১৬ চৈত্র ১৪২৩, বৃহস্পতিবার ৩০ মার্চ ২০১৭, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo
Rifats Dental Implant Laser Cosmetic Care
Patbhavon

রাজধানীতে এ কোন রক্ত নদী!


১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার, ০৩:৩৩  পিএম

নতুনসময়.কম


রাজধানীতে এ কোন রক্ত নদী!

গত সপ্তাহে রাশিয়ার ভূখণ্ডভুক্ত উত্তর মেরু অঞ্চলে নরিলস্ক নিকেল শিল্প এলাকার কাছে দালদিয়ান নামের একটি নদীর পানি রক্তের মতো লাল হয়ে যাওয়ার ওপরে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। তখন শুধু প্রতিবেদনের জন্যই সেটা দিয়েছিলাম। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচালে সেটা শুধুই ছিল একটা নিউজ।

রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব

আজ ঈদের দিন মঙ্গলবার খোদ বাংলাদেশের রাজধানীর রাজপথ, অলিগলি, এমনকি কোরবানির জন্য রাখা নির্দিষ্ট জায়গাগুলোও বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এর মধ্যেই বৃষ্টিতে ভিজে পশু জবাই করতে হয়েছে। আর পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে রাজধানীর কোথাও কোথাও ‘রক্তনদী’র রূপ ধারণ করে। রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব হয়ে যায় রাজপথ। নিজের চোখের সামনেই দেখলাম রাজধানীর এক অন্যরকম রক্ত নদী।   

ঈদের দিন মঙ্গলবার বৃষ্টির আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল আবহাওয়া অধিদফতর। সেই আভাসই সত্যি হলো। ঈদে দিন সকালেই বৃষ্টি নামে মুষলধারে। ভিজে ভিজে জামাতে অংশ নেন মুসল্লিরা।

রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব

এর মূল কারণ রাজধানীর ড্রেনেজগুলো ময়লা আর আবর্জনায় আটকে থাকায় পানি নামছিল না সহসাই। রক্তাক্ত পানি জমে যায় যেখানে সেখানে।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, মানুষ অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। সিটি করপোরেশনের পলিব্যাগে বর্জ্য ভরে রেখে দিয়েছেন। নিজেরা রক্ত পরিষ্কার করেছেন। শহর এখনই অনেক বেশি পরিষ্কার লাগছে। আশা করছি, ৪৮ ঘণ্টার অনেক আগেই বর্জ্য পরিষ্কার হয়ে যাবে।

রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব

সরেজমিনে পুরনো ঢাকার বকসি বাজার, হোসনি দালাল, যাত্রাবাড়ী, কাঠালবাগান, শান্তিনগর, শান্তিবাগ, মিরপুরের কোনো কোনো সড়কে, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন স্থানের সড়কে রক্তাক্ত পানি দেখা গেছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, এবারের কোরবানি ঈদে প্রায় ২০ হাজার টন বর্জ্য হবে। উত্তরের অধিবাসীদের বর্জ্য অপসারণের সুবিধার্থে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুই লাখ পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার পলিথিন ও চটের ব্যাগ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু কোরবানির জন্য হাজার খানেক জায়গাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত জায়গাগুলোর বেশির ভাগই ছিল খালি। সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি ও দূরত্বকেই এসব জায়গায় না যাওয়ার কারণ বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। তারা আগের মতোই বাসার গ্যারেজ, খালি জায়গা, রাস্তা ও গলিতে পশু কোরবানি দেন।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত খোলায় ময়দানে নামাজ হতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। ফলে মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত সরিয়ে নেয়া হয়। ঢাকার বাইরেও কয়েকটি স্থানে ঈদের আনন্দে বৃষ্টির বাগড়া দেয়ার খবর এসেছে।

রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব

ঈদ জামাত শেষেই সবাই ব‌্যস্ত হয়ে পড়েছেন পশু কোরবানির তোড়জোড়ে। তবে বৃষ্টির কারণে এই নিয়ে সমস‌্যায় পড়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। পশুর বর্জ‌্য যাতে পরিবেশ দূষণ না ঘটায়, সে দিকে সবাইকে মনোযোগ রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সম্পর্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিনগরের জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।

রক্তাক্ত পানিতে সয়লাব

তিনি অারো বলেন, ‘ঈদের দিন দ্রুত সমস্যা সমাধানে মানিকনগরে ওয়াসার পাম্প চালু করা হয়েছে। আশা করি শিগগিরেই পানি নেমে যাবে।’

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের ওপর বেশ জোর দিয়েছে বিভিন্ন নগরীর কর্তৃপক্ষ। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪৮ ঘণ্টার মধ‌্যে বর্জ‌্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বর্জ‌্য অপসারণে দুই সিটি কর্পোরেশনে ১০ হাজার ৫৪৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন:

* উত্তর সিটির ৭০ ভাগ বর্জ‌্য পরিষ্কার

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: