৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, বুধবার ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩:০৪ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

মানুষ তত্ত্ব যার সত্য হয় মনে


২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার, ০৮:১৩  পিএম

ময়নুর রহমান বাবুল

নতুনসময়.কম


মানুষ তত্ত্ব যার সত্য হয় মনে

সেদিন সন্ধ্যায় সমবায় সমিতির কার্য্যালয় ঘরে বসে আছি। সেখানে অনেকেই আসছে, যাচ্ছে। এরই মধ্যে হন হন করে এসে ঘরে ঢুকলো প্রশান্ত’দা। অনিল’দার মায়ের খবর জানতে চাইলেই প্রশান্ত’দা হাউ মাউ করে কেঁদে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি তাকে শান্ত করার চেষ্ঠা করলাম।

প্রশান্ত’দা তখন আমাকে তাড়া দিতে শুরু করলো। তার সাথে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। আমিও আর চূড়ান্ত খবরটা কি, তা জানতে চাইনি। যাবই যখন তখন এখানে প্রশান্তদার কাছ থেকে যেনে বা শোনে কি লাভ? নিজের চোখেইতো দেখবো।

অধিক দীর্ঘ পথ কত দ্রুত যে পাড়ি দিলাম কে জানে। যখন গিয়ে পৌঁছলাম তখন শবদেহ নিয়ে সবাই শ্মশান ঘাঠে রওয়ানা দিয়েছে। সেই শবযাত্রায় আমি আর প্রশান্তদাও যোগ দিলাম।

শ্মশান ঘাঠে অনিলদার মায়ের সেই নিস্তেজ শীতল দেহখানা সাদা কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। শেষকৃত্বের সকল প্রস্তুতি আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। আমাকে সেখানে ডাকা হলো। আমি কাছে যেতেই মায়ের ছোট-বোনের স্বামী অর্থ্যাৎ অনিলদার ছোট মেসোমশাই একটা জ্বলন্ত আগুনের মশাল আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন- তুমিই তার সন্তান, তুমিই তার মুখাগ্নি কর...

ছোট মেসোমশাই আমাকে কতটুকু জানেন বা চিনেন আমি তা জানি না, অন্য ধর্মাবলম্বী হিসাবে মুখাগ্নি করা আমার জন্য কতটুকু ধর্মসম্মত তাৎক্ষণিক সে চিন্তা বা বিচার আমি করবো কি, আমারতো নিজের ধর্মের গোত্রের কথাটাই তখন বেদম মনে ছিল না। সামনে তখন মায়ের লাশ। ছোট মেসোমশাই হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন মুখাগ্নির মশাল। আমার চেতনায় কর্তব্য আর দায়িত্ব পালনের প্রচণ্ড তাগিদ...। ঠাকুর তখন গুনগুনিয়ে কি মন্ত্র পড়ছেন তা আমার কান পর্যন্ত স্পষ্টভাবে গিয়ে পৌঁছেনি। আমার মনের বিড়বিড় করে আওড়ানো লালনের কথাগুলোই যেন মন্ত্রের মতো মনে হতে লাগলো-

মানুষ তত্ত্ব যার সত্য হয় মনে
সে কি অন্য তত্ত্ব মানে... ...

কথাগুলোই যেন আমি শুনছি আর মন্ত্রমুগ্ধের মতো মা’র লাশকে কেন্দ্রকরে ঘুরছি...। আমার মায়ের আর অনিল’দার মায়ের শিখানো আচরণ আর শিক্ষা, এমুহূর্তে অনিল’দার মায়ের লাশ আমার সামনে, ক’য়েক

বছর আগে আমার নিজের মা’য়ের লাশও আমি গোর কাফন করেছিলাম... ...

ব্রাম্মণ ঠাকুরের ইশারায় ছোট মেসোমশাই আমাকে মায়ের মুখাগ্নিতে তাড়া দেন...।

লেখকের দ্বৈমাতুর-এর শেষাংশ

[সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত] 

https://www.facebook.com/HumaneFirst/ 

 

আরো পড়ুন 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: