৩ পৌষ ১৪২৪, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

মানুষের শরীরের প্রোটিন গান গাইতে পারে...


১৯ জুন ২০১৭ সোমবার, ১১:৫৩  এএম

নতুনসময়.কম


মানুষের শরীরের প্রোটিন গান গাইতে পারে...

গান গাইতে পারে প্রোটিনও! রং-বেরঙের তালে, ছন্দে, সুরে। রংধনুর নানা রঙের নানা রাগে। অনুরাগে।

প্রোটিনের গান গাওয়ার সেই চমকে দেওয়া গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘হেলিয়ন’-এ। এর শিরোনাম- ‘মেলোডি ডিসক্রিমিনেশন অ্যান্ড প্রোটিন ফোল্ড ক্লাসিফিকেশন’। মূল গবেষক ব্রিটেনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের বায়োইনফর্মেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট বাইওয়াটার ও আমেরিকার ইস্টার্ন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ, মিউজিক কম্পোজার জোনাথন মিডলটন।

নানা প্রোটিনের গানের সুর ধরে অনেক জটিল অসুখের নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কারের কাজ করা যাবে। এ কারণে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে।

আমাদের শরীরে প্রোটিন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন
আমাদের শরীরের যেমন কার্বোহাইড্রেট লাগে, ফ্যাট লাগে, তেমনই লাগে প্রোটিন, যা আদতে একটি জৈবযৌগ (অরগ্যানিক কম্পাউন্ড)। কিন্তু যেটা অনেকেরই জানা নেই, তা হলো- আমাদের শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে প্রোটিনই।

প্রোটিন ঠিকঠাকভাবে শারীরিক কার্যকলাপকে চালিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে চালানোই হোক বা শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার হামলা রুখে দেওয়া, সব কাজই আদতে করে প্রোটিন। আর আলাদা আলাদাভাবে সেই প্রোটিনগুলিকে ‘রিমোট কন্ট্রোলে’ চালায় আমাদের শরীরের আলাদা আলাদা জিন। কোনো ওযুধকে শরীরে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে প্রোটিন। এমন বহু দৃষ্টান্তও আছে, যেখানে প্রোটিনই কোনো ওষুধকে অকেজো করে দিতে। হাজারও প্রোটিনের আচার-আচরণ বুঝে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেন।

ইস্টার্ন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ জোনাথন মিডলটন বলেছেন, দেখার চেয়ে গান শুনেই হাজারও প্রোটিনের জটিল রহস্যের জাল কেটে ফেলার কাজটা অনেক সহজ হবে। আর সব কাজই বা চোখকে করতে হবে কেন? কান যদি কিছু কিছু কাজ শেয়ার করতে পারে, অনায়াসে করে দিতে পারে, তা হলে চোখ দিয়ে আমরা অন্য কাজগুলি করতে পারি, যেগুলি কানে শুনে হয় না।

ব্রিটেনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের বায়োইনফর্ম্যাটিক্স বিভাগের অধ্যাপক বাইওয়াটা বলেন, কোন প্রোটিনের চেহারা কেমন, বড় না ছোট, তা ভারী না হাল্কা, তার শরীরের অণুগুলি কীভাবে সাজানো (গঠনসজ্জা) বা তাদের ভাঁজগুলি কেমন, কীভাবে সাজানো আছে, প্রোটিনগুলির শরীর, সেই তথ্যগুলিকে (ডেটা) সুরে, তালে, ছন্দে বদলে ফেলতে পেরেছি আমরা। প্রোটিনগুলির শরীর আর তাদের আলাদা আলাদা আচার-আচরণ নতুন নতুন সুর, তাল, ছন্দের জন্ম দিতে পেরেছে। এটা একটা অভূতপূর্ব ঘটনা।

গবেষকরা আসলে তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেতে চেয়েছিলেন। প্রথমত, প্রতিটি প্রোটিনের চেহারা, চরিত্র, আচার-আচরণের বৈচিত্র্য নিয়ে আলাদা আলাদা সুর, তাল, ছন্দের জন্ম দেওয়া সম্ভব হলে, তা শুনতে কেমন লাগে!

দ্বিতীয়ত, সেই আলাদা আলাদা সুর, তাল, ছন্দের ‘পথ’ ধরে প্রোটিনগুলির মতিগতি, চালচলন ঠিকঠাকভাবে বোঝা যায় কি!

তৃতীয়ত, প্রোটিনগুলির গাওয়া গানের সেই আলাদা আলাদা সুর, তাল, ছন্দ তাদের চেহারা, চরিত্র, মতিগতি, চালচলনের ফারাকটাকে সত্যি-সত্যিই ফুটিয়ে তুলতে পারে কি? পারে কি সে সব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে!

গবেষকরা তাঁদের ‘সোনিফিকেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে যেটা করেছেন, তা হলো- প্রোটিনের চেহারা, চরিত্র, চালচলন, মতিগতি সম্পর্কে যে তথ্যগুলি এতদিন সারণীতে (টেবিল) সাজিয়ে রাখতেন, গ্রাফ এঁকে বুঝতে চাইতেন, তাদের আদবকায়দার ফারাকটা আর সেই সব তথ্যের ভিত্তিতে কম্পিউটার সিম্যুলেশন করে প্রোটিনগুলির শরীরে ‘লুকিয়ে থাকা’ যাবতীয় রহস্যের জট খোলার চেষ্টা করতেন, সেই তথ্যগুলি দিয়েই প্রোটিনদের গাওয়া গানের সুরের ভিতটা, সা রে গা মা পা... তৈরি করেছেন।

একজন সুরকার যেমন তাঁর পছন্দমতো রাগে বা সুরে কথাগুলিকে বসিয়ে নিয়ে গান বাঁধেন, ঠিক তেমনই ওই ভিন্ন ভিন্ন সুর, তাল, ছন্দে গান গেয়ে প্রোটিনগুলি এবার আমাদের বুঝিয়ে দিতে পারবে একে অপরের থেকে তারা কোথায় কোথায় আলাদা, কেন ও কীভাবে তারা এক এক রকমের।

মূল গবেষক বাইওয়াটারের কথায়, প্রোটিনের গাওয়া গানের সুরগুলিও দারুণ দারুণ সব মেলোডি, যা শুনতে খুব ভালো লাগে। অসম্ভব সুরেলা। শুনতে ভালো লাগে বলে বিজ্ঞানী, গবেষকরা সেই সব সুর বারবার শুনতে চাইবেন। আর বারবার শুনলে প্রোটিনগুলির ফারাক বোঝার কাজটাও তাঁদের অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমরা সেই ‘সোনিফিকেশন’টা করেছি, একটা ওয়েব-বেসড সফটওয়্যার ‘মিউজিক্যালগরিদ্মস’ দিয়ে।’’

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: