২ ভাদ্র ১৪২৫, শুক্রবার ১৭ আগস্ট ২০১৮, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

পিইসি পরিক্ষা বাতিলের দাবি


০৯ জুন ২০১৮ শনিবার, ০৩:২৪  পিএম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


পিইসি পরিক্ষা বাতিলের দাবি

গোড়া থেকে প্রশ্নফাঁস রোধকল্পে ও শৈশব ধ্বংসকারী হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাকে (পিইসি) দায়ী করে এটিকে বাতিলের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

শনিবার (৯ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে সংগঠনটির আয়োজিত `শৈশব ধ্বংসকারী পিইসি পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে করণীয়` শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, এবার আমাদের এ দাবির পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। পিইসি পরীক্ষা চালুর ফলে প্রত্যেকটি পরিবারে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কেনো না পঞ্চম শ্রেণীতে উঠতে না উঠতে একটি শিশুর লক্ষ্য হয়ে যায় জিপিএ পেতে হবে। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে কোচিং ব্যবসা চালু হয়েছে। যা এক ধরনের বাধ্যতামূলক পর্যায়ে চলে এসেছে। কোচিং সেন্টারগুলোর জনপ্রিয়তা অর্জনে তারা প্রশ্নফাঁসের মতো ঘৃণ্যতম কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে জিপিএ’র সংখ্যা বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাছাড়া স্কুলের পর আবার কোচিংয়ের কারণে শিশুদের খেলাধুলা, মা-বাবার সঙ্গ উপভোগ, গল্পের বই পড়ার মতো সুকুমার বৃত্তিচর্চার কোনো পথই খোলা থাকে না পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া একজন ছাত্রে। যেটা মানসিক বিকাশের জন্য একটি শিশুর ওই বয়সে অনেক বেশি প্রয়োজন।

প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ পাওয়ার পরও প্রাথমিক শিক্ষারই মান কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর জিপিএ পেলেও শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। এর কারণে শুরু চাকরির বাজারে যোগ্যতাহীন গ্রাজুয়েট, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় হাহাকারসহ গা বাঁচাতে প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটছে। কেননা শিক্ষার্থীরা শুধু কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এ কারণে তাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। তাই আমরা গোড়া থেকেই অর্থাৎ শিশুকাল থেকেই মানসিক বিকাশের জন্য যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন সব দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া দেশের নিন্মবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য মারাত্মক খারাপ একটি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাইমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার জোতির্ময় বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশাহিদা সুলতানা, জিগাতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসহাক সরকার, শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক রাখাল রুহা, মঞ্জুরুল হক, দিলারা জামানসহ প্রমুখ।

আইএ

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: