৬ শ্রাবণ ১৪২৫, রবিবার ২২ জুলাই ২০১৮, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বাঁশ দিয়ে শেভিং ব্রাশ!


০৬ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ১১:৩৮  এএম

নতুনসময়.কম


বাঁশ দিয়ে শেভিং ব্রাশ!

লক্ষ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো। সেই সঙ্গে বনজ সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের জীবিকার বন্দোবস্ত করা। আর এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বনভিত্তিক জীবিকা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র (সিএফএলই)।

ব্যাপক গবেষণা করে ভারত সরকারের এই সংস্থাটি অর্জুনগাছের ফুল আর মুলি বাঁশ দিয়ে দাড়ি কামানোর ব্রাশ তৈরি করেছে। সংস্থার দাবি, দাড়ি কামানোর এই ব্রাশ প্লাস্টিকের যেকোনো ব্রাশের তুলনায় অনেক বেশি নরম, কার্যকর ও টেকসই। এমনকি, ছবি আঁকা বা ঘর রং করার কাজে ব্যবহারের জন্য তুলিও তৈরি হচ্ছে এই পদ্ধতিতে। ঠান্ডা পানীয়ের চুমুক থেকেও সিএফএলই বাদ দিতে চায় প্লাস্টিকের স্ট্র। এর জন্য তারা বিশেষ ধরনের বাঁশ দিয়ে স্ট্র তৈরি করেছে।

আগরতলার গান্ধী গ্রামে জাইকা অফিসের পাশেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই বনভিত্তিক জীবিকা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের অফিস। সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে তাদের তৈরি করা বিভিন্ন সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে বাঁশের চলা দিয়ে বাঁধা অর্জুনগাছের ফুল দিয়ে তৈরি ফুলঝাড়ু, হরেক রকম ব্রাশ, বাঁশের স্ট্র।

সংস্থার প্রধান পবন কে কৌশিক প্রথম আলোকে জানান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মানুষকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই তাঁরা কাজ করছেন। ত্রিপুরায় বাঁশ বা অর্জুন ফুলের অভাব নেই। তাঁদের নিজেদের নার্সারি আছে। চাষও করেন তাঁরা। সেখান থেকেও পাওয়া যায় অর্জুন ফুল।

সিএফএলই জানিয়েছে, অর্জুন ফুল দিয়ে এতকাল শুধু ফালুঝাড়ুই হতো। দাড়ি কামানোর এই ব্রাশ বাঁশ আর ফুল দিয়ে তৈরি হওয়ায় শরীর ও প্রকৃতির ক্ষতি কম হবে। একে কাজে লাগিয়ে প্রচুর লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা যাবে। এখন অর্জুনগাছের ফুল আর বাঁশ দিয়ে তৈরি ব্রাশকে বাজারজাত করতে উদ্যোগী হচ্ছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে অন্যদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎসাহিত করতে চাইছে তারা।

গান্ধী গ্রামের কারুশিল্পী জয়ন্ত জানান, তিনি ইতিমধ্যে এই ধরনের ব্রাশ বেশ কিছু তৈরি করে বিক্রি করেছেন। এটাকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করলে আরও বেশি লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন।

এসএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: