২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

লালমনিরহাটে ব্রিজ, রাবার ড্যাম ও বাঁধ হুমকিতে


০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ বুধবার, ১১:০১  এএম

লালমনিরহাট করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


লালমনিরহাটে ব্রিজ, রাবার ড্যাম ও বাঁধ হুমকিতে

লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ও খাল-বিলগুলোতে ৬ সিলিন্ডারযুক্ত অর্ধশতাধিক শ্যালো মেশিন (বোমা) দিয়ে অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ফলে ভাঙন হুমকিতে পড়েছে ব্রিজ, রাবার ড্যাম, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অসংখ্য বসতবাড়ি। অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজ ও ব্যবসা প্রকাশ্যে চললেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

জানা যায়, জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কাসিরাম, ককিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা, দইখাওয়া, ফকিরপাড়া, পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা, মির্জার কোর্ট, নবীনগর এলাকায় ৬ সিলিন্ডারযুক্ত অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন দিয়ে অবাধে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে ওই এলাকাগুলোর রাস্তা-ঘাটসহ অসংখ্য বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান নদীতে ব্রিজ ও রাবার ড্যামের দুই পাশে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু ও পাথর তোলা হচ্ছে। ফলে ওই বোমা মেশিনের ৫০ মিটার পাশে অবস্থিত সানিয়াজান ব্রিজ ও রাবার ড্যাম হুমকির মুখে পড়েছে।

বোমা মেশিন দিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক আনোয়ার হোসেন জানান, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর এলাকার আব্দুল্লাহ বেশকিছু দিন ধরে ওই এলাকায় পাথর ও বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সানিয়াজান নদীতে ব্রিজের পাশে একটি রাবার ড্যাম তৈরি করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

ওই রাবার ড্যামের পাশেই বসানো হয়েছে ২টি ‘বোমা’ মেশিন। মেশিন দুটির মালিক নিজ শেখ সুন্দর গ্রামের আফজাল আলী ও পশ্চিম সারডুবি গ্রামের জামাত আলী। ওইসব মেশিন দিয়ে দেড় মাস ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সুযোগ পেলে তারা পাথর উত্তোলনও করছে। তবে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মেশিন মালিক আফজাল আলী ও জামাত আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তা নদীর বাম তীরে ব্লক পেসিং দিয়ে বাঁধ তৈরি করে। বন্যায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাঁধের পাশেই বর্তমানে ‘বোমা’ মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। পাথর শ্রমিকরা জানান, ওই বোমা মেশিনের মালিক গড্ডিমারী এলাকার শাহ আলম।

মেশিন মালিক শাহ আলম বলেন, বাঁধের আড়াই শ’ মিটার দূর থেকে মেশিন বসিয়ে বালু তুলছি। এতে বাঁধের কোনো সমস্যা হবে না। পাথর নয়, আমি শুধু বালু তুলে প্রতি সিএফটি ২ টাকা ৩০ পয়সা দরে বিক্রি করছি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, বালু ও পাথর উত্তোলনকারীদের সঙ্গে স্থানীয় দোয়ানি ব্যারাজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাকের বেশ সখ্য রয়েছে। পুলিশের ওই কর্মকর্তা অবৈধ সুবিধা নিয়ে বোমা মেশিনের মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছেন। এদিকে পাথর ও বালু উত্তোলনের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবির অভিযোগ এনে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রাজন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে দোয়ানি ব্যারাজ পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। আমি নিয়মিত বোমা মেশিন বন্ধে অভিযান চালাচ্ছি। কতিপয় ব্যক্তি বোমা মেশিন বসাতে না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার জানান, ব্রিজ ও রাবার ড্যামের পাশে বোমা মেশিনের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন বন্ধে তিনি ইতোমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: