১০ আষাঢ় ১৪২৪, শনিবার ২৪ জুন ২০১৭, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত রাজধানীবাসী


২৪ জুন ২০১৭ শনিবার, ০৭:২৩  পিএম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

নতুনসময়.কম


শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত রাজধানীবাসী

হাতে আর সময় নেই। দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। তাইতো পরিবারের সদস্যের জন্য পছন্দসই ঈদ পোশাকটি কিনতে এ দোকান থেকে ওই দোকান, এ মার্কেট থেকে ওই মার্কেটে ঘুরছেন রাজধানীবাসী।

রঙিন আলোয় সজ্জিত বড় বড় বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের মার্কেটেও রাত অবধি হরদম বেচাবিক্রি চলছে। শার্ট-প্যান্ট, সালোয়ার-কামিজ কিংবা কসমেটিকস প্রয়োজন অনুযায়ী শেষ মুহূর্তেও কেনাকাটায় ব্যস্ত রাজধানীবাসী।

ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে ঈদের বেচাবিক্রিতে ধুম লেগেছিল। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। শনিবার (সন্ধ্যা পর্যন্ত) মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা বেশ মন্দ বলে জানান তারা।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকান খোলাই হয়নি। এর কারণ হিসেবে দোকান খুলেছেন এমন ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত বেচাবিক্রি জমজমাট ছিল। ফলে বাসায় যেতে দেরি হয়েছে। তাই সকালে দোকানও দেরিতে খোলা হয়েছে।

পীর ইয়ামেনী মার্কেটের তৃতীয় তলার স্বদেশী আড়ংয়ের দোকানের বিক্রেতা ইউসুফ হারুন নতুন সময়কে বলেন, গেল সপ্তাহে বিক্রি ভালো হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার উপচেপড়া ভিড় ছিল। যারা ঢাকায় ঈদ করবেন তারাই এখন মার্কেট করবেন। আজও (শনিবার) ভিড় হবে। সাড়ে ১২টা বাজে, এরমধ্যেই কয়েকটি পাঞ্জাবি বিক্রি হয়ে গেছে।



শনিবার মেয়ের জন্য ঈদ পোশাক কিনতে মার্কেটে এসেছেন উম্মে সালমা লাভলী। তিনি নতুন সময়কে বলেন, এ কয়েকদিন কাজের জন্য সময় পাইনি। এছাড়া ভিড় বেশি থাকবে জেনেও আসিনি। সিনথিয়ার (মেয়ে) পোশাক কিনতেই আজ দুপুরের পর মার্কটে এলাম। একটু দেখি, তারপর কিনবো।

তিনি আরও বলেন, পোশাকের দাম তো মনে হচ্ছে একটু বেশি। তবে দাম যতই হোক মেয়ে যেটা পছন্দ করবে সেটাই কিনে দেব।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, রাজধানী সুপার মাকেট, মৌচাক, আনারকলি, রাইফেল স্কয়ার, পীর ইয়ামেনী, বঙ্গবাজার, পলওয়েল, গুলিস্তান, নিউ মার্কেট ও সদরঘাটের বিপণিবিতানগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় সব ধরনের দোকানেই উপচেপড়া ভিড়। শাড়ি-সালোয়ার, শাট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি-কুরতা, আতর-টুপি, জুতা ও কসমেটিকসহ সব দোকানেই জমজমাট বেচাবিক্রি। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্তও এমন ছিল বলেই জানান দোকানিরা।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলার ফ্যাশান হাউজ রিচ ম্যান’র বদরুজ্জামান বলেন, আজ বিক্রি ভালো হয়েছে। এখনো অনেক ক্রেতা আছেন। ভিড় এত বেশি যে অনেক সময় ক্রেতার সাথে ভালোভালো কথা বলার সময়ও পাচ্ছি না।

শনিবার রাজধানী মার্কেটে কথা হয় আক্তারি আহসান এলিসের সঙ্গে। তিনি বলেন, মায়ের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। বাবার জন্য একটি পাঞ্জাবিও কিনবো। গতকাল আমার ও ভাইয়ার কেনাকাটা সেরেছি। আমরা সব সময় শেষ দিকেই কেনাকাটা করি। কারণ ঢাকাতেই আমরা ঈদ উদযাপন করি।

রোজার শুরু থেকেই বৃষ্টির কারণে ফুটপাতে বেচাবিক্রি মন্দা ছিল। তবে গত দু’তিন দিনের বিক্রিতে তারা মোটামুটি সন্তুষ্ট। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকেও সদরঘাট ফুটপাতে বেশ ভালোই বেচাবিক্রি হওয়ার বিষয়টি লক্ষ করা গেছে। নিম্নবিত্তদের বেশ ভিড় দেখা গেছে।

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে পোশাক কিনছিলেন আজগর হাসান। তিনি বলেন, মেয়ের ফ্রক কিনলাম। ছেলের জন্য শাট কিনেছি। এখন প্যান্ট কিনবো। এরপর টাকার হিসাব করে আমার ও স্ত্রীর জন্য কিনবো।

শনিবার বিকেলের দিকে গুলিস্তান ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও উপচেপড়া ভিড়। কিন্তু দোকানী সুমন বলছেন, গতকাল (শুক্রবার) বিক্রি ভালো ছিল। আজ ভিড় থাকলেও বিক্রি নেই। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেশ খারাপ। তবে গেল দু’দিনের মতো আগামী দু’দিন বিক্রি হলে মোটামুটি সন্তুষ্ট হওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।



শনিবার নিউ মার্কেটে কথা হয় দ্বিতীয় তলার প্যান্ট ব্যবসায়ী ফারহান আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আজ কিন্তু বিক্রি কম। গত সপ্তাহে বিক্রি ভালো ছিল। বিশেষত বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার হরদম বিক্রি হয়েছে। তবে সন্ধ্যার পর মনে হয় বিক্রি বাড়বে। তার গলায়ও এ বছর বেচাবিক্রিতে মন্দার সুর।

শনিবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেটের আতর-টুপির দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের চাপ আছে। তবে প্যান্ট-শার্টেরও দোকানের মতো নয়।

বেসরকারি একটি ব্যাংকে কাজ করেন সোমা মজুমদার। শনিবার তিনি বলেন, আজও অফিস করেছি। একটু আগে বের হলাম। আজ যতটুকু পারি কেনাকাটা সারবো। কাল সকালে আবার বের হবো। অনেক কেনাকাটা বাকি।

রোজার শুরু থেকেই মৌচাক ও আনারকলি মার্কেটের কয়েকজন দোকানীর সঙ্গে নতুন সময়ের এই প্রতিবেদকের প্রায়ই কথা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাদের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলে জানা যায়, প্রথম রোজা থেকে ২২/২৩ রোজা পর্যন্ত যা বিক্রি হয়েছে, গত তিন দিনে তার সমপরিমাণ বিক্রি হয়েছে।

আজ (শনিবার) ও রোববার বেশি না হলেও ভালো বিক্রি হবে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, রাজধানীবাসী শেষ মুহূর্তেই কেনাকাটা করে থাকেন।

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: