৪ পৌষ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

শান্তি নেই বউবাজারের বউদের


১১ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার, ০৪:৩৯  পিএম

সালেহউদ্দিন সোহেল

নতুনসময়.কম


শান্তি নেই বউবাজারের বউদের

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের স্বস্থিরতার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের আস্থা রাজধানীর বউবাজারগুলোতে এখন আর আগের মতো স্বস্তি নেই। এছাড়াও অপরিকল্পিত এ বাজারগুলোতে বৃষ্টি ও কাদাপানির জন্য অনেকটা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনেকে।

যেখানে নামমাত্র দামে সহজে মেলে কাটা সবজি, ভাগা মাছ, মুরগি ও গরুর কাটার বাড়তি অংশ, যা অনেকটা নিম্নআয়ের মানুষের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর সামিল।

কিন্তু অপরিকল্পিত এ বাজারগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টি ও কাদায় বাজার করা স্বস্থির মাঝে অনেকটা বিড়ম্বনা। এমন দুঃসহ কষ্ট নিয়েও সকাল থেকে ভিড় বাড়তে থাকে বউবাজার খ্যাত কম মূল্যের এ বাজারগুলোতে।

শুক্রবার সকালে নগরীর জুরাইন বউবাজারের তেমনি দুঃসহ চিত্র উঠে আসে নতুন সময়ের সরেজমিন পরিদর্শনে। জুরাইন বউবাজারটি চল্লিশ বছরের আদি কাঁচাবাজার নামে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত।

এখানকার আশিভাগ মানুষ নিম্ন শ্রেণি-পেশার। বাজারটিতে কম দামে পাওয়া যায় শাক-সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম। কম দামের কারণ হিসেবে বলা চলে নামমাত্র দোকান ভাড়া, কাটা সবজি ও দোকানিদের কমদামি পণ্যের যোগান।

নিম্নআয়ের মানুষের বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণিরাই এখানকার ক্রেতা। আবার খেটে খাওয়া পুরুষ শ্রমিকরা দিনের প্রথম প্রহরে কাজে বের হওয়ার কারণে নারীরাই এখানকার প্রধান ক্রেতা। কিন্তু চলতি বছরের অতি বৃষ্টি দুর্বিষহ করে তুলেছে এখানকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

বাজার ভেতরে পানি ও কাদা জমে মানুষের চলাচলে তৈরি করেছে যন্ত্রণা। তবুও সকাল থেকে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর বউবাজার।

কথা হয় বউবাজারের ক্রেতা আশফা সুলতানার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের এলাকা মূলত পানির এলাকা। আর বাজারের অবস্থা আর কি বলবো, আপনি তো দেখছেন, জুতা কাদায় ঢুবে যায় বাজারের ভেতর। বৃষ্টির পানি জমে এমন কাদা তৈরি হয়েছে। আর মানুষের হাঁটার কারণে বাজারের ভেতর কাদা-মাটির ঢেউ খেলছে। তবে কি আর করার আছে। গরিব মানুষের বাজার এটা। এখানে না এসে কোথায় যাব?

সবজির গলিতে দোকানি মনির অর্ধ পচা আলু কেটে বিক্রি করেন। জানতে চাইলে মনির বলেন, ভাই দোকানের চাল বেয়ে পানি পড়ে। এমনিতেই বলা যায় আমরা পচা আলু কিনে আনি। আবার বস্তায় পানি লেগে আলুতে আরো পচন ধরে। তবে কি করার আছে এখানে (বউবাজারে) প্রায় ১০ বছর আলু কেটে বিক্রি করি। অন্য ব্যবসা তো শিখিনি। এটা করেই খেতে হবে আমাদের।

বেশ কয়েক পদের শাকের পসরা সাজিয়ে বিক্রি করছেন মাহমুদ মিয়া। বৃষ্টি ও কাদা-পানির মাঝে বেচা-বিক্রি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শাক বিক্রি ভালোই হচ্ছে। কারণ দাম কম ভাই। ধরেন এক আঁটি শাপলা মাত্র আট টাকা দরে বিক্রি করছি। আবার মুলা, কলমি, পুঁইশাক এক আঁটি দশ। দুই আঁটি একসঙ্গে কিনলে পনের টাকা বিক্রি করছি। দাম কম তাই আমাগো বাজারে বেচা-কেনা ভালো।

গত ১০ বছর এই বউবাজারে মুরগি গিলা-কলিজা বিক্রি করেন দেলোয়ার। এমন পরিস্থিতে বিক্রি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৃষ্টি-বাদলে মানুষ আস্তে-ধীরে আসে। সকাল থেকে ধরেন এখন বেলা দুইটা পর্যন্ত আমার মাল বিক্রি শেষ হওয়ার কথা কিন্তু এখনো পুরো মাল বিক্রি করতে পারিনি।

এদিকে বৃষ্টিতে আমদানি কম রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি এমনটাই বললেন বাজারের কাটা সবজি বিক্রেতা সোহান। তিনি বলেন, আমরা তো কাটা মাল বেচি। কিন্তু এখন মালের সরবরাহ কম থাকায় আমাদের এই কাটা সবজিও বেশি দামে বেচতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধরেন কাটা বেগুন দুই সপ্তাহ আগে ২০ টাকা বিক্রি করতাম কিন্তু আজকে বিক্রি করছি ৪০ টাকা কেজি দরে। কাটা শশাও দাম বেড়ে বিক্রি করছি ২০ টাকা কেজি দরে।

এদিকে সবজির সল্পতায় কাটা-ছেঁড়া সবজির দাম বেড়েছে- এমনটাই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ষাটোর্ধ্ব ভিক্ষুক রোকসানা বেগম। তিনি জানান, তিনি এই বাজারের কাটা সবজি ও কম মূল্যের ভাগা মাছ কিনতে প্রতি সপ্তাহে আসেন।

এই বাজারের জিনিসপত্রের দামে কতটুকু সন্তুষ্ট তিনি, জানতে চাইলে বলেন, এই বাজার আমাদের মতো গরিবের জন্য আশীর্বাদ। কম দামে মাছ, কাটা সবজি ও মুরগির কাটা অংশ কিনতে আমি আসি এখানে। কিন্তু দামের পরিবর্তন ও ভেতরের কাদামাটিতে কিনতে এসে খুব কষ্ট লাগছে। আমাদের মতো গরিবের সুখ-শান্তি কোথাও নেই।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: