৭ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

সরকার বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুত, জেলায় জেলায় ত্রাণ


১০ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:৪৮  এএম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


সরকার বন্যা মোকাবেলায় প্রস্তুত, জেলায় জেলায় ত্রাণ

বন্যার আশঙ্কায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে বন্যা মোকাবেলায় জোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জেলা প্রতি নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি ২০০ মেট্রিকটন চাল ও দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ পাঠিয়েছে। এছাড়া যেকোনো মুহূর্তে প্রয়োজনে আরো বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে মন্ত্রণালয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, উজানে মৌসুমি ভারী বর্ষণের কারণে চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সোমবার (০৯ জুলাই) বিকেলে জানিয়েছে, যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পানি সমতলে স্থিতিশীল রয়েছে। আবার মেঘনা অববাহিকার মনু নদ ছাড়া অন্যান্য প্রধান নদীর পানি সমতলে হ্রাস পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রক্ষ্মপুত্র নদের পানি সমতলে হ্রাস পেতে পারে।

অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতলে স্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরো জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতলে হ্রাস আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি সমতলে আগামী ২৪ ঘণ্টা বৃদ্ধি পেতে পারে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া, জামালপুর এবং সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল বলেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও রোববার থেকে কমতে শুরু করেছে। উজানে আর বর্ষণ না হলে পানি বাড়বে না।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ বলেন, বন্যা মোকাবেলায় ৩০ জেলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলাগুলোতে শুকনো খাবার পৌঁছে গেছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোকে মিটিং করে ফলোআপ জানাতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে মেডিকেল টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।

রিয়াজ আহমেদ জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সাধারণত প্রতি জেলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ করে টাকা বরাদ্দ থাকে। বন্যার শঙ্কায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, জামালপুরসহ ৩০ জেলায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতি জেলায় ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, এবার একটু বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজানে ভারতে বৃষ্টি হলে এদিকে পানি বাড়ে। তবে পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বন্যা মোকাবেলায় যতোটুকু প্রয়োজন ততোটুকু করবে সরকার।

বিএস

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: