৪ কার্তিক ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ৩:০১ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বরিশালে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মামলা


১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার, ০৮:০১  পিএম

নতুনসময়.কম


বরিশালে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মামলা

টাকা চুরির অভিযোগে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুক্রবার মামলা নিতে অস্বীকার করার পর শনিবার সকালে মামলা নিয়েছেন ওসি মনিরুল ইসলাম। এর আগে শিশু নির্যাতনের বিষয়ে শুক্রবার নতুনসময় ডটকম সহ বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে নির্যাতনের বিষয়টি স্থানীয় প্রসাশনের দৃষ্টিতে আসে। 

নির্যাতিতা শিশু ছাত্রীর মা রেনু বেগম জানান, তার একমাত্র শিশু কন্যাকে একশো টাকা চুরির অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে মুখে গামছা বেঁধে মারধর করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। উপজেলা সদরের খাদিজাতুল কোবরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসার সুপার খাদিজা বেগমসহ তিন শিক্ষক শিশুটিকে মারধরের ঘটনায় জড়িত বলে জানায় শিশুটি।

পরে শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে মা রেনু বেগম আবাসিক হল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর রাতে ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রেনু বেগম অভিযোগ করে বলেন, গৌরনদী মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম রহস্যজনকভাবে বিষয়টিকে ধামাচাঁপা দিতে মামলা না করে একটি সাধারণ ডায়েরী করার পরামর্শ দেয়। মামলা করতে চাইলেও সে মামলা নিতে অস্বীকার করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শরীফ আহম্মেদ জানান, নতুনসময় ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইনে নির্যাতনের সংবাদ দেখে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুক্রবার রাতে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত শিশুর সাথে কথা বলে তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নেয়ার জন্য থানার ওসির সাথে কথাও বলেছেন।

নির্যাতিতা ওই শিশুর মা রেনু বেগম আরও জানান, থানার ওসি মনিরুল ইসলামের রহস্যজনক আচরণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার সকালে ওসিসহ অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে থানার ওসি তাদের ফোন করে থানায় আসার জন্য তাদের অনুরোধ করেন।

পরে থানায় যাওয়ার পর ওসি পুরনো অভিযোগ বাদ দিয়ে নতুন করে অভিযোগ লিখিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার খাদিজা বেগমসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা নেন।

পূর্বে মামলা না নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার বিকেলে করা লিখিত অভিযোগে মামলা নেয়ার মতো কোন বিষয় ছিলনা।

শনিবার সকালে নতুন করে অভিযোগ লিখিয়ে চারজনকে আসামি করে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এখনো পর্যন্ত। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জাহিদুল ইসলামের এক নিকট আত্মীয় পুলিশে চাকরি করার সুবাধে প্রথমে গৌরনদী থানার ওসি মামলা নিতে তালবাহানা করেছেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে ওসি মামলা নিতে বাধ্য হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।তারা নির্যাতনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: