৬ বৈশাখ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

রাজধানীর বিহারীদের ভাগ্য লুটে খাচ্ছে কামাল


০৯ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:১৫  পিএম

নতুনসময়.কম


রাজধানীর বিহারীদের ভাগ্য লুটে খাচ্ছে কামাল

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জোন বি মার্কেট ক্যাম্পের বিহারীদের ‘ভাগ্য’ লুটে খাচ্ছেন কামাল উদ্দিন। তিনি এই ক্যাম্পের ইনচার্জ।

বিনামূলে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ সরকারের দেয়া নানা সুবিধা থেকে বিহারীদের বঞ্চিত করে মাসে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

বিহারীদের জন্য বিদ্যুৎ সর্ম্পূণ ফ্রি থাকলেও জোন বি মার্কেট বিহারী ক্যাম্প এলাকার বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসসহ কয়েকশ দোকানে অবৈধভাবে বিদ্যুতের লাইন দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কামাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা।

মোহাম্মাদপুরের জোন বি মার্কেট ক্যাম্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পের আশপাশে রয়েছে বিশ্বাস প্রিন্টিং প্রেস, খান জাহান পিন্টিং প্রেস, এশিয়া পিন্টিং প্রেস, সাথী পিন্টিং প্রেস, যমুনা পিন্টিং প্রেস, মদিনা পিন্টিং প্রেস, মুক্তা পিন্টিং প্রেস, ফার্নিচার ডিজাইন ঘর, আটা মিলসহ বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন কেন্দ্র ও দোকান। এর অধিকাংশ দোকানেই ভারী মেশিন ব্যবহার করা হয়। এসব ভারী মেশিন চলছে ক্যাম্পের বিদ্যুতে। যার অবৈধ সংযোগ দিয়েছেন কামাল উদ্দিন। এতে তার মাসে আয় কয়েক লাখ টাকা।

ক্যাম্পের প্রতিটি রুমে বিনামূলে একটি লাইট, একটি ফ্যান ও একটি টেলিভিশন ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও সাধারণ বিহারীদের কেউ-ই অর্থ ছাড়া এ সুবিধা পাচ্ছেন না। সেসঙ্গে কাউকে তোয়াক্কা না করে ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে চলছেন কামাল।

ডেসকোর রিপোর্ট বলছে, ঢাকার ক্যাম্পগুলোর ২৯ কোটি টাকার অধিক বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। এ অর্থ আদায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে এক সভার আহ্বান করেছে ডেসকো। ডেসকো বলছে, এভাবে ভারী মেশিন ব্যবহারেই এতো বিল জমেছে।

কামালের বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। বয়সের এ পর্যায়ে এসেও একেরপর এক অপকর্ম করে যাচ্ছেন তিনি। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মার্কেট ক্যাম্পের বিহারীরা অনেকটাই কামালের কাছে জিম্মি। অনেক বিহারী কামালের নির্যাতনের ভয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন ক্যাম্পের বাইরের কোনো স্থানে। ক্যাম্পের ভেতরে কেউ ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হলে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয় কামালকে।

ক্যাম্পের যুবক শমসের আলী মাস দুয়েক আগে নিজের দোকান-ঘর সংস্কার করতে চাইলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন কামাল।

শমসের আলী নতুন সময়কে জানান, চাঁদার অর্থ দিতে না পারায় তার বাড়ি নির্মাণ কাজ আটকে দেন কামাল। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবেন বলে হুমকিও দেন ক্যাম্পের এই প্রভাবশালী নেতা। এই হুমকির পর নিরাপত্তার স্বার্থে মোহাম্মাদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি।

১৯৭১ সালের পর থেকেই সরকার অবাঙালি (বিহারী) ক্যাম্পগুলোতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিয়ে আসছে। প্রায় ১০ বছর ধরে মার্কেট ক্যাম্পবাসীর কাছ থেকে ২০০-২০০০ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আদায় করে নিচ্ছেন ক্যাম্প ইনচার্জ কামাল উদ্দিন। শুধু তাই নয়, আজকাল মসজিদ নির্মাণের নামেও চলছে তার জোরপূর্বক চাঁদাবাজি।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট বিহারী ক্যাম্পে কামাল উদ্দিনের মাদক ব্যবসা ‘ওপেন সিক্রেট’। এলাকায় তাকে মাদক সম্রাট হিসেবে সবাই চেনেন। তার সহযোগী গোলাম জিলানীকে গত জানুয়ারিতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে মামলাও হয়। কিন্তু ধূর্ত কামাল উদ্দিন কৌশলে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখেন।

এখনও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট ক্যাম্প ও জেনেভা বিহারীদের ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইয়াবা সাজু নামে কামাল উদ্দিনের ছেলে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। ওই সাজু সন্ত্রাসী বাহিনীর সাহায্যে নিরীহ লোকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।

মাদক সম্রাট কামাল উদ্দিন এখন কৃষি মার্কেট বিহারী ক্যাম্পের অঘোষিত রাজা। সেখানে চলছে তার শাসন। রাজউক ও সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়াই নিজের জন্য যেমন পাঁচতলা ভবন গড়ে তুলেছেন, তেমনি অন্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরও বহুতল ভবন নির্মাণে সুযোগ করে দিচ্ছেন। বর্তমানে কামাল উদ্দিন জেলা প্রশাসকের আদেশের তোয়াক্কা না করেই কৃষি মার্কেট ক্যাম্প মসজিদ বায়তুল সালামের কমিটি দখল করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। নিজে কমিটির সভাপতি।

কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মসজিদের নামে বিনা রশিদে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলে আত্মসাৎ করছেন তিনি। এমনকি মসজিদের জায়গায় দোকান নির্মাণ করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ক্যাম্পের (জোন-বি) বাসিন্দারা এখন কামালউদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে পুরোপুরি জিম্মি। অবাধে চলছে অবৈধ আর অসামাজিক কর্মকাণ্ড।

কামাল উদ্দিনের ছত্রছায়ায় ক্যাম্পের ভেতরে কালা মিঠুন, হাদ্দাকি সাব্বির, বাবা মহিউদ্দিন, সরফু, হাসমতের বউ, মচিয়াল, ইয়াবা মনির, তুষারের মতো চিহ্নিত অপরাধীরা প্রকাশ্যেই ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাদের ব্যবসা থেকে নিয়মিত বখরা নিচ্ছে কামাল। এদের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা কামালের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চান।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: