৪ পৌষ ১৪২৪, মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বাড়ি বিক্রি করে পালাবেন দনিয়ার বাসিন্দারা!


১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৮:৪৯  এএম

ইমদাদুল হাসান রাতুল

নতুনসময়.কম


বাড়ি বিক্রি করে পালাবেন দনিয়ার বাসিন্দারা!

‘চিন্তা করেছিলাম খালের পাশে বাড়ি হলে ভালোই হবে। সামনে দিয়ে পানি যাবে। বারান্দায় একটু আয়েশ করে বসবো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বাড়ি বিক্রি করে পালাতে হবে।’ 

দখলের কবলে অস্তিত্ব হারানো ও ময়লা-অবর্জনায় পূর্ণ রাজধানীর কুতুবখালী খালের পাশের এক বাসিন্দা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে কথাগুলো বলছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ‘আমি এখানে ১৪ বছর ধরে থাকি। আগে টিনশেড ছিল। এখন একতলা করেছি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের দখলে দখলে খালটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে।’ 

খালপাড়ের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় ৫০ ফুট প্রসস্ত খালটি এখন শুধুই ইতিহাস। নামেমাত্র টিকে থাকা অংশটুকু ময়লা-অবর্জনায় পূর্ণ হয়ে নালার রুপ ধারণ করেছে। ফলে মুরাদপুর, ধোলাইপাড় ও দনিয়ার বাসিন্দাদের সড়কে পানি ও ঘরে মশার সঙ্গেই বসবাস করতে হচ্ছে। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও দনিয়া ইউনিয়নভুক্ত কুতুবখালী নামের খালটি। ধোলাইখাল থেকে ধোলাইপাড় হয়ে কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, দনিয়া এবং জুরাইন মুরাদপুরের শেষ অংশ থেকে দক্ষিণ দনিয়ায়ও রয়েছে খালের অংশ। 

ধোলাইখালের একটি শাখা ছিল কুতুবখালী খাল। খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র। তবে ঢাকার সব খালই দেখাশুনা করে জেলা প্রসাশন। আর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ওয়াসা। পাশাপাশি খালটি ডিএসসিসির ৫নং অঞ্চলে পড়েছে। 

সরজমিনে দেখা যায়, খালের সর্বত্র দখল-দূষণে ভরাট হয়ে আছে। দক্ষিণ দনিয়া অংশে রিকশা গেরেজ ও বাঁশের খুটির উপর বিভিন্ন ধরনের দোকান বসানো হয়েছে। পানির কোনো প্রবাহ নেই। ১/২ ফুটের মতো থাকা প্রস্থের পুরোটাই ময়লায় পূর্ণ। 

খালের পূর্ব দোলাইপাড় অংশে দোকানপাট বসানো হয়েছে। দনিয়া রোড সংস্কারের জন্য জুলাই মাসে কাজ শুরু হয়েছিল। যেখানে খাল খননের কথাও ছিল। কিন্তু খালের উন্নয়নের পরিবর্তে দখলের অভিযোগ ওঠায় এখন সে কাজও বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া এ রোডে থাকা বাকি অংশেও দোকানপাট বসানো হয়েছে এবং ময়লায় পূর্ণ হয়ে আছে। আর এ কারণেই জুরাইন, ধোলাইপাড় ও দনিয়াসহ এ এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা। 

দনিয়া ক্লাব রোডের বাসিন্দা সুমন হায়দার বলেন, চার/পাঁচ বছর আগেও বাড়ির বিপরীতে থাকা খালের অংশটুকু দিয়ে পানি প্রবাহ হতো। কিন্তু এখন তো দেখছেন। পুরো অংশটুকুই দখল করা হয়েছে।

খালটির পাশেই থাকা ওই বাসিন্দা কেন পালাতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে এখান দিয়ে পানি যেত। আর এখন দেখছেন কী অবস্থা। যদি একটু বৃষ্টি হয় তবে বাড়িতে পানি ঢুকে, রাস্তায় তো পানি জমেই থাকে। আর বৃষ্টি না হলেও এটুকুতে (১ মিটার প্রস্থের মতো অংশ) সব সময়ই এমন কালো পানি, পলিথিন ও ময়লা ভরে থাকে। ফলে দুর্গন্ধ এবং মশা সব সময়ই থাকে। যে কারণে বারান্দার দরজাই খোলা হয় না। তাই ভাবছিলাম বাড়ি ছেড়ে পালাবো। 

ধোলাইপাড় থেকে এ কে স্কুলের সামনে দিয়ে দনিয়ায় আসা সড়কে দেখা যায় পানি জমে রয়েছে। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে কুতুবখালী খালের পানি একটি বড় নালা দিয়ে বের হতো। কিন্তু দুই বছর আগে ময়লা-আবর্জনা ও দখলের কারণে কুতুবখালী খালের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সম্প্রতি রাস্তা সংস্কারের নামে খাল দখলের চেষ্টা হচ্ছিল বলেও জানান স্থানীয়রা। 

এ বিষয়ে ডিএসসিসির অঞ্চল ৫-এর প্রধান নির্বাহী এ কে এম মামুনুর রশীদ নতুন সময়কে বলেন, খালটি আমাদের এলাকায়। জুলাই মাসে এখানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন কাজ বন্ধ রয়েছে। খালটি খনন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। 

পাউবো সূত্র জানায়, গত বছর খালটি খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। উচ্ছেদ অভিযানও শুরু হয়। কিন্তু একটি মহলের কারনে তা থেমে যায়। 

এ ব্যাপারে পাউবোর একাধিক প্রকৌশলী বলেন, খালটি আমাদের হলেও তা দেখাশুনা করে জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে পাউবোর তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। পাউবোর পক্ষ থেকে দ্রুতই এখানে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তারা। 

মুরাদপুরের বাসিন্দা জমির বলেন, জুরাইন থেকে শুরু করে মুরাদপুর ও মাদ্রাসা রোডসহ আশপাশ এলাকার পানি দনিয়া ও পাটের ভাগ হয়ে নামে। কিন্তু মাদ্রাসা রোড থেকে পাটের ভাগ পর্যন্ত পানি বের হওয়ার রাস্তা নেই। খাল ও ড্রেন পুরোটাই মাটি এবং ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ। ফলে আমাদের এখানে সব সময়ই পানি জমে থাকে। 

এই খালের বিষয়ে ওয়াসা ও জেলা প্রসাশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। 

ডিএনডি বাঁধ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি ডিএনডি বাঁধের জন্য বেশকিছু প্রকল্পের অর্থ ছাড়সহ আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেখানে সেনাবাহিনীও কাজ করবে। আর এই পুরো অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্যই ডিএনডি বাঁধের কাজ হবে। 

জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং দখলদার যেই হোক কিংবা যাই থাকুক পানির নিয়মিত প্রবাহ নিশ্চিতে কাউকেই ছাড় না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানায় সূত্রটি।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: