৫ কার্তিক ১৪২৪, শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বিপাকে আম চাষিরা


১৬ জুন ২০১৭ শুক্রবার, ০১:৩১  পিএম

নতুনসময়.কম


বিপাকে আম চাষিরা

সম্ভাবনাময় আম রপ্তানিতে ধাক্কা খেল মেহেরপুরের আম চাষিরা। চাষিদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী আম কিনতে গড়িমশি করছেন রপ্তানিকারকরা। ফলে বিদেশে রফতানির জন্য ব্যাগিং করা আম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বেশ ক’জন আমচাষি।

২০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গেল ৫ দিনে রপ্তানিকারকরা আম কিনেছেন মাত্র ১২ টন। এরপর থেকে আর দেখা মিলছে না তাদের। সদুত্তর দিতে পারছে না কৃষি বিভাগও।

গাছের আম পেকে পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়ায় প্রতিনিয়তই লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে কৃষকদের। তবে রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা আমের মান যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বাকি আম তারা কিনবেন কিনা।

গত বছরে ব্যাগিং করে রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে আমের ভালো দাম পাওয়ায় এবারো আম রফতানিতে উৎসাহিত হয় মেহেরপুরের আমচাষিরা। কৃষি বিভাগ ও রপ্তানিকারকদের নির্দেশনা মোতাবেক এবার ৯ লাখ আম ব্যাগিং করেন তারা।

বিশ্ব খ্যাত ওয়ালমার্ট কোম্পানির মেহেরপুরের আম নিয়ে যাওয়ার কথা ইউরোপের জার্মান, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ ৬টি দেশে।

রফতানির জন্য ২৫ মে আম সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু সেই আম সংগ্রহ শুরু করেন ৩১ মে থেকে। দাম দেয়া হয় কেজি প্রতি ৮৫ টাকা। অথচ গত বছর ছিল ৯৫ টাকা। এতে হতাশ হন আমচাষিরা। কারণ প্রতিকেজি আম রপ্তানিযোগ্য করে তুলতে খরচ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

তারপরও রপ্তানিকারকরা আম নেয়ার সময় ব্যাগিং করা আমের ৪০ ভাগ বাদ দিচ্ছেন। এতে ক্ষোভ বাড়তে থাকে কৃষকদের মাঝে। কিন্তু ৫ দিনে ১২ টন আম সংগ্রহ করার পর আর দেখা মিলছে না রপ্তানিকারকদের।

আবার কোনো কোনো বাগানে এখনো শুরু হয়নি আম সংগ্রহ। ফলে গাছের আম গাছেই নষ্ট হতে শুরু করেছে। আমচাষিরা ভুগছেন চরম হতাশায়। বাড়তি খরচ করে ব্যাগিং করা আম তারা কোথায় বিক্রি করবেন তা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। কারণ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গেলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।

আমচাষি শাহিনুর রহমান জানান, ২৫০ টন আমের মধ্যে তিনি নিজেই উৎপাদন করেছেন ৫০ টন। এর মধ্যে মাত্র ৪ টন আম তার বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি আম নিয়ে তিনি কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না।

এ ছাড়াও রোজার সময় বাজারে আমের চাহিদাও কম। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হবে তাকে। কারণ প্রতিটি আমে ব্যাগ পরাতে খরচ হয়েছে ৫ টাকা করে। দুই লাখ ব্যাগে খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকা। সঙ্গে রয়েছে আনুসঙ্গিক খরচও।

রপ্তানিকারক আনোয়ার হোসেন এবং রপ্তানিকারক সমিতির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ২২ মে থেকে আম সংগ্রহ করার কথা থাকলেও কোয়ারেন্টাইন অফিসারদের কারণে তারা পারেননি। আবার রপ্তানির উদ্দেশ্যে ঢাকায় সেন্ট্রাল প্যাক হাউজে আমগুলো নেয়ার পর ২০ ভাগ বাদ দিচ্ছেন। ফলে রপ্তানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অথচ গত বছর মেহেরপুর থেকে আম প্যাক করে সরাসরি রফতানি করা হয়েছিল।

এখন ইউরোপে রফতানি করা আমের ভালো মূল্য পেলে পরবর্তীতে মেহেরপুরে আম সংগ্রহ করতে আসবেন তারা। অনেককে স্থানীয় বাজারে আম বিক্রি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকায় আমগুলো নিয়ে যাওয়ার পর সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজে কিছু আম বাদ দেয়া হচ্ছে। ফলে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: