২ ভাদ্র ১৪২৪, শুক্রবার ১৮ আগস্ট ২০১৭, ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

পাহাড়ের গরিব মানুষদের নিয়ে প্রশাসনের খেলা বন্ধ করো


১৪ জুন ২০১৭ বুধবার, ১০:১১  এএম

উম্মুল ওয়ারা সুইটি

নতুনসময়.কম


পাহাড়ের গরিব মানুষদের নিয়ে প্রশাসনের খেলা বন্ধ করো

পাহাড় ধসের ঘটনা একেবারেই গতানুগতিক। প্রতিবছর পাহাড়ে ধস নামবে এবং  কিছু গরীব ভূখা নাঙ্গা মানুষ এর নীচে চাপা পড়বে। সেই খবর আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে লিখি। কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড় মোরার মোড়ামুড়ি নিয়ে লিখেছি। অবচেতন মন অপেক্ষা করছে, এবার যেভাবে আগাম বর্ষা শুরু হলো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটবে। দুই চার ১০ জন বা তিন চারটি পরিবারের এই ধসে দারিদ্র থেকে মুক্তি পাবে। শিশুর থেতলে যাওয়া মুখের অবয়ব নিয়ে আমি গাঁথবো মানবিক খবরের মালা। কিশোরীর কানের দুলটি জ্বল জ্বল করছে দেহটি নিথর, আহা কি স্বপ্ন নিয়ে বড় হচ্ছিল? এইসব খবর পড়ে কারো কারো চোখের কোনে জল জমে গড়িয়ে পড়বে। আমারও খারাপ লাগে।

এবারও আমি তাই করবো। আমাকে তাই করতে হবে। এবার লাশের সংখ্যা বেড়েছে। দুই শতাধিক হয়ে যেতে পারে। জেনেছি গত ১০ বছরে পাহাড় ধসে দুই শতাধিক মানুষ মারা গেছে। আসলে তারা প্রত্যেকে গরিব। এরা এতোটাই দরিদ্র, জানেই না কতটা ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস  করছে। 

এদের প্রাণের কোনো মূল্য নেই। মানুষের অবয়ব পেয়েছে তাই আমরা যারা তথাকথিত প্রভাবশালী, তারা এখানে অল্প টাকায় থাকার সুযোগ দিয়েছি। অন্ততপক্ষে লোকালয়ে তো থাকতে পারছে? বাকিটা তারা বুঝে নেবে। আল্লার মাল আল্লাহ যে কদিন চায় পৃথিবীতে রাখবে। দিনমজুর আধপেটা খাওয়া এসব মানুষ কোনো রকম জীবন পার করে। বর্ষা আসার সাথে সাথে মনটা ধুক ধুক করে, কবে কোন দুর্ঘটনার শিকার হয়।

এরমধ্যে তাদের জন্য আমার আলো হয়ে দেখা দেয়, সরকারি অফিসের দৌড়াদৌড়ি। কারণ পাহাড় ধসের পর প্রতি বছরই কারা যেনো আসে। পরিবারের সদস্যদের তালিকা নেয়, খোঁজ খবর নেয়। বাড়ির কর্তার নাম লেখে।

আর মহাজন মানে পাহাড়ের মালিক বলে, কোনো অসুবিধা নেই। থাকো। এভাবে বছরের ৭/৮ মাস চিন্তামুক্ত থাকে পাদদেশে বাস করা পরিবারগুলো। বর্ষার দিনগুলো কোনো রকম পার করলেই একবছরের জন্য বিপদ কেটে যায়। এই মৃত্যুকে রোধ করা যায়। এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না।

২০০৭ সালে পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিভাগীয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পাহাড় চিহ্ণিত করা হয়। সেই সময় ৬৬৬টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু  গত ১০ বছরে এই কমিটিকে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুম এলে যখন ধস নামে তখনই তৎপর হয় কমিটি। প্রতি বছর বৃষ্টির আগে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেই, লোক দেখানো অভিযান আর নিয়ম রক্ষার অভিযানের পর দায় থেকে বাঁচে তারা। আর বসবাসকারীরাও আবার শুরু করে বসতি। যাবার তো কোনো জায়গা নেই।  আর পাহাড় কেটে আর পাহাড় দখল করে যেভাবে পাহাড়গুলো ধ্বংস করছে সেদিকেও কোনো খেয়াল নেই। এ দায় পুরোটাই প্রশাসনের।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

usweety75@yahoo.com

 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: