১৪ বৈশাখ ১৪২৪, শুক্রবার ২৮ এপ্রিল ২০১৭, ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বিএনপির জামায়াত ত্যাগের সম্ভাবনা কম


০৫ আগস্ট ২০১৬ শুক্রবার, ০২:৪৭  পিএম

নতুনসময়.কম


বিএনপির জামায়াত ত্যাগের সম্ভাবনা কম

জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার পর ‘এবার জামায়াত ছাড়ার সময় এসেছে’- এ ধরনের বক্তব্য খোলামেলাভাবেই দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। দলটির চেয়ারপারসনের জঙ্গিবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক, জামায়াত না ছাড়লে কোনো ঐক্য নয় বলে সরকারি দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া এবং এরপর ঐক্যের স্বার্থে বিএনপির জামায়াত ত্যাগের সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমে আসতে থাকে। এ কারণেই বিএনপির জামায়াত ছাড়ার প্রসঙ্গ বেশ গুরুত্ব পায় রাজনৈতিক অঙ্গনে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একবার বিএনপির জামায়াত ত্যাগের প্রসঙ্গ সামনে এসেছিল। বিদেশি একটি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোট নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট কৌশলগত, সময় আসলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যকে জামায়াত ছাড়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখেছিলেন। এর পর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার অযোগ্যতা এবং আরও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের পরও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি।

সম্প্রতি জামায়াত নিয়ে বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী এমাজউদ্দীন আহমেদের একটি বক্তব্য নিয়ে বেশ তোলপাড় হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই বুদ্ধিজীবী এক আলোচনা সভায় বলেছিলেন, জামায়াত বিএনপির জন্য আর সম্পদ নয়, বোঝা। আর খালেদা জিয়াও বুঝতে পেরেছেন এই দলকে ওইভাবে আর প্রয়োজন নেই।

এই অবস্থায় নতুন করে আবার প্রশ্ন এসেছে বিএনপি কবে সিদ্ধান্ত নেবে। নেতারা স্পষ্ট করে কিছু না বলে কৌশলী উত্তর দিচ্ছেন। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। নানা সময় এ নিয়ে কথা হয়েছে। এগুলো মেনে নিয়েই জোট টিকিয়ে রেখেছে বিএনপি। কোনো চাপে পড়ে তাদের দৃষ্টিতে ভোটের জন্য লাভজনক জোট ভাঙা উচিত হবে না বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, জোট ভেঙে দিলে সরকারি দলের সঙ্গে জামায়াত আঁতাত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটে তাদের চার থেকে পাঁচ শতাংশ সমর্থন বিএনপির বাক্সে যোগ হবে না। আর এতে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করা কঠিন হবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, আদালত কর্তৃক জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও সুযোগ থাকার পর সরকার এটি করছে না। তার মানে সরকার দলটিকে নিয়ে খেলতে চাইছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কৌশলী না হওয়ার সুযোগ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিএনপিকে তো জামায়াতকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সরকার চাইলেই নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু করছেন না কেন?। আর বিএনপি জামায়াতকে বাদ দিলে তারা যে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক করবেন না এই গ্যারান্টি কী?’

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটের অংক সামনে রেখেই ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানে বিএনপি। নির্বাচনে জামায়াতের ভোটের প্রভাব লক্ষ করে এই দলটি থেকে জামায়াতের দুজনকে মন্ত্রী করা হয়। এরপর ২০০৮-এর নির্বাচনের পর চারদলীয় জোটের পরিধি বেড়ে দাঁড়ায় ২০-দলীয় জোটে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া জঙ্গিবিরোধী যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তাতে সরকার সাড়া না দিলেও এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় দলটি। এ জন্য দুই জোটের বাইরে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণফোরাম, বিকল্প ধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতারা জাতীয় ঐক্যের বিষয় কথা বলেছেন। তবে প্রায় সবাই জামায়াত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তারা কী করে তা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া যৌক্তিক হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো দল জামায়াত থাকার দোহাই দিয়ে আসলো না। আমরাও জামায়াতকে ছেড়ে দিলাম, এটা তো ভুল সিদ্ধান্ত হবে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, জামায়াত নিয়ে নানা আলোচনার ফলে ঐক্য প্রক্রিয়া সামনে নিতে বিএনপিতে ভিন্ন চিন্তাভাবনা চলছে। সেক্ষেত্রে জোট নয়, বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য হচ্ছে এমনটা ঘোষণা দিয়ে আপাতত ২০দলীয় জোটকে অকার্যকর করে রাখা। এতে জামায়াতসহ জোটের শরিকরাও মনক্ষুণ্ন হবে না বলে ধারণা বিএনপির নীতি নির্ধারকদের।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলাপের পর দুই জোটের বাইরে থাকা নেতাদের সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হবেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা আবদুল কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। তবে কাদের সিদ্দিকী স্পষ্টই বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে বেহেশতেও যেতে চান না তিনি।

অনানুষ্ঠানিকভাবে বিকল্প ধারার নেতারাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে জেএসডি নেতা আ স ম আদুর রবসহ বামপন্থি দলগুলো বিএনপি চেয়ারপারসনের এই চা চক্রে অংশ নেবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে জামায়াত কোনো বিষয়ই না। মূল কথা হলো শেখ হাসিনা জামায়াতকে লাইক (পছন্দ) করে না বহুকাল ধরে। কিন্তু শেখ হাসিনা বলুক না, জাতীয় ঐক্যে আমি রাজি আছি, জামায়াত থাকলে আমি বসব না। বলবে না। কোনোদিনই বলবে না।

২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে জোটে পেয়ে অভাবনীয় ফল করে বিএনপি। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোট প্রায় সমান হলেও ওই সময়ের ক্ষমতাসীন দলের তিন গুণেরও বেশি আসন পায় বিএনপি। ওই নির্বাচনে ফল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ৮৫টিরও বেশি আসনে আওয়ামী লীগ পাঁচ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছে। এসব আসনে জামায়াতের ভোট বিএনপির বাক্সে যোগ হওয়ায় এই ফল হয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

জাতীয় -এর সর্বশেষ