৭ আষাঢ় ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ২১ জুন ২০১৮, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন করে লাভবান খামারিরা


০৮ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:০১  পিএম

বেনাপোল করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


শার্শায় বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন করে লাভবান খামারিরা

যশোরের শার্শায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে টার্কি পালন শুরু হয়েছে। বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করতে যাচ্ছে টার্কি পালন। টার্কি পালন করে ২ যুবক লেখাপড়া শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে টার্কি পালন নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন তারা স্বাবলম্বী। তাদের দেখে অনেকেই এখন টার্কি পালনে উৎসাহ দেখাচ্ছে।

অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ মুনাফা দেখতে পারছেন টার্কি খামারিরা। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো মেশিন কিনে নতুন জন্ম নেওয়া বাচ্চা লালন পালন করে মাত্র তিন মাসের মাথায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন খামারিরা।

লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় চাকরি করতেন শার্শার গিলাপোল গ্রামের জাহিদ পারভেজ রাজু। হঠাৎ করে বিমান সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ২ বছর আগে বাড়িতে এসে সজিব টার্কি পালন শুরু করেন। তার পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পাস করে চাকরি না পেয়ে শার্শার খলিসাখালী গ্রামের সজিব হোসেনও টার্কি পালন শুরু করেন।

একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিক্রি করা হচ্ছে টার্কি। ১-১০ দিনের বাচ্চা ৩০০ টাকা ও বড়গুলো ৫/৬ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে। কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি টার্কি খেয়ে থাকে। রোগ বালাই এর হাত থেকে রক্ষা করতে আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ থেকে যে ভ্যাসকিন দেওয়া হয় সেটার মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে জানান খামারি। টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেশি যে জ্বর-ঠাণ্ডা ছাড়া আর কোনো রোগ আক্রান্ত করতে পারে না। ২০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম পাড়া শুরু করে। রাজুর খামার থেকে প্রতিমাসে ২ হাজার বাচ্চা উৎপাদন হয়ে থাকে। এদের দেখাদেখি শার্শার কাটুরিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী হায়দার আলী গগনও টার্কি পালন শুরু করেছেন। তিনি বাচ্চা ফুটানো মেশিনও কিনেছেন। এসব খামারে টার্কি পালন দেখে বেনাপোলসহ শার্শার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পারিবারিকভাবে টার্কি পালন শুরু করেছে এবং অনেকেই আগ্রহী হয়ে শুরু করেছে এই টার্কি চাষ।

টার্কির মাংস চর্বি বিহীন হওয়ায় সারা পৃথিবীতে এ মাংস অত্যন্ত জনপ্রিয়। দ্রুত বর্ধনশীল একটি টার্কি বছরে ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজন হওয়ায় এটি অত্যন্ত লাভজনক। ইতিমধ্যে শার্শা উপজেলায় সফল খামারি টার্কি চাষ করছেন। বাণিজ্যিক ও পারিবারিক ভাবে টার্কি চাষ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এখান থেকে টার্কির বাচ্চা সংগ্রহ করছেন। দিন দিন এর প্রসার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এএইচ/পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: