৮ কার্তিক ১৪২৪, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১২:১২ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

মাছের পানিতে ডুবে আছে সড়ক


২৮ নভেম্বর ২০১৬ সোমবার, ১২:০৩  পিএম

নতুনসময়.কম


মাছের পানিতে ডুবে আছে সড়ক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাছের আড়তের পানি জমে দুর্বিষহ করে করে তুলেছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ব্যবস্থা। আড়তে ব‌্যবহৃত মাছের পানি ফেলা হচ্ছে প্রধান সড়কে, সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু পানি জমে থাকছে সারাদিন। পানি জমে থাকায় সড়ক ভেঙে একাকার; মেরামতের পরও ঠিক রাখা যাচ্ছে না রাস্তাঘাট।

যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-ডেমরা সড়কের চৌরাস্তা থেকে সিটি কর্পোরেশন কাঁচাবাজার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের কুতুবখালী মোড় পর্যন্ত এ অবস্থা। এ দুটি সড়কের কাছেই যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত।

চৌরাস্তা থেকে কুতুবখালী মোড় পর্যন্ত সড়কের বাঁ পাশের বিভিন্ন অংশে পানি জমে আছে। এ পাশে তিন লেইন সড়কের দুটি লেইনই ভেঙে একাকার।

ইট বিছানো বাকি এক লেইন ধরে যানবাহন চলছে। সড়কের জলমগ্ন অংশে আড়তে মাছ নিয়ে আসা ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে। কুতুবখালী থেকে চৌরাস্তা আসার সড়কেও অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। এখানেও সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে।

যাত্রাবাড়ী থানার সামনে থেকে ডেমরা সড়ক ধরে সিটি কর্পোরেশন কাঁচাবাজার পর্যন্ত সড়কের বড় অংশে পানি জমে আছে। সেখানে সড়কের এক লেইন ধরে যানবাহন চলছে, বাকি অংশে পানি।

মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী মাছে আড়তে ৭০০ মাছের দোকান আছে। মাছে পানি দেওয়ার জন্য বাজারে ড্রাম আছে প্রায় দুই হাজার। প্রতিটি ড্রামে ২০০ লিটার পানি ধরে। এছাড়া মাছের পচন রুখতে বড় আকারের বরফের চাঁই ব্যবহার করতে হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক শ’ ট্রাক বরফঢাকা মাছ নিয়ে প্রতিদিন এই বাজারে আসছে। অনেক ব্যবসায়ী আবার ট্রাকের ওপর পানিতে করে জ্যান্ত মাছ নিয়ে আসেন। যাত্রাবাড়ীর আড়তে আসার পর ট্রাকের পানি ছেড়ে দেওয়া হয় সড়কে।

পানি নিষ্কাশন পাইপ থাকলেও তা ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সড়কে পানি জমে যাচ্ছে বলে দাবি করেন যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের এক ব্যবসায়ী। আড়তের ময়লা গিয়া পাইপ ভইরা গেছে। কিন্তু পাইপ তো পরিষ্কার করে না। এজন্যই রাস্তায় পানি চইলা আসে।

আর এক ব্যবসায়ী জানান, রাস্তায় পানি জমে থাকায় আড়তদাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় পানি জমে থাকায় সড়ক ভেঙে গেছে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় পানি জমে থাকায় সড়ক ভেঙে গেছে। এবং বাজারে কাস্টমার কম আসে। বেচাকেনা কম হয়। এই খানে পাইপ না দিয়া খোলা ড্রেন দিলে ভালো হবে। কারণ নালা পরিষ্কার করা যায় না। স্ল্যাব দিলে ঠিকমতো পরিষ্কার করা যাবে।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বছরখানেক আগে তারা একটি নালা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেটা বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া কুতুবখালী মোড়ে পানি যাওয়ার পথ আটকে দেওয়ায় সড়কে পানি জমে থাকে।

দৈনিক খবরের কাগজে কত লিখল, কত ছবি তুইল্যা নিয়া গেল। সিটি কর্পোরেশনের লোকজনও তো দেখলাম কতবার আইল। এই সমস্যার কোনো সমাধান তো অয় না।   

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বললেন, মাছের আড়তের পানির কারণে ওই সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়ক মেরামতে কাজও শুরু করা হচ্ছে। আড়তের পানি নিষ্কাশনের বিষয়টিও তখন দেখা হবে।

‘আমরা অলরেডি ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছি। আগামী জুন মাসের আগে কাজ শেষ হয়ে যাবে। ড্রেনেজ সিস্টেমটা শনিরআখড়া খালে নিচ্ছি। এতে বৃষ্টির পানি, মাছের পানি সব সেখানে চলে যাবে।’

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: