট। চিকিৎসা বলতে একমাত্র সুযোগ হলো বিদেশি ত্রাণসংস্থাগুলো যেটুকু ব্যবস্থা করে।

দক্ষিণ সুদানের অর্ধেক মানুষের জীবন কাটে দারিদ্র্যসীমার নিচে। এ যাবৎ তারা কোনোক্রমে কিছুটা চাষবাস করে জীবনধারণ করে এসেছেন। কিন্তু গত চার বছরের একটানা অনাবৃষ্টি সব কিছু বদলে দিয়েছে। 

রোজিনার বাড়ি কাছের একটি গ্রামে, পাহাড়ের অপর পাশে। পরিস্থিতি কোনোকালে এত খারাপ ছিল না বলে তার ধারণা। রোজিনা জানালেন, ‘পাহাড়ের ওপাশে আমাদের মানুষজন চার বছর ধরে তারা যা কষ্ট পাচ্ছে, তা বলা যায় না। বৃষ্টি নেই, খাবার নেই, কিছুই নেই। মানুষজন জঙ্গল থেকে ফলমূল কুড়িয়ে দিন কাটাচ্ছে।’

দেশে যুদ্ধ, তা থেকেই দুর্ভিক্ষ, অনশন। ব্যবসায়ীরা প্রাণের ভয়ে এ এলাকায় আসেন না। এখানে উন্নত খাবারদাবার বা অন্য কোনো ধরনের জিনিস পাওয়া যায় না, সেটা তারও একটা কারণ। আর যেটুকু বা আসে, তা কেনার সামর্থ্য এখানকার মানুষদের নেই। স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা করা তো একটা বিলাস। 

কনভেন্ট সিস্টার পাসকুইনা ইসো গ্রামের একমাত্র স্কুলকে বহু বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছেন। শান্তি বলতে তিনি যেটুকু দেখেছেন, সেটা ছিল ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা পাওয়ার পরে স্বল্প কিছুদিন, কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি। দু’বছর পরেই আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, যে যুদ্ধ আজ পর্যন্ত চলছে। তা সত্ত্বেও সিস্টার পাসকুইনা স্কুল চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষজন আশা হারিয়ে ফেলছে? আজ আর কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। লোকে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’

সিস্টার রোজিনা আর সিস্টার বেটি প্রতিদিন বেরোন মানুষজনকে সাহায্য করার জন্য। শিগগির দক্ষিণ সুদানের মানুষদের ভাগ্য ফিরবে বলে তারা বিশ্বাস করেন না, কিন্তু তাদের সাইকেল ক্লিনিক ছাড়া এই হারানো গ্রামগুলোর হতভাগ্য মানুষদের শেষ আশার আলোটুকুও যে মুছে যাবে। সেবাদানকারী এই সাইকেলটিই এখন দক্ষিণ সুদানের ছোট-বড় সবার শেষ ঠিকানা।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: