৭ আষাঢ় ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২১ জুন ২০১৮, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

শিমের গ্রাম


১২ মার্চ ২০১৮ সোমবার, ০৭:১৪  পিএম

লালমনিরহাট করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


শিমের গ্রাম

ছোট ছোট খুঁটি গেড়ে বসানো হয়েছে বাঁশের মাচান। তার বুকে ছড়িয়ে পড়েছে সবুজ লতাপাতা আর সাদা মিশেলে গোলাপি রঙ্গের ফুলের সমাহার। ফুলের সমারোহ ভেদ করে জেগে উঠেছে শিম। বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা খোলা জায়গা হতে পারে শিম চাষের উপযুক্ত স্থান।

লালমনিরহাটের বুড়িমারি থেকে রংপুর মহাসড়ক এবং দৈখাওয়ারহাট থেকে দুরাকুটি সড়কের দু’পাশে মাঠের পর মাঠ নজর কাড়বে শিমের সমারোহ। যার নাম করা হয়েছে শিমের গ্রাম। আর এই শিমের গ্রামে সবাই শিম চাষ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

শিম চাষে লোকসানের ঝুঁকি অনেক কম। নেই তেমন কোনো ঝুট-ঝামেলাও। অন্য যে কোনো সবজির তুলনায় লাভও বেশি। আর সে কারণেই এ অঞ্চলের কৃষকরা ঝুঁকছেন শিম চাষে। তাতে বেশ লাভবানও হচ্ছেন অনেকে। শিম চাষে স্বাবলম্বী হয়েছে লালমনিরহাটের হাজারো তরুণ।

এখানে চাষ হওয়া শিম লালমনিরহাট থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। আর সে কারণে দুরাকুটি ও কুমড়িরহাটে প্রতিদিন বসছে দেশের বৃহত্তম শিমের পসরা। চলছে বেচাকেনা। ট্রাক বোঝাই হয়ে যাচ্ছে ঔসব এলাকায়। চাষিরা জানান প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ২৫-৩০ ট্রাক শিম যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, ১৯৯৭ সালে এ জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শিম আবাদ শুরু হয়। চলতি মৌসুমে জেলা সদরের ২১০ হেক্টর জমিতে ৩২১ মেট্রিক টন, আদিতমারী উপজেলায় ১৪ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৩৪, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৩০ হেক্টর জমিতে ৫০০, হাতীবান্ধা উপজেলায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৭০০ ও পাটগ্রাম উপজেলায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন শিম আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। ফলনও হয়েছে বাম্পার। দামও উঠেছে বেশ। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

এ অঞ্চলের শিম চাষিদের আলাপে জানা যায়, এসব এলাকায় শিম চাষ হয় দু’ভাবে। নিজের জমিতে আবাদ করা ছাড়াও, কৃষকরা বর্গা জমিতেও শিম চাষ করেন অনেকে। বিশেষ করে যারা ভূমিহীন তারাও বর্গাজমিতে শিম চাষ করছেন। কমবেশি লাভবান হচ্ছেন। বর্গা চাষীরা জমির মালিককে আবাদের এক তৃতীয়াংশ ফসল দেন। এতে জমির মালিকও অন্য ফসলের তুলনায় লাভ পান বেশি। আর যারা জমি লিজ নিয়ে আবাদ করেন, তারা প্রতি বিঘায় মালিককে দেন ছয় থেকে আট হাজার টাকা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার তেলীপাড়া গ্রামের সবজি চাষি ছব্বুল মিয়া জানান, উচ্চ ফলনশীল শিম বীজ এনে জমিতে আবাদ করেন তিনি। উৎপাদিত শিম বিক্রি করে লাভবানও হন। প্রতিবেশী কৃষকরা তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়। তাছাড়া বাজারে ক্রমশই শিমের চাহিদা বাড়ায় পরপর কয়েক বছর এখানকার কৃষকরা শিমের চাষ করছেন। এভাবেই পুরো এলাকায় শিম চাষের বিস্তার ঘটেছে।

শিম চাষে এ অঞ্চলের চুনযুক্ত দো-আঁশ মাটি বেশ উপকারী। এতে ফলন হয় ভালো। আর এ কারণেই আদিতমারীর কুমড়িরহাট এখন দেশের বৃহত্তম শিম উৎপাদন এলাকা।

দুরাকুটি গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে শিম চাষে খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। আর তাতে উৎপাদন হয় প্রায় ১১ মণ শিম। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। চলতি বছর শিমের ফলন ভালো হওয়ায় বেশ খুশি এখানকার কৃষক।

লালমনিরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিধু ভুষন রায় বলেন, এ এলাকার মাটি শিম চাষে উপযোগী। ফলে কয়েক বছর ধরে এখানে শিম চাষে ব্যাপক সাফল্য আসছে।

এসআইপি/এমএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: