৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩:০২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী, মায়ের কলিজায় তখন সাহস


০৫ আগস্ট ২০১৮ রবিবার, ০৪:২১  পিএম

মিজানুর রহমান রানা


শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী, মায়ের কলিজায় তখন সাহস
লেখক: মিজানুর রহমান রানা

‘এরা ডিসিপ্লিন দেখতে চায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এরা বিরোধিতাই শিখেছে কেবল। এদের নিয়ে না ভেবে দেশকে এগিয়ে নেয়া জরুরি। ছেলেরা চমৎকার একটা শুরু করল। আমরা তাজ্জব হয়ে দেখলাম ওরা ইতিহাস সৃষ্টি করছে। তাও এত দ্রুত। আমি হিন্দি ছবিতে দেশপ্রেম দেখে চোখ মোছা মানুষ। এদের দেখে বুক গর্বে ভরে উঠেছে। হয়তো আমরা এক গর্বের ইতিহাস তৈরি করতাম। পারলাম কি?

যদি প্রশ্ন করি
কোন বাবা, কোন সময় তার প্রিয় সন্তানকে উত্তাল রাজপথে যেতে দেয়? উত্তরে দৃপ্তকণ্ঠে দ্যর্থহীন ভাষায় বলব_ ‘শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী থাকেন কেবলমাত্র তখনই বাবা-মায়ের কলিজায় এতো সাহস থাকে। এতো সুন্দর একটা আন্দোলন, নোংরা অপপ্রচার করে একেবারে পঁচিয়ে দিলেন।

কী কথা ছিল শুরুতে আর কী হয়ে উঠল শেষে। আজব সব গুজব যার নজির ২০১৩ সলের সম্ভবত মার্চের প্রথমে তিন কি চার তারিখ শুনলাম_ সাঈদী সাহেব পীর হয়ে গেছেন। ওনাকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে। সে সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ছোটখাটো নেতা হিসেবে সেই অভিজ্ঞতা না হয় আর একদিন বলব।

এরপর। থানায় হামলা, পুলিশ খুন, অস্থ লুট, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, গুলি... আরো কতো কি...। হেফাজতের গুজবের সবচেয়ে বড় শিকার আমরা রাজশাহীবাসী। পাঁচবছর কোন কাজ হয়নি, রাস্তাঘাটের কথা বলার জো নেই। এক যোগে চার সিটি নির্বাচনে জয় হল মিথ্যার, জয় হল গুজবের। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হল উন্নয়ন অগ্রযাত্রা তথা সত্যের। ২০১৪ সালে আমি ভিক্টিম (অন্য কোন একদিন বলব)। কোটা আন্দোলনে দেখলাম ওমুক মারা গেছে তমুক অন্ধ, তিনাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, রগকাটা...গুজব ছড়িয়ে...। ভিসি স্যারের বাড়িতে নোংরা বর্বরতা। ক্ষীপ্ত পক্ষ আইন হাতে তুলে নিয়ে দণ্ড কার্যকর করল। ঘৃন্য কর্মকাণ্ড করল। এরা আবারও সুযোগ নিল। একটা ফেসবুক লাইভ, গুজব, হামলা অসংখ আহত। আর কোথায় নামবে এই ষড়যন্ত্রকারীরা, ছোট্ট শিশুদের সামনে ধরে আশ্রয় বানিয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে এ কোন উজবুকের দল? এদের আবার তাড়াও আছে তাড়াতাড়ি মাঠে নেমে কাজ শুরুর ব্যাকুল তাগাদা। সম্প্রতি ইউটিউবে এসেছে, শুনেছি মামলাও হয়েছে। এত মামলা যায় কই? এরা রাইরে থাকে কী করে? এরা ক্ষমতার লোভে অমানুষ হয়ে গেছে। এরপর এরা যদি রাস্তায় জামা কাপড় খুলে সবাইকে লজ্জায় ফেলে সরকার পতনের চেষ্টাও করে তবে আমি আর আশ্চর্য হব না।

এবার আসল কথাটা বলব
*নিরাপদ সড়কের অন্তরায় শুধু কি ড্রাইভারের অবহেলা?
* নাকি শুধু পুলিশের ব্যর্থতা?
*নাকি দুটোই?

সড়ককে নিরাপদ করতে হলে যোগাযোগ কাঠামো ও দক্ষ জনবল যেমন প্রয়োজন তেমনি তাদের জীবনমান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। তাছাড়া আইনের সঠিক প্রয়োগ অর্থহীন।

পুলিশের যে বেহাল দশা ছিল এক দশক আগেও, পোশাক দেখলেই ঘুষ নামক বাজে শব্দটা মনে পড়ে যেত। আজ তারা কর্মঠ, সমর্থ, দক্ষ, স্মার্ট ও সৎ। ওহ্ সৎ বললাম আঁতে ঘা লাগল? নাক না কুচকিয়ে একটু ভাবিতো বাঙালী জাতি হিসেবে আমরা কতটা সৎ? হৃদয়ে দেশপ্রেমের ছিঁটা ফোঁটাও যদি থাকে তাহলে উত্তর: হ্যাঁ আমরা জাতি হিসেবে বেশ সৎ। তার মানে আমরা সবাই সৎ? অসৎ নেই? ব্যতিক্রম কখনও উদাহরন হয় না। আমি উপরে পুলিশ ব্যাপারে যা যা বললাম তা আমি প্রমাণ করতে সমর্থ হলেও এখন লিখতে অসমর্থ। চাইতে বিতর্কের আহবান।

ড্রাইভার হেলপার। পেশার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক জীর্ণ, বিবর্ণ কুটির। দু’চারটা আধা ন্যাংটা বাচ্চা-কাচ্চা, রান্নার ধোঁয়া কালি ঝুল। গামছা কোমর থেকে খুলে ঘাম মোছা এক কালি-ঝুলি মাখা দেহ। কী মর্যাদা দিয়েছি তাদের? এক টার্মিনাল। যেখানে সব চলে, নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে দায়টা এই কুলি, হেলপার, ড্রাইভারদের ওপরে চাপানো হয়। ভোগী থাকে সুখে ভাগি থাকে চাপে। ভাগশেষ মৃত্যু পথযাত্রী হেরোইন আসক্ত সুখি। জীবন মান বাড়ান। দেখবেন কথা শুনবে। আইন মানবে, আরে আপনি মানেন? বুকে হাত দিয়ে চোখবন্ধ করে হৃদয় থেকে বলুন তো আপনি কতটুকু আইন মানেন? আরে ৪০ জন যাত্রীর ২০ জনই ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করে,এত উচ্চ শব্দের মাঝেও। যদি দিনে ৫ ট্রিপে ১০ ঘন্টায় ১০০ জনের সাথে একটা মানুষ প্রতিদিন তর্ক করে তার তো সুস্থ থাকারই কথা নয়। এদের সম্বোধন করা হয় ‘মামা’ নামক শব্দ ব্যাবহার করে। যার অর্থ ‘মায়ের ভাই নয় বরং বাপের শালা’। যখনই তাকাই চোখ কুঁচকে, ভাড়া কত? যেন সামনে দাঁড়ানো এই নোংরা পোশাকের মানুষটি আসলে এক মহা জুলুমের প্রতিচ্ছবি। কষে পিষে বেশি নেবে, চুরি করে পকেটে রাখবে, মালিককে অল্প দেবে। একটু কম দিতে পারলেই মনে মনে বিজয়ের হাঁসি হাঁসব, এমন আচরণ ও ব্যয় করে আপনি আর কী কী সার্ভিস চান? ওরা যে কামড়ে দেয় না এটাইতো বেশি।

এদের পৃথিবীর সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ, বড় পেশার মানুষ বললে কি ভুল বলা হয়?
আপনি ও কাজ করেন, অফিসটা পরিষ্কার রাখাটাতেও ফাঁকি মারেন অথচ এরা ১০ ঘন্টা কাজ করতে পুরো সময়টাই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ রাখতে হয়, এদের সামান্য ভুল বা দোষে ফাঁসি হবে আর আপনি আপনার দায়ীত্বে ফাঁকির পর ফাঁকি দিয়ে যাবেন তা তো আর হয় না।সুতরাং নিজেদের ঠিক করতে হবে। অভ্যাস বদলে ফেলতে হবে তথা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।তবেই না আসবে পরিবর্তন।  শুধু এক পেশে দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। বদলাতে হবে সবাকে। আইনের প্রয়োগ তবেই সফল হবে।

জীবন মানের নিশ্চয়তা দেন,তারপর প্রশিক্ষণ দেন। পেটে খেলে পিঠে সয়। আজকের পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কত চৌকশ তা তারা প্রমাণ করেছে। জঙ্গিবাদ এর কথা বোধহয় ভুলে যান নি। তারা (পরিবহন শ্রমিক) সর্বোচ্চ অপরাধ হিসেবে মৃত্যুদন্ড যদি মানেও তবে রাষ্ট্রের দায়ীত্ব নয় কি, তাদের পথে অন্যকেউ ঢুকে পড়া কে বেআইনি বলা? আমরা অহরহ যেখান সেখান থেকে গাড়িতে উঠতে চাই। প্রয়োজনে যেখানে সেখানে নেমে যাই। ওরাও সুযোগ নেয়। যেখানে সেখানে থামিয়ে প্যাসেঞ্জার নেয়, আমরা উঠিও,সে যত চেপে,আঁচড়ে বা দৌঁড়ে হোক। অবকাঠামো গত আরো অনেক উন্নয়ন মূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। কঠোর আইনে প্রয়োগ নিশ্চিত হতে হবে।সেটা শ্রমিক হোক বা পথিক।

বিশেষ করে উড়তি গাড়িওয়ালাদের যাতায়াতে ক্ষেত্রে অত না হলেও কাছাকাছি মানে পাবলিক সার্ভিস এর ব্যাবস্থা জরুরী। তাহলে খরচের বিবেচনার গাড়ী ত্যাগ করে চলতেই এরা পছন্দ করবে বেশীরভাগ সময়।
আরে ভাই রাস্তাটা একটু নিরাপদ থাকলে ওদেরই বেশী লাভ, যাদেরকে জীবনের অর্ধেক সময় রাস্তাতেই কাটাতে হয়।আমার আপনার অন্তিম ডাকে সাড়া দেবার জন্য।হাসপাতালের পানে ছোটার জন্য...বড় প্রত্যাশায় বলি, আস্থা থাকলে দেখুননা শেখ হাসিনার সরকার কি করে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ডিসিপ্নিন চায়।

আনন্দের কথা ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর ঘোষনা এসেছে।

আমার মত লক্ষকোটি মুক্তিযুদ্ধ প্রেমী, বাঙালী প্রেমী বঙ্গবন্ধু প্রেমী যুবসমাজ চেয়ে আছে আপা আপনার দিকে, দেখিয়ে দিন শেখের বেটি কি পারে...। আমরা আওয়ামী লীগের তৃনমুলের কর্মী, আমরাও ডিসিপ্লিন কম জানি না। আপনার কঠোর আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন আর বাধাগ্রস্থ হতে দেবো না, প্রাণের নেত্রী। আমরা সেই প্রজন্ম যারা আপনাকে কাছ থেকে দেখার বা কথা শোনার সুযোগ তেমন পাইনি, শুধু আপনার কাজ দেখেছি। আর তাতেই আস্থা। ঘরে ফিরে যাও বীর সোনারা, গেম চুরি করেছে একদল নোংরা স্বার্থান্মেষী কাপুরুষের দল। তবুও তোমাদের অর্জন এক ইতিহাস।

পরিশেষে। যানবাহন সংশ্লিষ্ট সকলের জীবনমান উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক। আমরা সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলি। আর নিরাপদ হোক সড়ক।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ

আইএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: