৬ বৈশাখ ১৪২৫, বৃহস্পতিবার ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
bangla fonts
facebook twitter google plus rss
Natun Somoy logo

পাঁচ বছরে একটি কোম্পানি আনতেও ব্যর্থ ২৪ মার্চেন্ট ব্যাংক


০৬ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার, ০৫:৩৯  এএম

নতুনসময়.কম


পাঁচ বছরে একটি কোম্পানি আনতেও ব্যর্থ ২৪ মার্চেন্ট ব্যাংক

নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে কাজ করে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। এছাড়া নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রাহকদের পক্ষে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং আন্ডার রাইটিংয়ের কাজও করে এরা। কিন্তু নিজেদের এই ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। গত পাঁচ বছরে পুঁজিবাজারে নতুন ইস্যু আনতে ব্যর্থ হয়েছে ২৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক। ফলে ব্যর্থ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে বিএসইসি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরেও ৫৮টি মার্চেন্ট ব্যাংকের মধ্যে একটি কোম্পানিও পুঁজিবাজারে আনতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও) পারেনি ২৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক। কারণ পুঁজিবাজারে আসতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলো গুটিকয়েক মার্চেন্ট ব্যাংকে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে বেছে নিচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানকে। ফলে ছোট মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেন বলেন, ‘নতুন কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগী হয়ে কাজ করতে হয়। যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদের বিএসইসির পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হবে। এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না দিতে পারলে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

একই বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে দুই বছরে একটি আইপিওর দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে হয়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এটা না করে তাহলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ব্যাংকগুলো আইন পরিপালন না করলে যথাসময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে যে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ইস্যু ব্যবস্থাপনা বা আইপিও আনার কাজ করতে পারেনি সেগুলো হলো আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, এনবিএল ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট, এনডিবি ক্যাপিটাল, রেইস পোর্টফোলিও অ্যান্ড ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, রূপালী ইনভেস্টমেন্টস, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস, এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্ট, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, সন্ধানী লাইফ ফাইন্যান্স লিমিটেড, বিএলআই ক্যাপিটাল, বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস, ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস, কসমোপলিটন ফাইন্যান্স লিমিটেড, এক্সিম ইসলামী ইনভেস্টমেন্ট, গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস এবং বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।

এ প্রসঙ্গে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু বকর শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ইস্যু আনার জন্য কাজ করছি। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সাবমিট করা হয়েছে। আশা করছি, শিগগির আমরা নতুন ইস্যু নিয়ে আসতে পারব।’

একই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরে একটা ইস্যু বাজারে আনার কথা। কিন্তু এর জন্য অনেক লিয়াজোঁর দরকার হয়, যে কারণে অনেকে মার্চেন্ট ব্যাংক ইস্যু আনতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর যারা বাজারে আসতে যাচ্ছে তাদের পছন্দ থাকে বড় বড় মার্চেন্ট ব্যাংক। ফলে ছোট মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। সেক্ষেত্রে যদি নিয়ম করে দেওয়া হয় বছরে একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি-ছয়টির বেশি ইস্যু আনতে পারবে না। তাহলে সমস্যার সমাধান হবে।’

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে একটি আইপিও আনতে দেড় থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। আর ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিও আনতে অন্তত সাত-আট মাস সময় লাগে। মার্চেন্ট ব্যাংকাররা বলছেন, সময় বেশি লাগায় ভালো কোম্পানি আসে না। ফলে আইপিও সাইজ কম হয়। এতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর এ খাতে আয় কম হয়। তাই তারা আইপিও আনার কাজ করতে চায় না।

এ প্রসঙ্গে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কোম্পানিগুলো ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে তাদেরই চায়, যাদের সেবা ভালো। সেবার কোয়ালিটি ভালো না থাকলে কোম্পানিগুলো তাদের গুরুত্ব কম দেয়।’ তিনি বলেন, ‘সেবা প্রদান, কোয়ালিটি মেইনটেইন ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বিচার করে ইস্যু ম্যানেজার ঠিক করে কেম্পানি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে আইপিও সংখ্যা কম বলে অনেকে ইস্যু আনতে ব্যর্থ হচ্ছেন।’

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে আইপিও আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দক্ষতা দেখিয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। এ মার্চেন্ট ব্যাংকটি পাঁচ বছরে ১১টি কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছে।

মার্চেন্ট ব্যাংকার্স ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার বিধিমালা, ১৯৯৬-এর অধীনে নিবন্ধিত ও পরিচালিত মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান কাজ হলো বাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির কাজ করা, নিজস্ব পোর্টফোলিও বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রাহকদের পক্ষে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং আন্ডার রাইটিংয়ের কাজ করা। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির কাজ করতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ব্যাপক অনাগ্রহের কারণে বিএসইসি ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ৭-এর উপবিধি ৩-এর (খ) সংশোধন করে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতি ২ পঞ্জিকা বছরে অন্তত একটি পাবলিক ইস্যু বাজারে আনতে হবে। 

নতুনসময়.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: