৪ শ্রাবণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকের কান্না


০৪ মে ২০১৮ শুক্রবার, ০৪:৩৩  পিএম

নতুনসময়.কম


বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকের কান্না

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের কাঙ্খিত বোরো ধানের ক্ষেত দেখে ঘরে ঘরে কান্নার রুল চলছে। কোথাও পানিতে ভাসছে আবার কোন এলাকায় ধান নাই খড় নুয়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এ অঞ্চলের প্রায় ৮৫ ভাগ বোরোর ক্ষেত। এর মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল।

গত কয়েকদিনের কালবৈশাখীর তান্ডব, শিলা ও ভারী বর্ষণসহ ঝড়ো হাওয়াই বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর পাঁকা ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ও মাটিতে শুয়ে পড়েছে।

এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলে নিম্নঅঞ্চলে অনেক স্থানে উজান থেকে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর কৃষকের কষ্টের পাঁকা ধান। সেই সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। আধা-আধী ধান দিয়েই মিলছেনা কৃষিশ্রমিক। কাঙ্খিত কষ্টের ধান ঘরে তুলতে না পারাই বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকের মধ্যে চলছে চাঁপা কান্না। কৃষকেরা সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে।

কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর আঞ্চলিক অফিসের তথ্য মতে,রাজশাহী,নাটোর,নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে রাজশাহী অঞ্চল। চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে বোরো চাষাবাদ হয়েছে তিন লাখ ৬১ হাজার হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল থেকে এ অঞ্চলে উপর দিয়ে কালবৈশাখী তান্ডব,ভারী বর্ষন ও শিলাতে প্রায় ৭৫ ভাগ জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। নি¤্নঅঞ্চলে তলিয়ে গেছে ১৭ হাজার হেক্টর পাঁকা ধান। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১১ হাজার ১৬৩ হেক্টর, নওগাঁ ১২০ হেক্টর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭২১ হেক্টর ও নাটোর জেলায় পাঁচ হাজার ৩১২ হেক্টর।

শুধু ধান নয়,ক্ষতিগস্থ হয়েছে আম বাগানেরও। রাজশাহী জেলায় ১৫২ হেক্টর,নওগাঁ ৯৯ হেক্টর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৯১ ও নাটোর জেলায় ৮৭ হেক্টর আমের ক্ষতি হয়েছে বলে বলে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর আঞ্চলিক অফিস জানিয়েছে। তবে,বোরো ধানের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হবে সে তথ্য দিয়ে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান তারা।

তলিয়ে যাওয়া অঞ্চল গুলো হলো বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিব নদের মধ্যে প্রায় ৭০০ হেক্টর, নাটোর সিংড়া উপজেলায়সহ চলন বিলের মধ্যে পাঁচ হাজার হেক্টর,নওগাঁ মান্দা উপজেলায় বিলে মধ্যে ১২০ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাগলা নদসহ বিভিন্ন নি¤্নঅঞ্চলে ৭২১ হেক্টর ফসলি জমি।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার ধানতৈড় গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন,গত কয়েকদিনে উজন থেকে আসা পানিতে শিব নদের পাড়ে থাকার তার পাঁচ বিঘা বোরো ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া ধানগুলো দেখে দুই চোখে জল চলে আসছে। ধানগুলো নৌকায় নিয়ে কেটে আনতে আধা-আধীভাগ দিতে চাইলেও শ্রমিক মিলছেনা। এমন অবস্থায় তার বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম ভুগান্তিতে পড়েছেন।

একই উপজেলার পাঁচন্দ্রর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান,দেওলা-ডাঙ্গাপাড়া মৌজায় তিনি চার বিঘা জমিতে অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলেন। আর এক দুই দিন পড়েই তার ধান ঘরে উঠার কথা ছিল। কিন্ত হঠাৎ করে ৩০ এপ্রিল সন্ধায় শিলা বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের থাকা পাঁকা ধান ঝড়ে পড়েছে। এখন ধানে বদলে ক্ষেতে শুধু খড় দাড়িয়ে আছে। এখন এক বিঘা জমির ধান কেটে পাঁচ মণ ধানও পাওয়া যাবেনা। এ ধান কোন শ্রমিক ও কাটতে চাইছে না। তার আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ২৪ হাজার টাকা।

শুধু তানোর উপজেলার আশরাফুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান একাই নয়,বরেন্দ্র অঞ্চলে হাজার হাজার কৃষক চলতি বোরো ধান নিয়ে এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোথাও পাঁকা ধান তলিয়ে গেছে আবার কোন অঞ্চলে ধান নাই কিন্ত খড় দাড়িয়ে আছে। এমন অবস্থা দেখে কৃষকের দুই চোখে অন্ধকার হয়ে আসছে। চাপা কান্না এখন তাদের সঙ্গি হয়ে পড়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা সরকারের কাছে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে সাহেয্যের আবেদন জানাচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান,গত কয়েকদিনে কালবৈশাখী তান্ডবে জেলায় অনেক স্থানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমানে মাঠ পর্যায়ে জরিপের কাজ চলছে। বুধবার ক্ষতিগস্থ তানোর শিব নদের মধ্যে থাকা তলিয়ে যাওয়া ধান পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়া আমের ও অনেক ক্ষতি হয়েছে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: