৪ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

মুগদা-কমলাপুর ওভারপাস যেন মরণফাঁদ


০৯ অক্টোবর ২০১৭ সোমবার, ১১:১৯  এএম

সালেহউদ্দিন সোহেল

নতুনসময়.কম


মুগদা-কমলাপুর ওভারপাস যেন মরণফাঁদ

‘ভিড়ের মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থী ও লোকজনের পা ঢুকে যায় ওভারপাসের (ফুট ওভার ব্রিজ) স্টিলের তৈরি পাটাতনের ভাঙা অংশে। কেউ আছড়ে পড়েন। বলা চলে, প্রতিদিনই ঘটে এ ধরনের ছোটবড় দুর্ঘটনা। গত পাঁচ বছর ধরে এমন ভোগান্তি এই ওভারপাস চলাচলে। এ কথাগুলো বলছিলেন কমলাপুর রেলওয়ে ওভারপাসের ভ্রাম্যমাণ সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর।

রোববার ওভারপাসের ওপর বসে এ কথাগুলো বলেন তিনি।

রাজধানীর মুগদা থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনগামী ওভারপাসটির স্টিল পাটাতনের ব্যাপক অংশে ঝালাই ক্ষয়ে এবং ভেঙে তৈরি হয়েছে যেন এক মরণফাঁদ। এই ওভারপাস ব্যবহারকারীরা চলাচলের সময় থাকেন শঙ্কায়। আর এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার।

রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, মাণ্ডা ও সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের দ্রুত ও সহজ চলাচলের মাধ্যম মুগদা- কমলাপুরের অতি পুরনো ওভারপাসটি।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ওভারপাসটির মুগদার অংশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসির) ও বাকি অংশটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নির্মিত হয়। ডিএসসিসি’র তৈরি অংশের সঙ্গে রেলওয়ে ওভারপাসের সংযোগ অংশের পাটাতন প্লেটের ঝালাই খুলে গেছে বছর পাঁচেক আগেই। খুলে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় আবার প্লেট ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। মাঝে মাঝে সিটি কর্পোরেশন ঝালাই দিলেও ঝালাই বেশিদিন টেকে না। ফলে, বর্তমানে বেশ কয়েকটি অংশ জুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত, যেখানে পা পড়লে একজন মানুষ মুহূর্তেই নিচে পড়ে যাবেন। সে কারণে, স্থানীয়রা বড় ফাটল অংশে পাথরের বড় ঢালাই খণ্ড বসিয়েছেন। কিন্তু এতেও বেড়েছে আরেক ভোগান্তি। ভিড়ের মধ্য হোঁচট খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন অনেক চলাচলকারী।

কথা হয়, ওভারপাস দিয়ে প্রতিদিন পার হওয়া চলাচলকারী লুবনা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বাচ্চাটা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে পড়ে। প্রতিদিন এই পথ ধরে যাতায়াত করি। কিন্তু, এই ওভারপাসে ভিড়ের মধ্যে ভাঙা অংশ খেয়াল করে হাঁটা কঠিন একটা কাজ।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন আগে আমার সন্তানের পা আটকে গেছে এই ভাঙা অংশে। তাই, অনেক খেয়াল করে হাঁটার চেষ্টা করি এখন। এপথ ছাড়া আমাদের দ্রুত পারাপারের বিকল্প রাস্তাও নেই। সে কারণে এই পথ পার হতে হয় আমাদের।

কথা হয়, ওভারপাসের ভাঙার অংশের কাছেই বসা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী আকরামের সঙ্গে। জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আমি গত এক বছর এখানে বসে টুকরিতে করে মশার কয়েল বিক্রি করি। প্রতিদিন এখানে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখি। অনেকে হোঁচট খায় ভাঙা অংশ ঢেকে রাখা ঢালাইয়ের সঙ্গে। আবার ছোট ছোট ফাঁকে অনেকের পা আটকে যেতে দেখি। বিশেষ করে সকালে অফিস খোলার দিন সকাল-বিকেল কয়েক হাজার মানুষ পার হয় এই ওভারপাস দিয়ে। ভিড়ের মধ্যে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান এই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (অঞ্চল-২) নির্বাহী প্রকোশলী হানিফ পাটোয়ারী নতুন সময়কে বলেন, আমিও প্রায়শ এই বিষয়ে অভিযোগ শুনি। আমরা এসব সংস্কার কাজ দরপত্র আহ্বান করে থাকি। তবে এটা চলমান প্রক্রিয়া। খুব শিগগিরই আমরা এই ওভারপাসের সংস্কারের পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে ওভারপাসটি সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করা যাবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: