৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

সমাবেশ শেষে ফিরতি পথেও দুর্ভোগ


১২ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার, ০৫:৩৭  পিএম

নতুনসময়.কম


সমাবেশ শেষে ফিরতি পথেও দুর্ভোগ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশ শেষে ফিরতি পথে দুর্ভোগ পোহাতে হচেছ সমাবেশে আগত নেতা-কর্মীদের। সকাল থেকেই রাজধানীতে গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতো সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তা চরমে উঠে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায়। সমাবেশ হওয়ার পর পরিবহন সংকটে পড়ে নেতাকর্মীরা। অগত্যা হেঁটেই গন্তব্যে রওয়ানা হতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের। একই ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষও।

বিএনপির ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যাগে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। ডিএমপির শর্ত মেনে নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করা হলেও দুপুরেই উঠে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ।

তবে দুপুরের পর রাজধানীতে বাড়তে থাকে ভোগান্তি। সমাবেশ কর্মসূচি ঘিরে নগরীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস বন্ধ রাখা হয়েছে দাবি বিএনপির। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবীসহ সাধারণ নগরবাসী। সাধারণ মানুষ গণপরিবহন না পেয়ে কেউ সিএনজি, কেউ প্রাইভেটমাইক্রো, উবার, পাঠাওয়ের যানবাহনে চেপে যান গন্তব্যে।

রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে শাহবাগের শিশুপার্কের সামনে দেখা যায়, রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ। বিএনপি নেতাকর্মীরা পায়ে হেঁটে কেউ যাচ্ছেন, শাহবাগে, কেউ পল্টন, মতিঝিলের দিকে। গাড়ির অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কর্মজীবী হাজার মানুষ।

অফিস শেষে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে রাস্তায় নেমেই বেকায়দায় পড়েন নগরবাসী। প্রতিদিনের বাসগুলোর দেখা নেই। উল্টো হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। কিছু বাস চলাচল করতে দেখা গেলেও হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। বাসে উঠতে কেউ কেউ নিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি। নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের ভোগান্তি যেন আরও বেশি।

কথা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সকালে অনেকটা কষ্ট করে হাসপাতালে এসেছিলাম। এখন বের হবো সে উপায়ও নেই। না আছে বাস না সিএনজি, রিক্সাও চলছে না। ঘোর বিপদ নিয়ে বুঝি পায়ে হেঁটেই যেতে হয় গন্তব্যে!

বৃদ্ধ মা ও ছেলে নিয়ে আত্মীয়ের বাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপাকে পড়েছেন আমিনবাজার এলাকার বাসিন্দা আরিফা খাতুন। তিনি বলছেন, ফুলবাড়িয়া থেকে সিএনজি নিয়ে পল্টন পর্যন্ত আসছি। এরপর এতোখানি পথ হেঁটে আসলাম শাহবাগ। এখানে অবস্থা আরও খারাপ। জানি না আজ কিভাবে বাড়ি পৌঁছবো।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকার বিএনপিকে কোণঠাসা করতে পারেনি। নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। এই ঢল ঠেকাতে সরকার সাধারণ মানুষকে পর্যন্ত ভোগান্তিতে ফেলেছে। নিয়মিত যেসব যানবাহন চলাচল করতো সেসব চলছে না। উল্টো ঢাকার বাইরের যানবাহন ঢুকতে দেয়া হয় নি।

মোহাম্মদপুর এলাকার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আনিসুর রহমান বলেন, এ সরকার বিএনপির নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করতে গিয়ে পুরো রাজধানী অবরুদ্ধ করেছে। অঘোষিতভাবে সরকার হরতাল পালন করছে। খারাপ লাগছে সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখে। বাকশালী সরকারের আচরণ বুঝি এমনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, রাজধানীতে বাস বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের নেই।

এব্যাপারে ডিএমপির ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রিফাত রহমান শামীম জানান, কাকরাইল থেকে শাগবাগ যাবার পথে কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে। পল্টন, মৎস্য ভবন, কাকরাইল, মতিঝিলসহ দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগে যানবাহন চলাচল করছে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: