৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

পার্বত্য এলাকায় কমেছে বাল্যবিবাহ


১৩ নভেম্বর ২০১৭ সোমবার, ০৩:২৭  পিএম

এম আর পাটোয়ারী

নতুনসময়.কম


পার্বত্য এলাকায় কমেছে বাল্যবিবাহ

আধুনিক সমাজে বাল্যবিবাহ এখনো অভিশাপ হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত হওয়ার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানে বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করার। এসব খবরে আশাম্বিত হওয়া যায়। কিন্তু বাল্যবিবাহ নিয়ে হতাশাজনক চিত্র নির্মূল হচ্ছে না। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহ এখনো অহরহ ঘটেই চলেছে।

মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, সচেতনও হচ্ছে। সেই সঙ্গে দারিদ্র্যও হ্রাস পাচ্ছে। বাড়ছে নারীর ক্ষমতায়ন। 

বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশে ১৮ বছর বয়সের আগেই ৬৬ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়ে যায়। এই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোরীর বিয়ে এবং বিয়ে পরিস্থিতি থেকে সরিয়ে আনা বা বিয়ে পরিস্থিতিকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়।

তবে স্বস্তির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। খাগড়াছড়ি জেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাধবী বড়ুয়া জানিয়েছেন, পার্বত্য এলাকায় শিক্ষিত পরিবারে বাল্যবিবাহ হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু যারা শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে রয়েছেন, সেখানে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মধ্যে কম বয়সে বেশি বিয়ে হয়। তারা মনে করেন, মেয়ে সাবালিকা হলেই বিয়ের যোগ্য। তাকে বিয়ে দেওয়া দরকার। ১২-১৪ বছর বয়স হলে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মেয়েদের বিয়ে হয়। তবে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক শিক্ষিত পরিবার রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে অনেক ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেছে। অর্থাৎ তাদের পরিবারে বাল্যবিবাহ কম হয়। এ ব্যতিক্রম শুধু শহরে চোখে পড়বে, গ্রামে নয়।

এবিষয়ে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মোহাম্মদ জানান, জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় বাল্যবিবাহ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তবে মুসলিম পরিবারে বাল্যবিবাহ প্রথা রয়েই গেছে। বিশেষ করে মুসলিম গুচ্ছগ্রামগুলোতে।

তিনি বলেন, ৮০’র দশকে ২৬ হাজার পরিবারকে নিরাপত্তার জন্য ৮৪টি গুচ্ছগ্রামে রাখা হয়।

বান্দরবান সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি রাণী ত্রিপুরা বলেন, আগে পার্বত্য জেলাগুলোতে খুব বাল্যবিবাহ হতো। এখন আর আগের মতো হয় না। জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় বাল্যবিবাহ থেমে গেছে। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন অনলাইন সিস্টেমে চালু হওয়ায় বয়স বাড়িয়ে কেউ আর সহজে বাল্যবিবাহ দিতে পারে না। তবে বাঙালিদের মতো পাহাড়ি জনগোষ্ঠী জন্মনিবন্ধন মানে না। তাদের প্রথা অনুসারে বিয়ে হয়।

বিভিন্ন গবেষণাপত্রে গেছে, দুটি কারণে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। একটি হলো- যৌতুক। অপরটি হলো যৌন হয়রানির ভয়। তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে গেলে তাদের মেয়েটি যৌন হয়রানির শিকার হবে না। আর অল্প বয়সে বিয়ে দিলে যৌতুকের ধকল কমবে। এসব ভেবে অভিভাবকরা অল্প বয়সে তাদের মেয়ের বিয়ে দেন। অথচ দেশের প্রচলিত আইনে অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়ের বিয়ে দেওয়া অপরাধ।

উল্লেখ্য, বাল্যবিবাহ দেশের জাতীয় শিশুনীতি ও বিশ্ব শিশু সনদের চরম লঙ্ঘন। আইন থাকার পরও কিশোরী মেয়েদের ১৮ বছর দেখিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকার বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬ নামে একটি আইন পাস করেছে।

আইনে বাল্যবিবাহের শাস্তি তিন মাসের পরিবর্তে দুই বছর করা হয়েছে। জারিমানাও বাড়ানো হয়েছে। তবে এ আইন নিয়ে নানা রকম ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ বছরই থাকছে। তবে বিশেষ ধারায় এবং বিশেষ ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়সী বা ১৮ বছরের কম (১৬ বছর) বয়সী কোনো মেয়ের বিয়ে হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এসব বিয়েতে অভিভাবকদের মতামতের ভিত্তিতে আদালত কর্তৃক অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে।

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, কেউ যদি এ ধারা অপব্যবহার করে, তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু এতে বাল্যবিবাহের বিষয়টি সামনে এসে যায়।

সামাজিক সংগঠনের অনেক নেত্রীরা মনে করেন, দেশের আইনে অপব্যবহার হরহামেশাই হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে যে ঘটবে না, তা বলা যাবে না।

বাল্যবিবাহ যখন সমাজের অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত এবং এটা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত, সে কারণে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা দরকার। পার্বত্য এলাকায় একই কথা প্রযোজ্য। উপরোন্তু, বাল্যবিবাহ আইনের প্রভাব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীতে খুব কম পড়বে। কেননা, আচার প্রথা অনুসারে বেশির ভাগ বিয়ে হয়ে থাকে। - বাসস ইউনিসেফ ফিচার

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: