২ পৌষ ১৪২৪, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

‘পেটের লগে তো হরতাল করা যাইবো না’


১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১২:৪৩  পিএম

সালেহউদ্দিন সোহেল

নতুনসময়.কম


‘পেটের লগে তো হরতাল করা যাইবো না’

জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকলেও রাজধানীতে এর কোনো প্রভাবই পড়েনি। যানবাহন চলছে অন্যান্য দিনগুলোর মতোই। তবে খেটে খাওয়া মানুষের কাছে হরতাল আজীবন এক অভিশাপের নাম।

বৃহস্পতিবার হরতালে নতুন সময়ের সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর বেশ কিছু রিকশা ও ভ্যানচালকের।

গত বিশ বছর ধরে শনির আখড়ায় ভ্যান চালাচ্ছেন  মোক্তার হোসেন। ভারী পন্য আনা নেওয়ার কাজ করেন তিনি। শনির আখড়ার বিভিন্ন কল-কারখানার লোহা জাতীয় ভারী পণ্য কাপ্তান বাজার, সদরঘাট ও ধোলাই খালে আনা নেওয়া করে সংসার চলে মোক্তারের। কাজের ব্যস্ততায়  খালি গায়ে ভ্যান টানা দেখে মনে হবে তিনি যেন এক লড়াকু সৈনিক।

হরতাল আপনার কাছে কেমন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মোক্তার বলেন, ‘হরতাল হলে আমাগো সংসার চলে না, যখন শুনি হরতাল হবে তখন চিন্তায় পড়ি। বৌ, বাচ্চারে কি খাওয়ামু? হরতাল আমরা মানতে পারি না। কারণ পেটের লগে তো হরতাল করা যাইবো না।’ 

যাত্রাবাড়ী মোড়ে কথা হয় বয়স্ক রিকশাচালক মানিক মিয়ার (৭৬) সঙ্গে। তিনি নতুন সময়কে বলেন, ‘আমার চার ছেলে-মেয়েসহ সংসারে ছয়টা পেট। একদিন রাস্তায় না নামলে আমাগো পাতিল চুলায় চড়ে না। কি করমু গরিব মানুষ তাই হরতাল আমার জন্য দুঃখের বার্তা।’ 

সায়েদাবাদ জনপথের মোড়ে কথা হয় রিকশাচালক আবুল কাশেমের (৬০) সঙ্গে। 

হরতালের সময় কেন রাস্তায় আসেন? প্রশ্নের জবাবে এই বৃদ্ধ চালক বলেন, ‘হরতালে বের হতে অবশ্য ভয় হয়। তবুও বের হলাম। আজকে ভোর ৬টায় রিকশা নিয়ে বের হই। আমাগো গরিবের আর কি ভাই? বাঁচতে হলে রাস্তায় নামতে হবে। তাছাড়া আমাদের দেশে হরতাল না হওয়াই ভালো। এতে দেশের যেমন মঙ্গল দশেরও মঙ্গল। 

শুধু মোক্তার হোসেন, আবুল কাশেম ও মানিক মিয়া নয় প্রত্যেক শ্রমজীবী মানুষের কাছে হরতাল যেন আতঙ্কের নাম। কারণ প্রত্যহ যাদের হিসাবের বাজার তাদের ঘরে বসে অলস সময় পার করা মানে ক্ষুধার সঙ্গে যুদ্ধ করা। তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এদেশ হবে হরতালমুক্ত এক বাংলাদেশ।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: