৩ পৌষ ১৪২৪, সোমবার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বিসিআইএম করিডোর নির্মাণে চীনের সহযোগিতা চাই  


০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৫:৫১  পিএম

নতুনসময়.কম


বিসিআইএম করিডোর নির্মাণে চীনের সহযোগিতা চাই  

বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমারের মধ্যে ইকোনমিক করিডোর নির্মাণে মিয়ানমারকে রাজি করানোর জন্য চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে সফররত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা চান।

আওয়ামী লীগের আমন্ত্রণে চীনের প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে রয়েছে। চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, চীনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের দুই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এ রাস্তা নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী। কিন্তু এ রাস্তা নির্মাণে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কিছু সহযোগিতা দরকার।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এ সহযোগিতা করছে না। বাংলাদেশ এ বিষয়ে চীনের সহযোগিতা চায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কয়েক দিন বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ইনফ্লাক্সকে মোকিবেলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে দেশে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, সে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্তেও আমি চীনে সফর করা আওয়ামী লীগের দুটি সফরে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। সমুদ্র ও পাহাড় সবাইকেই আলোড়িত করে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমি যেতে পারিনি।

কাদের বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, আমরা এক চীন নীতির সম্পূর্ণ পক্ষে। তিব্বত ও তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।

ওবায়দুল কাদের একটি ভালো সময় দেখে চীন সফরে যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের চীন সফরে সে দেশের আথিতিয়েতার ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।

ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাম্বেসেডর মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের দেশের যোগাযোগ ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার ব্যাপক প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীন সবচেয়ে বড় অংশীদার।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতু দেশের সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প। এটা জাতির স্বপ্নের সেতু। বিশ্বব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর অনেকে ভেবেছিলেন এ সেতু নির্মিত হবে না। এ সেতু নির্মাণ করার সঙ্গে সাহস এবং সামর্থ্যের বিষয় জড়িত ছিল। কারণ, প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম সেতুগুলোর মধ্যে অন্যতম সেতুটি নির্মিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব জল্পনা-কল্পনার অবসান করে সাহসিকতার সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প গ্রহণ করেন। চীনের চায়না মেজর ব্রিজ এবং চায়না সিনো হাইড্রো কোম্পানি এ সেতু নির্মাণের কাজ পায়।

কাদের বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি যে, স্পেয়ারের ওপর স্প্যান স্থাপন করেছি। স্বপ্নের পদ্মাসেতু এখন বাস্তবতা।

তিনি বলেন, অষ্টম চায়না ব্রিজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নবম চায়না ব্রিজ নির্মাণে চীনের সহযোগিতা পেতে যাচ্ছি। এ ব্রিজ দেশের উন্নয়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দেশের সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের মতো আর কোনো দেশ এগিয়ে আসেনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফূলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের জন্য চায়নিজ এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণে ইতোমধ্যে চীনের সাথে চুক্তি সই হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যেভাবে দৃঢ় হচ্ছে, তাতে অচিরেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পার্টি টু পার্টি সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হয়ে বাংলদেশি জনগণের সঙ্গে চীনের জনগণের সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: