২ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট ২০১৭, ১:৫১ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

শরীয়তপুরে ফসলি জমির উপর ব্রিজ, ক্ষতির মুখে কৃষকরা


২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০৯:৩৪  পিএম

এমএ ওয়াদুদ মিয়া, শরীয়তপুর করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


শরীয়তপুরে ফসলি জমির উপর ব্রিজ, ক্ষতির মুখে কৃষকরা

শরীয়তপুরে সরকারি বিধানকে পাশ কাটিয়ে এবং ফসলি জমি নষ্ট করে একটি সরু খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছে ৯৮ দশমিক ১০ মিটার গার্ডার ব্রিজ। ফলে সকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি ওই স্থানে ২৫/৩০ মিটারের একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলেই দুই এলাকার লোকজন যাতায়াত করতে পারতো এবং কয়েক একর ফসলি জমি নষ্টের হাত হতে বেঁচে যেত।

শরীয়তপুর এলজিইডি এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া-বিনোদপুর সড়কের রংয়ের বাজার এলাকায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৪ কোটি ৭৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ টাকা ব্যয়ে ৯৮ দশমিক ১০ মিটার একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করে।

স্থানীয়রা জানান, একটা সময়ে আংগারিয়া-বিনোদপুর সড়কের রংয়ের বাজার এলাকায় উপর দিয়ে কীর্তিনাশা নদীর শাখা নদী প্রবাহিত ছিল। কালের বিবর্তনে সেই নদীটি এখন একটি সরু খালে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ওই সরু খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও শুস্ক মৌসুমে লোকজন পায়ে হেটেই চলাচল করতেন। জনগণের সুবিধার্থে খালের দুদিকে রাস্তা নির্মাণ করে মাঝখানে মাত্র ৩০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করলেই দুই এলাকার লোকজন যাতায়াত করতে পারতো। সেখানে ৯৮ দশমিক ১০ মিটার একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ক্ষতির মুখ পড়েছে কয়েক একর ফসলি জমি। ব্রিজের নিচে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক পানি না হওয়ায় শুকনো মৌসুমে কোনো পানি থাকে না।

বিনোদপুর এলাকার আজাদ সরদার বলেন, এখানে এতোবড় ব্রিজ নির্মাণ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ব্রিজ নির্মাণের শুরুতে স্থানীয় লোকজন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বড় ব্রিজ নির্মাণ না করার দাবি জানালেও এলজিইডি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের অভিযোগে কোনো কর্ণপাত করেনি। এতোবড় ব্রিজ নির্মাণ করে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হয়েছে।

দক্ষিণ গোয়ালদী গ্রামের সামচেল হক ফকির বলেন, ফসলী জমিতে এতোবড় ব্রিজ নির্মাণ করে আমাদের কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করেছে। পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হয়েছে।

রংয়ের বাজার এলাকার বাসিন্দা সোলায়মান বলেন, ব্রিজ নির্মাণ করার আগেই আমরা এলাকাবাসী দরখাস্ত দিয়েছিলাম ছোট আকারে ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য। আমাদের কথায় এলজিইডি দপ্তর কোনো কর্ণপাত করেনি।

রংয়ের বাজার এলাকার আরেক বাসিন্দা আবু সায়েদ মুন্সি বলেন, ব্রিজটি ৩০ মিটার দিলেই হতো। এতবড় ব্রিজের দরকার ছিল না। ছোট ব্রিজ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দরখাস্ত দিয়ে ছিল। প্রভাবশালীদের কারণে আমাদের কোনো কথা তারা শুনেনি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ আহম্মেদ প্রথমে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। পরে তিনি বলেন,এ ব্রিজটি আমার আমলে হয়নি। আমি এ ব্রিজ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারব না।

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: