৩১ শ্রাবণ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার জামায়াত-বিএনপির ঘরে


১২ জুন ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:২৯  পিএম

নতুনসময়.কম


প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার জামায়াত-বিএনপির ঘরে

রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঈদ উপহার পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠছে টেকনাফে অধিকাংশ ঈদ উপহার জামায়াত বিএনপির ঘরে ঘরে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলার আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা-কর্মী জানায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চার ভাগের ৩ ভাগ জামায়াত বিএনপির ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর এসব উপহার পৌঁছেছে। এ ঘটনায় টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাছাড়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সৃষ্ট সহিংসতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে অবস্থান নিয়েছে কক্সবাজার জেলার উখিয়া টেকনাফের ১২টির বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে। এদের কারণে স্থানীয় অধিবাসীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব চিন্তা করে কক্সবাজার জেলার লোকজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অধিকাংশ উপহার বিএনপি জামায়াতের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি ও দলীয় করণের আশ্রয় নিয়েছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, কথিত আওয়ামী লীগ নামধারী ইউপি মেম্বার ও গুটিকয়েক নেতা।

জানা যায়, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিএনপি ও যুবদল নেতা যথাক্রমে আলী হোছন, ফরিদুল আলম, রুহুল আমিন, এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মো. এহসান উল্লাহ এবং জামায়াত বিএনপির কর্মী মৃত কাদের বসুর ছেলে খুইল্ল্যা মিয়া, মৃত মিয়া হোছনের ছেলে মো. আব্দু শুক্কুর, মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে আবুল হাশেম, জহির আহমদের ছেলে লালু, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকার হাফেজ কলিম উল্লাহসহ একাধিক বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে এসব উপহার তুলে দেয়া হয়।

উপহারের মধ্যে ছিল নগদ টাকা, চাল, দুধ, তেল, চিনি, লাচ্ছা সেমাই, রুহ আফজা, শাড়ী ও লুঙ্গি। এসব উপহার বিতরণে টেকনাফে এসেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সকালে এসব উপহার লোকজনের হাতে তুলে দেন। সেসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। অবশ্যই তাদেরকে মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে। তবে রোহিঙ্গাদের ঢলে স্থানীয়দের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেটিও পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। তারই সূত্রে স্থানীয়দের জন্য ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, মো. কামাল হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম, জেলা পুলিশ সুপার ড. ইকবাল হোসেন, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান, টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রণজিত কুমার বড়ুয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এইচকে আনোয়ার প্রমুখ।

এ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আলী আজগর আরটিভি অনলাইনকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী উপহার দেবে বলে তালিকাভুক্ত করা হয়। কিন্তু দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার তাকে দেয়া হয়নি।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় শেখ রাসেল স্মৃতি ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দু শুক্কুর কোম্পানি জানান, ‘ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী ও স্থানীয় মেম্বার আব্দুল গাফ্ফার মিলে দেখে দেখে জামায়াত বিএনপিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেন।’

৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেম্বার সৈয়দ হোসেন জানান, ‘প্রায় ২০ হাজার লোকজনের মধ্যে বেশির ভাগ উপহার জামায়াত বিএনপির লোকজনকে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া মেম্বারদের মধ্যে স্থানীয় মেম্বার আব্দুল গাফ্ফার প্রায় ৫শ’ লোকজনকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেন। তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের মেম্বার দাবি করলেও এসব উপহার তুলে দেন জামায়াত বিএনপির লোকজনের হাতেই।’

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী সবার হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেয়া সত্যি দুঃখজনক।’
সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামায়াতের নেতা। তিনি ও তার অনুসারীরা মিলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী উপহার থেকে বঞ্চিত করে, জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীকে দেয়া হয়েছে’।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: