১ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ১৬ জুলাই ২০১৮, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

লম্বা ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত রাঙ্গামাটি


৩০ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ১০:২০  এএম

নতুনসময়.কম


লম্বা ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত রাঙ্গামাটি

সারাবছরই রাঙ্গামাটিতে কমবেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে বছরের এ সময়টাতে আনাগোনা একটু কম থাকে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটি পেয়ে হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙ্গামাটিতে ছুটে আসছেন পর্যটকরা।

রাঙ্গামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পর্যটকদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে উঠছে রাঙ্গামাটি শহর। পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলে অগ্রিম বুকিংও রয়েছে।

সাধারণত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময়কে রাঙ্গামাটিতে পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময় প্রচুর পর্যটক রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করেন। তবে এবার ঈদের পূর্বে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি ছুটির কারণে পর্যটকরা এই সময়েও রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে আসছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা থেকে পরিবারসহ আসা সাহাব উদ্দিন বলেন, আমরা স্বামী ও স্ত্রী দুইজনেই চাকরি করি। তাই বেড়ানোর তেমন একটা সময় পাই না বললেই চলে। তবে এবার আমরা প্রায় একটি সপ্তাহ বন্ধ পেয়েছি। মাঝখানে একটি দিন অফিস ডে রয়েছে। কিন্তু যে সময়টুকু বন্ধ পেয়েছি তাতে ঘুরার একটা সময় বের হয়ে গেলো। তাই দুজনে চলে এসেছি।

সিলেট থেকে আসা বেনু সূত্রধর বলেন, রাঙ্গামাটি অনেক সুন্দর, অপরূপ তার চারপাশের পরিবেশ। আকাশ, হ্রদ আর পাহাড়ের এক মিলন মেলা এ রাঙ্গামাটিতে। আমি প্রায় বেশ কয়েকবার এসেছি রাঙ্গামাটিতে। এমনকি ২০১১ সালে হানিমুনও করেছিলাম এখানে। এবার টানা ছুটি পেলাম তাই ফের চলে এলাম হ্রদ-পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করতে।

তবে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্ধ অনুযায়ী যে হারে পর্যটক আসে কিংবা বুকিং থাকে সেই হিসেবে পর্যটক আসেনি।

শহরের থ্রি-স্টার মানের হোটেল নাদিশার ম্যানেজার মো. জাহেদ জানান, সারা বছরই রাঙামাটিতে পর্যটক কমবেশি থাকে। এবার টানা ছুটিতে যে হারে পর্যটক আসা করেছিলাম সেই হারে পর্যটক আসছে না। অগ্রিম বুকিং আছে তবে তা তুলনামূলক কম। আশা করছি রোববারের পর কিছুটা বাড়তে পারে।

হোটেল হিল পার্কের ব্যবস্থাপক স্বপন শীল বলেন, বছরের এই দিনটাতে রাঙ্গামাটিতে পর্যটক তেমন থাকে না। কিন্তু ঈদের আগে টানা এক সপ্তাহ বন্ধ থাকায় পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে কিছু রুম বুকিং হয়ে গেছে, আশা করছি আর কয়েকদিনে শতভাগ বুকিং হবে।

পর্যটন বোট ঘাট ইজারাদার রমজান আলী বলেন, রাঙ্গামাটিতে হঠাৎ পর্যটক আসা শুরু করেছে। টানা বন্ধ পাওয়ার কারণে পর্যটকরা আসছে। আমাদের সব ধরনের বোট প্রস্তুত রয়েছে। আমরা পর্যটকদেরকে কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, মেজাং, পেদা টিং টিং, পাহাড়ি গ্রামসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করাতে প্রস্তুত।

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশন ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের হোটেলের প্রায় রুম বুকিং রয়েছে। বাকি রুমগুলো আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে। ঈদের ছুটির আগে প্রায় সপ্তাহব্যাপী একটা ছুটি পাওয়ার কারণে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। আশা করছি ভালো পর্যটকের দেখা মিলবে। পর্যটকদের সার্বিক সেবা প্রদানে পর্যটন করপোরেশন প্রস্তুত বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

রাঙ্গামাটির পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- রাঙ্গামাটির সিম্বল খ্যাত ঝুলন্ত সেতু, রাঙ্গামাটি ৩০৫ পদাতিক ডিভিশনের অধীন আরণ্যক রিসোর্ট, পুলিশ পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এলাকা, সুবলং ঝর্ণা, টুকটুক ইকো ভিলেজ।

পিডি

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: