১ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১১:১১ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

বন্ধের পথে বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো ফটোস্টুডিও


১৯ জুন ২০১৭ সোমবার, ০৭:১৩  পিএম

নতুনসময়.কম


বন্ধের পথে বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো ফটোস্টুডিও

প্রযুক্তির কল্যাণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফটোস্টুডিওগুলোই। এ কারণে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছে স্টুডিও মালিকরা। তাই একে একে বন্ধ গেছে বিশ্বের নামিদামি অনেক ফটোস্টুডিও। আর এর সর্বশেষ পেরেকটি ঢুকতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো ফটোস্টুডিও ‘বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড’-এ।

কোলকাতা শহরের কেন্দ্রস্থল এস এন ব্যানার্জি রোডে এ স্টুডিওটির অবস্থান। ১৭৭ বছর ধরে চলতে থাকা এ স্টুডিওটিই বিশ্বের সবচেয়ে পুরানো ফটোস্টুডিও।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান মালিক জয়ন্ত গান্ধী বলেন, স্টুডিওটি লোকসানের অংক গুণতে গুণতে শেষবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে। এতদিন এলআইসি-এর কাছ থেকে লিজ নিয়ে স্টুডিওটি চলছিল।

বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড

রামকৃষ্ণ দেব থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে সত্যজিৎ রায়। প্রয়াত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে সন্দীপ রায়। সবাই একবার না একবার ‘বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড’ স্টুডিওয়-এর ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন।

‘বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড’-এর তোলা বহু ছবি আজ ঐতিহাসিক দলিল। ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আগে এবং স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বহু ছবিই তাদের তোলা। এ স্টুডিওর অনেক ছবি আজও রাখা রয়েছে লন্ডনের ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি, লন্ডনের ন্যাশনাল গ্যালারি অব পোর্ট্রেটসে।

বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড

১৮৪০ সালে ফোটোগ্রাফার উইলিয়াম হাওয়ার্ড এ স্টুডিওটি তৈরি করেন। তখনও এ স্টুডিওর নাম ‘বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড’ হয়নি। পরে এ স্টুডিওয়ে বিনিয়োগ করেন স্যামুয়েল বার্ন ও চার্লস শেফার্ড। তখন স্টুডিওটির নাম হয় ‘হাওয়ার্ড অ্যান্ড বার্ন’স্টুডিও। ১৯৬৬ সালে হাওয়ার্ড স্টুডিওর অংশীদারিত্ব ছেড়ে দিলে নাম বদলে হয় ‘বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড’।

আমরা মকৃষ্ণদেবের একমাত্র যে ছবিটি দেখতে পাই, তা ‘বার্ন অ্যান্ড শেফার্ড’-এরই তোলা।

এ স্টুডিওটি ১৯৯১ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে স্টুডিওর প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। এরপর আর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্টুডিওটির আধুনিকীকরণও হয়নি। ফলে, স্টুডিওটি লোকসানের অংক গুণতে গুণতে শেষবিন্দুতে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই বন্ধ হওয়ার পথে বিশ্বের সবচেয়ে পুোনো এ ফটোস্টুডিওটি।

তথ্যসূত্র : স্কুপহুপ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: