২ পৌষ ১৪২৪, রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বাংলাদেশের অপরিচিত কিছু সমুদ্র সৈকত


০২ ডিসেম্বর ২০১৭ শনিবার, ০৫:৩৭  পিএম

নতুনসময়.কম


বাংলাদেশের অপরিচিত কিছু সমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশে সমুদ্র সৈকত ক`টি? উত্তরে বেশিরভাগ মানুষই বলবেন কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, পতেঙ্গা বা কুয়াকাটার নাম৷ অথচ দেশের পুরো দক্ষিণ দিক জুড়ে রয়েছে বেশ কিছু সমুদ্র সৈকত৷

টেকনাফের শামলাপুর, শিলখালি আর হাজামপাড়া– প্রায় গায়ে গা লাগানো এই তিনটি সমুদ্র সৈকত নতুন চালু হওয়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশ দিয়ে চলে গেছে৷

আগে এ সৈকত তিনটিতে মানুষের বিশেষ আনাগোনা ছিল না৷ অবশ্য আগে তেমন সুযোগ-সুবিধাও ছিল না৷ কিন্তু মেরিন ড্রাইভ চালু হবার পর, এই সৈকতগুলোতেও এখন পর্যটকের ঢল নামে, নিয়মিতই৷

কক্সবাজারে আরো তিনটি অপূর্ব সমুদ্র সৈকত৷ মানুষজন খুবই কম যান জায়গা দু`টিতে৷ এর একটি সোনাদিয়া দ্বীপ৷ যাতায়াত কষ্টসাধ্য বলেই পর্যটকরা তেমন ভেড়েন না ঐ দিকে৷ শীতের মৌসুমে ‘স্পিডবোট`-এ সোনাদিয়া যাওয়া যায়৷ তখনো মহেশখালী চ্যানেল আর সমুদ্রের মোহনায় বিস্তর ঢেউ থাকে৷ বর্ষা মৌসুমে তো মহেশখালী যাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়৷ মনে আছে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো গিয়েছিলাম সেই দ্বীপে৷ খুবই নির্জন সৈকতে নানান পাখির বিচরণ দ্বীপটায়৷ মহেশখালীর ধলঘাটা সমুদ্র সৈকতের নাম হয়ত শুনেননি অনেকেই৷

কক্সবাজার জেলার আরেক দ্বীপ কুতুবদিয়া৷ দ্বীপটির পশ্চিমপ্রান্তজুড়ে পুরোটাই সমুদ্র সৈকত৷ এ সমুদ্র সৈকতেও পর্যটকদের খুব একটা দেখা যায় না। সুন্দর দ্বীপ কুতুবদিয়া৷ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি এখানকার মানুষের জীবনযাত্রাও বিচিত্র৷ প্রাকৃতির নানা বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে আজন্ম লড়াই করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর জীবনযাত্রা উপভোগ করা যায় ছোট্ট এই দ্বীপে৷ আগে অবশ্য হোটেল রেস্তোরাঁ ছিল না এখনে৷ তবে এখন সেসব হয়েছে৷ প্রাচীন বাতিঘর, বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শুঁটকি কেন্দ্র, সৈকতজুড়ে ঝাউবনসহ আরো অনেক কিছুই আছে এই দ্বীপে৷

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অবস্থিত নিঝুম দ্বীপ৷ এক সময়ে প্রচুর হরিণ দেখা যেত এ দ্বীপের প্যারাবনে৷ নিঝুম দ্বীপের গোটা দক্ষিণ প্রান্তজুড়ে বিস্তীর্ণ বেলভূমি৷ সেখানে লাল কাঁকড়া আর সামুদ্রিক পাখিদের নির্ভয় বিচরণ৷ নিঝুম দ্বীপের সৈকতে দেখা সূর্যাস্তের সেই মায়াময় রূপভোলা সম্ভব নয় কখনোই৷

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার একেবারে দক্ষিণপ্রান্তে সোনারচর৷ গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে দশ কিলোমিটার দূরের পানপট্টি থেকে ছোট লঞ্চে চেপে যাওয়া যাবে তাপসী দ্বীপের উদ্দেশ্যে৷ তাপসী দ্বীপে প্রায় দশ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে মানুষ তেমন নেই। এ সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত – দু`টোই দেখা যায়৷

বরগুনার লালদিয়া সুমদ্র সৈকতও কম সুন্দর নয়৷ হরিণঘাটা জঙ্গলের শেষ প্রান্তে এই সমুদ্র সৈকত৷ বন ধরে হেঁটে গেলে সমুদ্রে পৌঁছাতে সময় লাগে ঘণ্টা দুয়েক৷ এ সমুদ্র সৈকতটি খুব দীর্ঘ নয়৷ কিন্তু সৌন্দর্যের যেন কোনো কমতি নেই!

বাংলাদেশের সুন্দরবন লাগোয়াও বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত আছে৷ নির্জনতা, বাঘের ভয়, সুন্দরী-গড়ান-কেওড়ার জড়াজড়ি মিলিয়ে অন্যরকম এক জায়গা৷ অতিপ্রাকৃত, অপার্থিব৷ পক্ষির চর থেকে ডিমের চর, কচিখালী থেকে জামতলা, টিয়ার চর থেকে দুবলার চর আর মান্দারবাড়িয়া থেকে পুটনি দ্বীপ৷ একেকটি সমুদ্র সৈকত যে একেকটি বিস্ময়৷

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: