৮ কার্তিক ১৪২৪, সোমবার ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

পুরান ঢাকার নতুন রূপ: চূড়ান্ত নকশা আগামী মাসে


১২ আগস্ট ২০১৭ শনিবার, ০৫:০৭  পিএম

ইমদাদুল হাসান রাতুল

নতুনসময়.কম


পুরান ঢাকার নতুন রূপ: চূড়ান্ত নকশা আগামী মাসে

 

একটির বদলে দুটি ফ্ল্যাট, ছোটর পরিবর্তে বড় পরিসরের দোকান। খেলার মাঠ ও সুইমিংপুলসহ রয়েছে আনুষাঙ্গিক সুবিধা। আরবান রি-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় পুরান ঢাকার কয়েকটি ঘিঞ্জি এলাকা নিয়ে এমনই এক আধুনিক নগরের নকশা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) মেয়র ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক বৈঠকে এই খসড়া নকশা চূড়ান্ত হবে বলে নতুন সময়কে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

রাজধানীর বংশাল, ইংলিশ রোড ও আলাউদ্দিন রোড খুবই ঘিঞ্জি এলাকা। এখানে জরাজীর্ণ ভবন, অপর্যাপ্ত আলো বাতাস, ফুটপাতবিহীন সড়ক, সংকীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎব্যবস্থা, অস্বাস্থ্যকর পানি সরবরাহ, খোলা জায়গার স্বল্পতা, গাছপালাবিহীন পরিবেশ, ভূমিকম্প ও অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি অতিমাত্রায় রয়েছে।

তাই এই এলাকাগুলোকে নিয়ে রি-ডেভেলপমেন্ট নামের একটি প্রকল্প নিয়েছে রাজউক। জাপান, থ্যাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার ঘিঞ্জি এলাকাগুলো এমন প্রকল্পের মাধ্যমেই আধুনিক শহরের রূপ দেয়া হয়েছিল। অবশ্য রাজউকের এ ধারণার সঙ্গে স্থানীয় অনেকেই একমত নন।

রাজউক সূত্রমতে, সর্বনিম্ন ৫ বিঘা জমি নিয়ে বণ্টনভিত্তিক এলাকা গড়ার জন্য বংশালের জমি মালিকদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে। এ প্রকল্পের অধীনে ছোট ছোট বাড়ি ভেঙে একাধিক বহুতল ভবন করা হবে। সেই সঙ্গে ২০০ ফুট করে বাণিজ্যিক স্থাপনা দেয়া হবে। একই এলাকায় জমির মালিকরা বসবাস ও ব্যবসা করতে পারবে এ প্রকল্পের আওতায়। সম্প্রতি এখানে জরিপ করেছে রাজউক।

প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম নতুন সময়কে বলেন, এ প্রকল্পে স্কুল, হাসপাতাল, ৫০ ফুট প্রসস্ত রাস্তা এবং এলাকার ভেতরে ৩০ ফুট রাস্তা ও বাচ্চাদের খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। এসব এলাকায় মটর পার্টস ও লৌহজাত দ্রব্যের দোকান বেশি। এছাড়াও রয়েছে একাধিক ট্রাকস্ট্যান্ড।

ব্যবসায়ীরা কী দোকান ছাড়তে রাজি হয়েছেন কিংবা এলাকাবাসী কী জমি দিতে রাজি? এমন এক প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কনসেপ্টের সঙ্গে অনেকেই একমত। আবার অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছেন। আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছি, তাদের উচ্ছেদ নয় অবশ্যই পুনর্বাসন করা হবে। সেক্ষেত্রে ৩-৬ মাস তাদের একটু কষ্ট করতে হবে। কাজ শুরু হলে সবার আগে আমরা তাদের দোকান বুঝিয়ে দেব।

ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (২০১৬-২০৩৫) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পিআরএ সেশন ও মতবিনিময় সভা করেছে রাজউক। যেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এ প্রকল্পে জমিদাতা কিংবা স্থানীয়রা কীভাবে লাভবান হবেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাজউক প্রকৌশলী বলেন, মনে করেন যাদের একটি ফ্ল্যাট আছে, সে দুটি ফ্ল্যাট পাবে। কিংবা যার দোকান আছে সে একটির পরিবর্তে দুটি না পেলেও বড় পরিসরে দোকান পাবেন।

তিনি বলেন, শুধু এই এলাকা নয় ঢাকার যেকোনো কমিউনিটি যদি আমাদের ৫০ বিঘা জমি দিতে পারে তাহলে আমরা নিজেরা কিংবা ডেভেলপারের মাধ্যমে সেখানে খেলার মাঠসহ সুইমিংপুলের ব্যবস্থা করে দেব। এ এলাকার কাজ শেষে আমরা অন্য এলাকার দিকে এগুবো।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই নকশার কাজ শেষ করেছি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি সভা হবে আগামী মাসে। সেখানে আলোচনার প্রেক্ষিতেই নকশা চূড়ান্ত হবে।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: