৮ বৈশাখ ১৪২৫, শনিবার ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বিদায়ে দেয়নি প্রাপ্য সম্মান, এখন হাহাকার


১৫ এপ্রিল ২০১৮ রবিবার, ০৪:২২  পিএম

নতুনসময়.কম


বিদায়ে দেয়নি প্রাপ্য সম্মান, এখন হাহাকার

টানা সাত বছর কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ধাপিয়ে বেরিয়েছেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু বিদায় বেলায় মেলেনি প্রাপ্য সম্মানটুকুও। সেই সাকিব শনিবার (১৫ এপ্রিল)প্রথমবারের মতো পুরনো দলের বিপক্ষে খেললেন, ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে ঝলসে উঠলেন। তখনই হাহাকার দেখা দিয়েছে কলকাতায়। এই অলরাউন্ডারকে কেকেআরের যোগ্য ভাবেনি টিম ম্যানেজমেন্ট! তাই মুণ্ডুপাত চলছে ওই বাংলার পত্রপত্রিকায়।

এবারের নিলামের আগে সর্বোচ্চ দুজন বিদেশি খেলোয়াড় রাখতে পারত দলগুলো। ২০১৭ আইপিএলে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া সাকিবকে নিলামের আগে রেখে দেয়নি কলকাতা। নিলামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাকে কিনলেও কেকেআরের সামনে সুযোগ ছিল রাইট টু ম্যাচ পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই দামেই সাকিবকে নিজ দলে টানা। সেটিও কেকেআর করেনি। তা তারা করতেই পারে। কেকেআর যেমন তাদের দুবারের আইপিএল জয়ী অধিনায়ককেও রাখেনি। কিন্তু কেকেআর থেকে সাকিবের বিদায় যতটা নীরবে হয়েছে, তা তার প্রাপ্য ছিল কি না, এ প্রশ্ন তখন উঠেছে। টানা সাত বছর কেকেআরের হয়ে খেলেছেন। আইপিএলের বাঙালি প্রতিনিধিত্ব দলের একাদশে একমাত্র বাঙালি খেলোয়াড়ও হয়ে গিয়েছিলেন একসময়। কলকাতা থেকে সেই সাকিবের বিদায়ে কেকেআরের যেন একটি টুইটও করতেও কার্পণ্য ছিল!

কলকাতার পত্রপত্রিকাও যে খুব একটা লক্ষ্য করেছিল ব্যাপারটা, তাও এমন নয়। ইউরোপের ফুটবলে মাঝারি একটি ক্লাবেও সাত বছর খেলে দল পাল্টালে আলোচনা হয়। সা-ত বছর, কম সময় তো নয়। একটা সম্পর্ক তো তৈরি হয়ই। আনুগত্য আর ভালোবাসাও। পেশাদার খেলোয়াড় বলে কি আর তাদের আবেগ নেই!

সাকিব এ নিয়ে মুখে কোনো কিছু বলেননি। এমনকি কেকেআর ম্যাচের আগে ভারতীয় বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইডেনে খেলছেন বলে এ ম্যাচ নিয়ে বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস বা জবাব দেওয়ার প্রসঙ্গও এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু নিকট অতীতে আইপিএল সাকিবের সেরাটা বেরিয়ে এল কালই। বাংলা নববর্ষে, বাংলার পরিচিত ভেন্যুতে বৃষ্টিস্নাত রাতে ঝলসে উঠল সাকিব-বারুদ।

বল হাতে ক্রিস লিন আর সুনীল নারাইনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি নিয়েছেন। নিয়েছেন দুটি ক্যাচ। এরপর ব্যাট হাতে ২১ বলে ২৭ করেছেন, অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে গড়েছেন ৫৯ রানের জুটি। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে আক্ষরিক অর্থেই অলরাউন্ডার সাকিব জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন কাল। ক্রিকইনফোর ম্যাচ প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল: ‘সাবেক নাইট রাইডার সাকিবের নেতৃত্বে কলকাতায় সানরাইজার্সের প্রথম জয়’।

 

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার, আনন্দবাজারের নিয়মিত কলাম লেখক অশোক মালহোত্রার বিশ্লেষণে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে সাকিবের প্রসঙ্গ।

কলকাতার আরেকটি পত্রিকা এবেলা শিরোনাম করেছে: ‘বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে নাইট শিবিরে ধাক্কা দিলেন সেই সাকিবরা’। আর ‘এই সময়’-এর শিরোনাম তো আরও ঝাঁজালো: ‘বাতিল বাঙালির নববর্ষের প্রতিশোধ’। প্রতিবেদনটা তারা শুরুই করেছে এভাবে: সুযোগ ছিল। কিন্তু নিলামে তাকে ব্রাত্যই করে রেখেছিল কেকেআর। সাকিব আল হাসান সেসব নিয়ে ভাবেননি। তবে নববর্ষের প্রাক্কালে পুরোনো টিমকে কাঁদিয়ে ছাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখে গেলেন তিনি।’

কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘সাকিব শেষ পর্যন্ত হয়তো খেলে যেতে পারেনি, কিন্তু তাঁর পারফরম্যান্স যা ছিল, প্রথমে বল হাতে তার পর ব্যাট হাতে খুবই প্রয়োজনীয় এক ইনিংস, এটা নিশ্চিত রবিবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটা দারুণভাবেই তিনি কাটাতে পারছেন।’

এমআর

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: