৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার ২১ আগস্ট ২০১৭, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

গল্প

ফ্রাংকেন্টাইনের নতুন রূপ


১৮ জুন ২০১৭ রবিবার, ০৪:১৯  এএম

তপন দেবনাথ

নতুনসময়.কম


ফ্রাংকেন্টাইনের  নতুন রূপ

আপাদমস্তক আওয়ামী লীগ সমর্থক সৈয়দ আবুল বাশারের গতিবিধি এবার বেশ সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগ বলতে পাগল কিন্তু এবার তার ধরণ-ধারণ নির্ণয় করা যাচ্ছে না।

এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হোয়াইট হাউজের প্রাক্তন বাসিন্দা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের স্ত্রী হিলারী রটহ্যাম ক্লিন্টন যে জিতবেনই এমন ধারণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা গোটা বিশ্ববাসীই করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নির্বাচনের আমেজ যতটা না ছিল তার চেয়ে বেশি ছিলো বাংলাদেশে। বাংলাদেশ থেকে যদি হিলারীকে সরাসরি ভোট প্রদান করার কোনো সুযোগ থাকত তাহলে মার্কিন নির্বাচন কমিশন হিলারীর পক্ষে প্রদত্ত ভোট গণনা করতে হিমশিম খেত।

বাংলাদেশিদের কাছে হিলারীর জনপ্রিয়তার কারণ আছে বৈকি। কারণগুলোর অন্যতম- হিলারী বাংলাদেশিদের পূর্ব পরিচিত। তিনি দুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন, একবার তার মেয়ে চেলসিও সাথে ছিল। বিল ক্লিন্টনই ছিলেন একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট- যিনি কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও বাংলাদেশ সফর করে বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাতেই তেমন পরিচিত নন। তিনি প্রার্থী হবার আগে বাংলাদেশিদের মধ্যে তেমন কেউ তার নামও জনতো না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রার্থী হবার পরই উল্টাপাল্টা কথা বলতে শুরু করলেন। বিশেষ করে তিনি মুসলমানদের একহাত দেখে নিলেন। তার এ উল্টাসিধা কথায় তার অবস্থান হিলারীর চেয়ে দুর্বলই মনে হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যত তালগোল পাকাচ্ছেন হিলারীর অবস্থান ততই পোক্ত হয়েছে।

আমেরিকতে প্রথম একজন নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন- এ নিয়ে আমেরিকায় যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে তেমনি উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয়েছে বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশি আমেরিকানরা বেশির ভাগই ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থক এবং তারা যে হিলারীকে ভোট প্রদান করবেই- তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

হিলারীকে নিয়ে বাংলাদেশি আমেরিকানদের বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশ হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তেমন কিছুই নজরে পড়েনি।

মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হলেন সৈয়দ আবুল বাশার। এদিক-সেদিক একটু তাকিয়েই হাঁটা দিলেন বাসার দিকে। ইদানীং নামাজের পর কারা যেন তাকে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু করেছে যে তিনি হিলারীকে ভোট দিবেন না। ভোট প্রদান তো মানুষের মৌলিক অধিকার, তিনি হিলারীকে ভোট না দিলে কার কি আসে যায়?

মসজিদ থেকে বাসায় ফিরে টিভি অন্ করে সোফায় বসলেন সৈয়দ আবুল বাশার। বাংলাদেশিদের উপর রাগে তার গাজ্বালা করছে। মাথা থেকে এখনো টুপি খোলেননি তিনি। টিভিতে হিলারীও ডোনাল্ডকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশিরা কেন হিলারীকে ভোট দিবে তার কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছেন না সৈয়দ আবুল বাশার। কারো সাথে এ ব্যাপারে তেমন কোনো আলোচনাও করতে পারছেন না। কারণ তার যুক্তি তোপে টিকে না। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক এখানে বেশি যে রিপাবলিকানদের অস্তিত্বই নেই বলা চলে। শেষতক সিদ্ধান্ত নিলেন- চুপচাপ থাকবেন। ভোটের দিনই শুধু দেখাবেন খেলা।

চায়ের কাপ হাতে লিভিং রুমে এলেন সৈয়দ আবুল বাশারের স্ত্রী উম্মে খয়রাতুন নেছা। স্ত্রীকে দেখে কি মনে করে তিনি টুপিটি খুলে পাশের টেবিলের উপর রাখলেন। উপস্থাপিকার দিকে এবং স্ত্রীর দিকে করে একবার তাকালেন। উপস্থাপিকার চেহারার সাথে স্ত্রীর চেহারার মিল খুঁজলেন কিনা বোঝা গেল না।

উম্মে খয়রাতুনের বয়স পঞ্চাশ পার হলেও হেয়ালী ভাবটা এখনো কাটেনি। কথা বলার সময় তার হেয়ালী ভাবটা বেশি লক্ষ্য করা যায়, বিশেষ করে স্বামীর সাথে যখন কথা বলেন।

স্বামীর দিকে বোকা বোকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে খয়রাতুন নেছা বললেন- এবার আপনার ভোটটা হিলারীকে দিচ্ছেন তো?

সামান্য বিরক্তি প্রকাশ করে সৈয়দ আবুল বাশার বললেন-  হিলারীর জন্য তোমার এত দরদ কেন?

-দরদ থাকবে না? আমেরিকায় একজন প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হবে- এটা যে কোনো মহিলার জন্যই গৌরবের বিষয়।

মুখ ভেংচিয়ে সৈয়দ আবুল বাশার জবাব দিলেন- হিলারী প্রেসিডেন্ট হলে তোমাকে মনে হয় বড় কোনো পদে বসাবে?

-আমি বলেছি নাকি সে কথা?
-তোমার ভাবসাব থেকে তো সে রকমই মনে হয়। একজন সাচ্চা মুসলমানকে কীভাবে তুমি একজন নারীকে ভোট প্রদানের কথা বল। ‘নারী নেতৃত্ব ইসলামে হারাম’ একথা কি তুমি জানো না? পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়, এত কোরআন-হাদিস পড়ে তোমার কোনো জ্ঞানই হলো না?

ফুটা বেলুনের মতো চুপসে গেলেন খয়রাতুন নেছা কিন্তু ভিতরটা ভীষণ গর্জে উঠল। এই লোকটাই তার স্বামী, এর সাথেই দুযুগের বেশি সে সংসার করেছে- এ যেন তার বিশ্বাস হচ্ছে না। স্বামীর নারী বিদ্বেষী মুখোশটা যেন আজ উন্মোচন হয়েই গেল।

চোখ বড়ো করে রাগত দৃষ্টিতে খয়রাতুন নেছা স্বামীর দিকে তাকলেন। কথাটা কি বললেন, আর একবার বলেন তো?
-কোন কথাটা? চায়ের কাপে চুমুক দিলেন সৈয়দ আবুল বাশার। কোথাও ধরা খেয়ে গেছেন- এরকম আঁচ করে স্ত্রীর মনোভাব অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য বললেন- চা মিষ্টি লাগছে কেন? চিনি দিয়েছ নাকি?
-ফাজলামি করবেন না। ফাজলামি আমার একদম পছন্দ না। চা মিষ্টি লাগবে কেন? ডায়াবেটিস বাধিয়ে আছেন, আমার কি মনে নেই, নাকি? আমার প্রশ্নের উত্তর দেন।
-কোন প্রশ্ন? এমন তাচ্ছিল্য করে আবুল বাশার জবাব দিলেন যে- খয়রাতুন নেছা যেন কোনো প্রশ্নই করেনি।
-ঐ যে বললেন, নারী নেতৃত্ব ইসলামে হারাম।
-নতুন কি বললাম? এটা কি তুমি জান না?
-যারা গত পঁচিশ বছর ধরে বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে- তারা কি নারী না পুরুষ?
ধরা খেয়ে গেলেন সৈয়দ আবুল বাশার। স্ত্রীর প্রশ্নের কি জবাব দিবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
-জবাব দিচ্ছেন না কেন? আপনি না আওয়ামী লীগ করেন? দেশে থাকতে না শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছেন? তখন কি নারী নেতৃত্ব হারাম ছিল না? এত চোগলখুরী শিখেছেন কোথায়?
-মুখ সামলে কথা বলবা খয়রাতুন। তা না হলে খারাপ কিছু হয়ে যাবে।
-কেন মুখ সামলে কথা বলব? কার ভয়ে? আপনি একটা রাজাকার- সে কথা কি আমি জানি না ভেবেছেন? এখন এই বয়সেও মুখোশ পড়ে আছেন। দিনে করেন আওয়ামী লীগ, রাতে রগকাটা দল। সে জন্যই দেশের কোনো লোক আপনাকে দেখতে পারে না।
-তুমি কিন্তু সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছ খয়রাতুন। আমি কাকে ভোট দিন না দিব সেটা তো আমার ব্যাপার, তোমার না।
-আমি তো হিলারীকে ভোট দেওয়ার জন্য আপনাকে চাপ দেয়নি, অনুরোধ করেছি মাত্র। পছন্দ হলে দিবেন, পছন্দ না হলে দিবেন না। নারী নেতৃত্বের অধীনে জীবন এত বছর কাটিয়েছেন, আবার বলছেন নারী নেতৃত্ব হারাম? আপনি তো একটা আস্ত চোগলখোর। রগকাটা দলের সদস্য। শুধু জীবন বাঁচাতে আওয়ামী লীগের পতাকা তলে আশ্রয় নিয়েছেন। আপনি বিশ্বাসঘাতক। আজ থেকে আমার হাতের বাড়া ভাত খাবেন না। নারীর হাতে বাড়াভাত খাওয়া, ঈমানদার স্বামীর জন্য হারাম।
-এটা বাংলাদেশ হলে তোমার বত্রিশটা দাঁত আমি এক থাপ্পরে ফেলে দিতাম।
রাগে গাঁ কাঁপছে সৈয়দ আবুল বাশারের। হিলারী নিশ্চয়ই এই মহিলাকে বানটোনা করেছে। বাংলাদেশি দোকান থেকে কালিজিরা আনতে হবে। সাতদিন দোয়া পড়া কালিজিরা খাওয়াতে পারলে হিলারীর ভর চলে যাবে।

খয়রাতুন নেছা স্বামীর সামনে থেকে চলে গেলেন। সে বুঝে গেছে এই ইবলিশ হিলারীকে ভোট দিবে না। অযথা তার সাথে ঘ্যানর ঘ্যানর করে কোনো লাভ নেই।

স্ত্রী চোখের সামনে থেকে চলে যাবার পর স্বাচ্ছন্দ বোধ করছেন সৈয়দ আবুল বাশার। টি টেবিলের উপর পা তুলে দিলেন তিনি। টিভিটা অফ করে দিলেন। নির্বাচনে কে জিতবে তিনি জানেন এবং কাকে তিনি ভোট দিবেন সে সিদ্ধান্তও নেয়া আছে- এখন অযথা কারো সাথে বাক-বিতণ্ডা না করাই ভালো। সুযোগ পেলেই এরা আবার একাত্তরকে সামনে নিয়ে আসবে।

আজ শুক্রবার। স্থানীয় মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করার পরপরই বাসার দিকে রওয়ানা দিলেন সৈয়দ আবুল বাশার। আর ৪ দিন পরই নির্বাচন। এখন কারো সামনে পড়লেই নির্বাচনের বিষয় নিয়ে যে আলোচনা হবে সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। গড়িমসি করে ৩/৪টি দিন কাটিয়ে দিতে পারলেই হলো।

কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মাসুম রেজা পিছন থেকে ডাক দিল সৈয়দ আবুল বাশারকে। মাসুম রেজাকে উপেক্ষা করতে পারলেন না তিনি। লোকটা আপাদমস্তক আওয়ামী লীগ সমর্থক। সময়-অসময় তাকে ডাকলেই সাড়া পাওয়া যায়।
-আচ্ছালামালাইকুম বাশার ভাই। বাসায় ফোন করেছিলাম। ভাবি বললেন, নামাজে এসেছেন।
আলাইকুমুআচ্ছালাম। কী সমাচার? মাথা থেকে টুপি খুঁলে ভাঁজ করে পকেটে রাখলেন আবুল বাশার।

আমতা আমতা করে মাসুম রেজা বলল- না, তেমন কিছু না, সামনের মঙ্গলবার তো নির্বাচন?

এ কথা কে না জানে? এই ছোকড়ার কাছে কি তারিখ জানতে হবে নাকি? কু-মতলব একটা নিশ্চয়ই আছে। অন্যদিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলেন আবুল বাশার।
-কয়েকজন আমাকে বলল- আপনি নাকি হিলারীকে ভোট দিবেন না?
চোখ কপালে তুলে আবুল বাশার এমন একটা ভাব ধরলেন যে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। হিলারীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছেন, শুধু মঙ্গলবার সকাল হওয়ার অপেক্ষা।
-আপনাকে কে বলল?
কে বলল, না বলল সেটা বড়ো কথা নয়। বড়ো কথা হলো ইদানিং তাকে নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। কারা কারা নাকি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালে তার নাম পাঠিয়েছে।
এরা কারা সেটা চিনে রাখা দরকার। একাত্তর কি আবার ফিরে আসতে পারে না?
-বললেন না আপনাকে কে বলেছে? তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে আবুল বাশারের বাসার সামনে চলে এলো।
-চাঁদভাই বলেছেন, রফিক ভাই বলেছে। কেন, ভাবি তো একই কথা বলল। ট্রাম্প মুসলমানদের সম্পর্কে কি মন্তব্য করেছে শুনেন নি? এরপরও তাঁকে ভোট দিবেন? একজন মুসলমান হয়ে...?
একটু ঢোক গিললেন আবুল বাশার। তারপর বললেন, আপনারা আজকালকের ছেলেপুলে, আপনারা রাজনীতির কী বুঝেন? মুসলমানদের কি বলেছে, না বলেছে সেটা বড়ো কথা নয়, বড়ো কথা হলো হিলারী নির্বাচিত হলে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বারোটা বেজে যাবে।

আশ্চার্যাম্বিত হলেন মাসুম রেজা। অবাক বিষ্ময়ে আবুল বাশারের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন- সেটা কীভাবে?
-সে জন্যই বলি, রাজনীতির মারপ্যাঁচ এত সোজা জিনিস নয়। আওয়ামী লীগ করেন, অথচ আওয়ামী লীগের কিসে বিপদ হতে পারে- সেটা বুঝেন না?
একটু নতজানু হলেন মাসুম রেজা। বিষয়টা তার বোধগম্য হচ্ছে না।
-যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন।
-হিলারীর সাথে ড. ইউনূসের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে- এটা জানেন?
সামনে পিছনে মাথা নাড়ালেন মাসুম রেজা। বিষয়টা তিনি জানেন। তিনি ছাড়া আরো অনেকেই জানে।
-আমেরিকার এবারের নির্বাচনে হিলারী নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনে যে কোনো মুল্যে হিলারী বিএনপিকে নির্বাচিত করবে এবং বিএনপি ড. ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করবে। ড. ইউনূস প্রেসিডেন্ট হলে বাংলাদেশকে উপহার হিসাবে হিলারীকে লিখে দিবে।

প্রায় লাফ দিয়ে উঠলেন মাসুম রেজা। এটা কীভাবে সম্ভব? কিন্তু ভাবি তো বলল অন্যকথা।
প্রায় ধমকের সুরে আবুল বাশার বললেন- রাখেন আপনার ভাবির কথা? মহিলারা তো মহিলাদের সাপোর্ট করবেই। ড. ইউনূস কি একবারও জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়েছিল?
ডান বামে মাথা নাড়ালেন মাসুম রেজা। বিষয়টা তার কাছে বেশ জটিল মনে হচ্ছে।
-বুঝেন এবার। রাজনীতি করতে হলে মাথায় ঘিলু থাকতে হয়। বললেন আবুল বাশার।
ড. ইউনূস জাতীয় স্মৃতি সৌধে জাননি, সেটা তাঁর ব্যাপার। কিন্তু আপনি কী করে নিশ্চিত হলেন যে হিলারী নির্বাচিত হলে বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে এবং ড. ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট করবে?

তারা দুজন এখন আবুল বাশারের বাসার সামমে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। ঢাকা শহর হলে বা বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় হলে, প্রথমেই বলতেন- বাসায় চলুন। ভিতরে গিয়ে কথা বলি। এখানে সে সুযোগটা নেই বললেই চলে। কেউ কাউকে খুব সহজে বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় না।

চুলে একবার হাত বুলিয়ে সৈয়দ আবুল বাশার বললেন- এমনি এমনি কি মাথার চুল পেকে গেল? হিলারীকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্য বিপদ ডেকে আনব- এমন রাজনীতিতো আমি করতে পারি না। বরং আওয়ামী লীগের জন্য মরতে রাজী আছি।
-কিন্তু লোকজন তো আপনার সম্পর্কেই আজেবাজে কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি নাকি...?
ভিতরে ভিতরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন আবুল বাশার। এই কথাটা তাকে এখানে বহুবার শুনতে হয়েছে কিন্তু কেউ কোনো সাক্ষী প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

ক্ষিপ্ত হলেও ক্ষিপ্ততা প্রকাশ আবুল বাশারের স্বভাব নয়। তার স্বভাব ধীর স্থির। সে যদি মানুষ খুন করার পরিকল্পনায়ও লিপ্ত থাকে কেউ তার অভিব্যক্তিদেখে বুঝতে পারবে না। বোধহয় লোকটা খুব সুচতুর।
-আমি যুদ্ধের সময় কী করেছি না করেছি তার কোনো প্রমাণ আছে? আপনার বয়সই বা তখন কত? এখনকার ছেলেপেলেরা কথায় কথায় যুদ্ধাপরাধী খোঁজে। খবর নিয়ে দেখেন, তাদের বাপ দাদারাই যুদ্ধের সময় হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করেছে, ধর্ষণ করেছে, পাকিদের সাহায্য করেছে, যুদ্ধের পর ভোল পাল্টে দেশপ্রেমিক সেজেছে। যাই, আমার একটু তাড়া আছে।

আর দাঁড়াতে রাজী হলেন না সৈয়দ আবুল বাশার। এখনকার সময়টাকে তিনি খুব অপছন্দ করেন। সে সময় এত কাজ কত নির্বিগ্নে করেছেন, কোনো সাক্ষী প্রমাণ ছিল না। আর এখন? এখন কথায় কথায় ধরা খান। এমন কি বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও রেহাই নেই।

বাসার ভিতরে চলে গেলেন সৈয়দ আবুল বাশার। মাসুম রেজাকে তার একটা চর মারতেই ইচ্ছে করেছিল। কিন্তু এখানকার আইন-কানুন খুব কড়া। সেটা এখানে করা যাবে না। সে চোখের আড়াল হওয়াতে তার উপর রাগ কিছুটা কমেছে কিন্তু স্ত্রীর উপর রাগটা বেশ বেড়েছে।

খয়রাতুন নেছা এখনো কাজ থেকে ফেরেনি। এই আমেরিকা অনেক কিছু দিয়েছে, আবার অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছে। বাইরের একজন লোক ফোন করতেই পারে, আমি বাসায় নেই বলে দিয়ে লাইন কেটে দিলেই হলো। পর পুরুষদের সাথে এত ফুসুরফাসুরের দরকার কী? এমন একটা কঠিন রাষ্ট্র- স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা যাবে না, ধর্মের দোহাই দেওয়া যাবে না। সব কিছু চোখে দেখেও মুখ মুজে সয়ে যেতে হবে।

দুপুরের খাবার খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন সৈয়দ আবুল বাশার। ঘুম আসছে না। স্ত্রী আসার অপেক্ষা করছেন তিনি। মাথায় রাগ থাকতেই ভর্ৎসনা করতে হবে। নতুবা ভুলে যাবেন। ইদানীং কিছুই তার মনে থাকে না।

 


নির্বাচন হয়ে গেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হলেন। অধিকাংশ বাংলাদেশি আশাহত হলেও সৈয়দ আবুল বাশার পুলকিত হলেন। রাজনীতির মারপ্যাচ কাকে বলে এখন সেটা অন্যদের দেখিয়ে দিবেন। মেয়েলোক রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসেনি সেজন্য তিনি শোকরিয়াও আদায় করলেন। বাংলাদেশকে সিকি শতাব্দী ধরে নারী নেতৃত্ব কব্জা করে রেখেছে আবার এখানেও কব্জা করছিল বলে, অল্পের জন্য ফসকে গেছে, ভাবলেন তিনি।

নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলমানদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলেছেন। সেদিকে আমল দেননি আবুল বাশার। নির্বাচনের আগে এরকম কথা অনেকেই বলে। আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা গ্রহণের আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা ধরণের কথা বলেছেন- সেদিকেও ভ্রুক্ষেপ করছেন না সৈয়দ আবুল বাশার। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়াতে তিনি যতটা না খুশি হয়েছেন তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন খয়রাতুন নেছাকে চাপে রাখার সুযোগ পেয়ে। সে ইদানীং যেভাবে বেড়ে গেছে মহিলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে খয়রাতুন নেছা হয়ত নিজেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাবতে শুরু করত। আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন, ভাবলেন সৈয়দ আবুল বাশার।

২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। সেদিন বলতে গেলে সারাদিনই টিভি সেটের সামনে বসেছিলেন সৈয়দ আবুল বাশার। আমেরিকা নতুন যুগে প্রবেশ করছে- একথা তার ভাবতেও ভালো লাগছে। যদিও এদিন সারাক্ষণ খয়রাতুন নেছা গদর গদর করেছে। বলা যেতে পারে- দুঃভাগ্যক্রমেই সেদিন খয়রাতুন নেছার ডে অফ ছিল। দিনভর স্বামীর টিভির সামনে বসে থাকা তার গা জ্বালার যথেষ্ট কারণ থাকলেও বলার কিছু ছিল না। খয়রাতুন নেছা যে ভিতরে ভিতরে জ্বলে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছিল এটা আবুল বাশার বুঝতে পেরেই তাকে দেখলেই টিভির সাউন্ড বাড়িয়ে দিত। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা যেমন- অনেকটা তেমন আর কি।

মহান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সিংহাসনে আরোহণের সাত দিনের মাথায় সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেন। এরপর আমেরিকা থেকে মুসলমানদের বিতাড়নের জন্য নানা ধরনের কথাবার্তা বলছেন। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মুসলমান আমেরিকা থেকে বাইরে যেতে এবং বাইরে থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করতে নানা ধরনের হয়রানীর শিকার হয়েছে। বাংলাদেশিদের মধ্যেও বেশ আতংক দেখা দিয়েছে। অনেকে বাংলাদেশে যাওয়া স্থগিত করে দিয়েছে এ ভয়ে যে, আসার সময় যদি প্রবশে করতে না দেয়?

মাইন্ড করলের সৈয়দ আবুল বাশার। বলা যায় প্রচণ্ড মাইন্ড করলেন। কেউ কেউ সন্ত্রাসী। তাই বলে গোটা মুসলিম সম্প্রদায় তো নয়। গোটা মুসলিম জাহানকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে অবজ্ঞা করেছেন এটা মেনে নেওয়া যায় না। মান-সম্মানে খুব লেগেছে তার। কিন্তু কী করবেন? মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছেন। ক্ষমতায় বসেই যে তিনি মুসলমানদের এমন টার্গেট করবেন- কে জানতো? এখন তো লজ্জায় কোথাও মুখ দেখাতেও পারছেন না। যদিও তিনি এদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো আইন ভঙ্গের অভিযোগ নেই, কিন্তু বাইরে বের হলেই লোকজন তাকে চেপে ধরে-আপনার প্রেসিডেন্ট এটা করেছে, আপনার প্রেসিডেন্ট সেটা করেছে। আরে বাবা! আমি কী করবো? প্রেসিডেন্ট কি কোনো কিছু আমার সাথে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নেয় নাকি? জীবনটা কেমন যেন জটিল প্যাঁচে আটকে গেছে আবুল বাশারের।

কোথায় হোয়াইট হাউজ আর কোথায় লস এঞ্জেলেসে আবুল বাশারের সংসার। কিন্তু এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শীতল যুদ্ধ চলছে। প্রায়ই তাদের তর্কযুদ্ধ হয়ে যায়। এ বয়সেও স্ত্রীকে অবধমিত করতে আবুল বাশারকে অশোভন ভাষা ব্যবহার করতে হয়। ঘরে এবং বাইরে, বলতে গেলে বাইরের চেয়ে ঘরেই বেশি কোণঠাসা হয়ে গেছেন আবুল বাশার। নির্বাচনের আগে যেভাবে আগ্রহ নিয়ে টিভি দেখতেন সে আগ্রহ এখন অনেকটাই ভাটা পড়ে গেছে। এখন টিভিতে যেভাবে মুসলমানদের আক্রমণ করে কথা বলা হয় তাতে খুবই অসম্মানিত বোধ করেন তিনি।

সোফায় বসে অমনোযোগ দিয়ে টিভি দেখছেন আবুল বাশার। কাজের থেকে ফিরে খয়রাতুন নেছা স্বামীর এই কিছুটা বিধ্বস্থ অবস্থা দেখে বেশ খুশি হলেন। নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর স্বামীর অহমিকা ভাবটা তুঙ্গে উঠে গিয়েছিল- মাত্র ২/১ মাসের ব্যবধানে সেটা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে দেখে তার বেশ মজা লাগছে।

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সৈয়দ আবুল বাশারের। কর্মস্থল থেকে ছুটি পেলে খয়রাতুন নেছাও যাবেন- এমন আলোচনাও হয়েছিল। যাই, যাচ্ছি করে আর যাওয়া হয়নি। খয়রাতুন নেছা যখন তাড়া করতেন তখন আবুল বাশার এমন একটা ভাব দেখাতেন যে তিনি এখন বাংলাদেশে গেলে আমেরিকার নির্বাচনে একটা বিরাট টানাপোড়ন দেখা দিবে। আসল ঘটনা এটা নয়। আসল ঘটনা হলো তার শ্বশুর ভীষণ অসুস্থ। এখন দেশে যাওয়া মানে এই বৃদ্ধ বয়সেও শ্বশুর বাড়ি যাওয়া আসা আর খরচের ব্যাপারটা  তো আছেই। অন্যদিকে আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে শ্বশুরও আলোচনা করবেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন তার ভূমিকা শ্বশুর বাড়িতেও প্রশ্নবিদ্ধ।

কাপড় বদলে স্বামীর জন্য চিনি ছাড়া এক কাপ চা নিয়ে খয়রাতুন নেছা লিভিং রুমে এলেন। স্ত্রীকে দেখে একটু ধ্যতস্থ হলেন আবুল বাশার। আগের সে দিনগুলো এখন নেই। একটা নির্বাচন সংসারে এখন একটা অলিখিত বিভাজন তৈরী করে দিয়েছে। দেশে যাওয়া তার খুব দরকার এখন। গ্রামের জমি বিক্রি নিয়ে অনেকদিন থেকে কথা হচ্ছে। ভালো একজন ক্রেতাও পাওয়া গেছে। এই ক্রেতা হাতছাড়া হলে বিপদ। কিন্তু সব যে এলোমেলো হয়ে গেল।
- নির্বাচনের আগে না দেশে যাই যাই করছিলেন, নির্বাচন তো গেল, এখন তো যাওয়া যায়, নাকি? বললেন খয়রাতুন নেছা।
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আবুল বাশার বললেন- গেলে তো যাওয়া যায়, ফেরার সময় যদি ঢুকতে না দেয়?
-ঢুকতে দিবে না কেন? আপনি না ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন? কিছু বললেই ট্রাম্পের কথা বলবেন।
-কিন্তু আমি যে মুসলমান। মুসলমানদের নিয়ে যা শুরু করেছে, কখন যে কি করে বোঝা মুসকিল। আমি যে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছি তার কোনো প্রমাণ আছে আমার কাছে?

সন্দেহের দৃষ্টিতে খয়রাতুন নেছা স্বামীর দিকে তাকালেন? তবে কি সে আসলেই কাউকে ভোট দেয়নি?
-ঢুকতে না দিলে সমস্যা কী? বাংলাদেশে থেকে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বলবেন- ট্রাম্পকে ভোটে জিতিয়ে আওয়ামী লীগের সাম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন- আপনাকে উপদেষ্টার একটা পদ দিয়ে দিবে। প্লেটো এখন বেঁচে থাকলে আপনার কাছে ক্লাস নিতে আসতো।

প্লেটো কে এটা হঠাৎ করে মনে করতে পারছেন না সৈয়দ আবুল বাশার। প্লেটোকে পল্টু মনে করে বলছেন- কোন পল্টু?
-পল্টু না, পল্টু না। গ্রীসের মহা দার্শনিক প্লেটো।
ছোট করে জবাব দিবেন আবুল বাশার- ও। আমাকে আটকে দিলে তোমার তো মজাই হবে। বয়ফ্রেন্ড নিয়ে দিন কাটাতে পারবে। মহিলাদেরকে তো কিছু বলছে না।
-নাউজুবিল্লা। আপনার মুখে কিছুই আটকায় না। এই বয়সে থাকবো বয়ফ্রেন্ড নিয়ে?
-তাহলে কি তুমি বলো এখন দেশে যাওয়া যায়? সুর একটু নরম করলেন আবুল বাশার।
-যাওয়া যাবে না কেন? কত লোক যাচ্ছে না? মুসলমানদের জাত তুলে যে-ভাবে ভর্ৎসনা করছে তাতে তো আমার মনে হয় কোনো মুসলমানেরই এদেশে থাকা উচিত নয়। পারলে তো আমি এখনই চলে যাই। দেখছেন না কত লোক তাদের আমেরিকার নাগরিকত্ব ত্যাগ করছে?

খায়রুনের কথায় যুক্তি আছে, কিন্তু তার কথায় সমর্থন করা যাবে না। তাহলে সে পেয়ে বসবে, মনে মনে বললেন আবুল বাশার।

সন্ধ্যা হয়ে আসছে। নামাজ পড়তে মসজিদে যাবেন আবুল বাশার।
সামনের দরজায় কে যেন টোকা দিল।
বিচলিত বোধ করলেন আবুল বাশার। এফবিআই নয় তো! ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে এমনি সময় গ্রেফতার করেছে এফবিআই। সে খবর মাসুম রেজাই তাকে দিয়েছে।
-আমি বাথরুমে যাই। খারাপ কিছু দেখলে বলবে আমি বাসায় নেই।
তড়িগড়ি করে আবুল বাশার বাথরুমে ঢুকে গেলেন। স্বামীর এহেন অবস্থা দেখে উম্মে খয়রাতুন নেছার বেশ ভালো লাগছে। লোকটার দম্ভ খুব বেড়ে গেছে।। কুট কৌশলে সে বেশ পারদর্শী। কখনো আটকানো যায় না। এবার যদি একটু ধরাশায়ী হয়। মনে মনে বললেন খয়রাতুন নেছা।

দরজা খুলে দেখেন বাড়ির ম্যানেজার মিস মারথা চলতি মাসের বাড়ি ভাড়ার রশিদ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে রশিদ নিয়ে খয়রাতুন নেছা ম্যানেজারকে থ্যাঙ্ক ইউ বলতেই সে চলে গেল।

স্বামী যে ভয় পেয়েছে এটা খয়রাতুন নেছা বেশ ভালো করেই বুঝেছে। ইচ্ছে করলে সে আজ সারাটা রাত তাকে নির্ঘুম রাখতে পারবে সেটাও সে জানে। কারণ কে দরজায় টোকা দিয়েছে এবং সে বাথরুম থেকে বের না হতেই চলেও গেছে- আবুল বাশার জানে না। স্বামীকে শুধু বললেই হল এফবিআই এসেছিল। স্বামীর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার এটাই তার একটা মোক্ষম সময়। খেলাটা খেলবে নাকি আজ? সারাটা জীবন তো সে তাকে নিয়ে খেলেছে।

ভয়ে ভয়ে আবুল বাশার বাথরুম থেকে বের হলেন। হতচকিত হয়ে এদিক-সেদিক তাকালেন। স্ত্রীর হাতে একখানা কাগজ দেখে চমকে উঠলেন তিনি। কাগজ চমকে উঠলেন কেন আবুল বাশার?
মোবাইলে মাগরিবের নামাজ বাজছে। আল্লাহ্ আকবার, আল্লাহ্ আকবার। জায়নামাজ নিয়ে লিভিং রুমেই আবুল বাশার নামাজের জন্য দাঁড়ালেন।
স্বামীর কাছাকাছি এসে উম্মে খয়রাতুন নেছা বললেন- মসজিদে যাবেন না? এফবিআই এর ভয় ঢুকেছে মনে? মৃদু হাসল সে।
আবুল বাশার স্ত্রীর দিকে তাকালেনও না, কোনো কথাও বললেন না।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: