৬ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বিপন্নপ্রায় ভেদা মাছের কৃত্তিম প্রজনন উদ্ভাবনে সফলতা


০৬ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ০৬:১৬  পিএম

নতুনসময়.কম


বিপন্নপ্রায় ভেদা মাছের কৃত্তিম প্রজনন উদ্ভাবনে সফলতা

বিপন্নপ্রায় ভেদা মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশলে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্লাবনভূমি উপকেন্দ্র, সান্তাহার, বগুড়ার মৎস্য বিজ্ঞানীরা। এখন থেকে অত্যান্ত সুস্বাদু ছোট প্রজাতির এ মাছ পুকুরে চাষ করা যাবে।

বিলুপ্তের পথে যাওয়া দেশীয় ভেদা মাছের নতুন এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নেতৃত্বে ছিলেন প্লাবনভূমি উপকেন্দ্র, সান্তাহার, বগুড়া’র ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডেভিড রিন্টু দাস।

এ কর্মকর্তা জানান, গত তিন বছর ধরে স্টেশনটির কর্মকর্তাদের সাথে করে প্রযুক্তিটি নিয়ে কার্য্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। স্টেশনের নিয়মিত কাজের বাইরে নিজ উদ্যোগেই এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

ড. ডেভিড রিন্টু দাস বলেন, ছোট প্রজাতির ভেদা মাছের চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কোনো প্রযুক্তি না থাকায় চাষিরা পুকুরে চাষ করতে পারছিলেন না। প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনের ফলে এখন পুষ্টিসমৃদ্ধ এ মাছ চাষ যে কেউ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভেদা একটি মাংসাশী মাছ, খেতে খুব সুস্বাদু। বিভিন্ন মানবসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক কারনে এই মাছ দেশের জলাশয় হতে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। প্লাবনভূমি উপকেন্দ্রর বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সম্ভব হয়েছে কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন। স্টেশন এলাকার আদমদিঘীর চাষীরা এই মাছ পুকুরে চাষে সফলতা পেয়েছেন।

ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ডেভিড রিন্টু দাস বলেন, গত বছরে উন্মুক্ত জলাশয়ে এ মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পুকুরে চাষের জন্যে চলতি প্রজনন মৌসুমে দুই লাখের বেশি পোনা উৎপাদন করে চাষীদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।

ছয়মাস পুকুরে চাষের পর একেকটি ভেদা মাছ প্রায় ৪০০ গ্রাম ওজনের হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা থাকায় এ মাছ চাষে ভালো লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাজারে এ মাছ কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।

ছোট প্রজাতির মাছ হওয়ায় দেশের অন্যান্য ছোট মাছের যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে তার প্রায় সব পুষ্টিই এ ভেদা মাছে রয়েছে। এছাড়া বড় মাছ যেমন ষোল, চিতল, বোয়াল এদের যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে ভেদা মাছেও একই পুষ্টি রয়েছে।

ভেদা মাছের সবচেয়ে বড় গুণ হলো এতে কোনো চর্বি নেই। ফলে বর্তমানের প্রেক্ষিতে এ মাছের চাহিদা অনেক বেশি। চাষিরা এ প্রযুক্তি গ্রহণ করলে আরও ব্যাপকভাবে এ মাছের পোনা উৎপাদন করে সরবরাহ করা সম্ভব বলেও জানান এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

ভেদা মাছের চাষ সম্পর্কে তিনি জানান, অন্যান্য মাছের মতো চাষ পদ্ধিতি হলেও কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন এ মাছ জীবন্ত খাবার খেয়ে থাকে। কেউ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তা জানিয়ে দেয়া যাবে।

সম্প্রতি এ প্রযুক্তিটি দেখতে যান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালক (প্রশাসন) ও ঊর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, প্রযুক্তিটি খুবই যুগপোযোগী। অনেক ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে এ মাছ চাষে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: