৪ পৌষ ১৪২৪, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

লেখক-চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী ৭ আগস্ট


০৭ আগস্ট ২০১৭ সোমবার, ০১:৫৪  পিএম

নতুনসময়.কম


লেখক-চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী ৭ আগস্ট

খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, নন্দনতাত্ত্বিক এবং লেখক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী ৭ আগস্ট। ১৮৭১ সালের এই দিনে তিনি ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

অবনীন্দ্রনাথ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাই গিরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি ও গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছেলে। সেদিক থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কাকা (চাচা)। রবীন্দ্রনাথের অণুপ্রেরণায় তার লেখালেখির শুরু।

পিতামহ ও বাবা ছিলেন একাডেমিক নিয়মের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের শিল্পী। এ সুবাদে শৈশবেই চিত্রকলার আবহে বেড়ে ওঠেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৮৮১ থেকে ৮৯ পর্যন্ত সংস্কৃত কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৮৮৯ সালেই সুহাসিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৯০ সালে গড়া রবীন্দ্রনাথের ‘খামখেয়ালি সভা’র সদস্য হয়ে তিনি কবিতা পড়েছেন, নাটক করেছেন।

১৮৯৬ সালে কোলকাতা আর্ট স্কুলের সহকারী অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম এই মর্যাদা লাভ করেন। ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জ ও রানী মেরি ভারত ভ্রমণে এলে আর্ট গ্যলারি পরিদর্শনের সময় তাদের ওরিয়েন্টাল আর্ট সম্পর্কে বোঝাবার দায়িত্ব পান।

১৯১৩ সালে লন্ডনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে সিআইই উপাধি লাভ করেন। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট প্রদান করে ১৯২১ সালে। ১৯৪২ সালে শিল্পীপত্নীর মৃত্যু হয়। ১৯৪১ থেকে ৪৫ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর আচার্য রূপে দায়িত্ব পালন করেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

চিত্র সাধনা
অবনীন্দ্রনাথের চিত্রকলার পাঠ শুরু হয় তৎকালীন আর্টস্কুলের শিক্ষক ইতালীয় শিল্পী গিলার্ডির কাছে। তার কাছে ড্রয়িং, প্যাস্টেল ও জলরং শেখেন অবনীন্দ্রনাথ। পরবর্তীতে ইংরেজশিল্পী সিএলপামারের কাছে লাইফ স্টাডি, তেলরং ইত্যাদি শিক্ষা অর্জন করেন। ভারতীয় রীতিতে তার আঁকা প্রথম চিত্রাবলি ‘কৃষ্ণলীলা-সংক্রান্ত’। এই রীতি অনুসারী চিত্রশিল্পের তিনি নব জন্মদাতা। ১৮৯৫ সালের দিকে অবনীন্দ্রনাথ প্রথম নিরীক্ষা শুরু করেন। ১৮৯৭ সালে আঁকলেন শুক্লাভিসার- রাধার ছবি মাঝে রেখে উৎকীর্ণ কবি গোবিন্দ দাসের পঙক্তিমালা, যা ছিল পাশ্চাত্য নিয়মের সঙ্গে ভারতীয় রীতির নবতর সংশ্লেষণ, যোজন বিয়োজন।

১৯০০ সালে কোলকাতা আর্ট স্কুলে কৃষ্ণলীলা সিরিজ প্রদর্শিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে ইবি হ্যাভেলের উদ্যোগে লর্ড কার্জনের দিল্লি দরবারে আরো দুটি প্রদর্শনী এবং লন্ডনের ‘স্টুডিও’ পত্রিকায় চিত্রালোচনা প্রকাশিত হলে অবনীন্দ্রনাথ সম্পর্কে শিল্পরসিকদের মধ্যে আগ্রহের জন্ম হয়। তার শাজাহানের অন্তিমকাল মোঘল মিনিয়েচারের এক লোকায়ত নিরীক্ষা,যেখানে শাজাহানের অন্তিম সারবত্তা করুণ রসের। ক্রমান্বয়ে আঁকলেন বুদ্ধ ও সুজাতা (১৯০১), কালীদাসের ঋতুসঙ্ঘার বিষয়ক চিত্রকলা (১৯০১), চতুর্ভূজা ভারতমাতা (১৯০৫), কচদেবযানি (১৯০৬), শেষযাত্রা (১৯১৪)।

জাপানি প্রভাবে অবনীন্দ্রনাথ আঁকেন তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ওমর খৈয়াম (১৯৩০) চিত্রাবলি। চিত্রসাধনের শেষ পর্যায়ে অবনীন্দ্রনাথের শিল্পচিন্তা নতুন মাত্রা লাভ করে। গড়ে তোলেন কুটুম কাটাম – আকারনিষ্ঠ এক বিমূর্ত রূপসৃষ্টি।

সাহিত্য সাধনা
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা আনুমানিক ২৬। গল্প, কবিতা, চিঠিপত্র, শিল্পআলোচনা, যাত্রাপালা, পুঁথি, স্মৃতিকথা সব মিলিয়ে প্রকাশিত রচনা সংখ্যা প্রায় তিনশ ৭০টি।

কাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুপ্রেরণায় লেখালেখির শুরু। কবিগুরু ‘বাল্য গ্রন্থাবলী’র কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে বলেছিলেন, ‘ছোটদের পড়বার মত বই বাংলাভাষায় বিশেষ নেই। এ অভাব আমাদের ঘোচাতে হবে। তুমি লেখ।’

অবনীন্দ্রনাথের প্রথম প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল ‘নবযুগ’পত্রে ১৩১১ শ্রাবণে, ‘নবদুর্ব্বা’ নামে। রানী বাগেশ্বরী অধ্যাপক থাকার সময় ১৯২১-১৯২৯ সালের মধ্যে যে ২৯টি বক্তৃতা দিয়েছিলেন, সেগুলি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪১ সালে ‘বাগেশ্বরীশিল্প প্রবন্ধাবলী’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বাংলা ভাষায় লিখিত ভারতীয় নন্দনতত্ত্বের একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে যা বিবেচিত হয়।

চিত্রকলায় ধারাবাহিকতায় লেখালেখির জগতেও আপন ঐতিহ্যের অনুরাগী ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। তিনি বেশকিছু যাত্রাপালা ও পুঁথি রচনা করেন, যার মধ্যে ‘অরণ্যকান্ত পালা’ কঞ্জুশের পালা, কাক ও পানির পালা, ঋষিযাত্রা, মারুতির পুথী, চাইবুড়োর পুথি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

১৯৫১ সালে ৫ ডিসেম্বর অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: